• ঢাকা
  • শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০১৯, ০৯:৪৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২০, ২০১৯, ১০:০২ পিএম

একটাই আলোচনা— ওবায়দুল কাদের নাকি অন্য কেউ

আল হেলাল শুভ
একটাই আলোচনা— ওবায়দুল কাদের নাকি অন্য কেউ
ওবায়দুল কাদের

প্রসঙ্গ সাধারণ সম্পাদক

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) শেষ হলেও দলের সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন সে বিষয়ে এখনও অন্ধকারে দলীয় নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে বলে আভাস পাওয়া গেলেও নেতা-কর্মীদের মধ্যে ‘নির্ভরযোগ্য’ তথ্যহীনতার গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্মেলনে নেতৃত্বের চমক থাকবে— এটা অনেক আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। দলীয় সূত্রগুলো আগেও জানিয়েছিল, বড় রদবদল হতে পারে দলের প্রেসিডিয়াম ও সম্পাদকীয় পদগুলোয়। তবে দলীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের না অন্য কেউ আসছেন— এটাই এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়।  

দলীয় সূত্র আরও জানায়, সম্মেলনের আগের রাত অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে গণভবনে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ পাননি দলটির কোনও নেতাই। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দ্বিতীয় অধিবেশনের আগের রাত শুক্রবার রাতেও দলীয়প্রধান কারও সঙ্গে দেখা করেননি। বিষয়টিকে নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে দলের সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন তা দলীয়প্রধান ছাড়া কেউ জানেন না।  

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশনে কাউন্সিল অধিবেশনে আগামী ৩ বছরের জন্য নির্বাচন করা হবে দলের আগামী নেতৃত্ব।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদক পদের বিষয়ে দলীয় নেতাদের কেউই গ্রিন সিগন্যাল পাননি। সাধারণ সম্পাদক পদে এবার আলোচনায় আছেন- বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বি এম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আজমত উল্লাহ খান।

নতুন করে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় এসেছেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটনের নাম। 

‘‘শুক্রবার আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দলীয় তেমন কোনও কেন্দ্রীয় নেতা নেই। তবে দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কার্যালয়ে এসেছিলেন বলে জানান কয়েকজন নেতা-কর্মী’’  

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দলীয় তেমন কোনও কেন্দ্রীয় নেতা নেই। তবে দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসেছিলেন বলে জানান কয়েকজন নেতা-কর্মী।     

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা যার ওপর আস্থা রাখবেন, দলীয় কাউন্সিলর তাকেই সাধারণ সম্পাদক করবেন। এখন পর্যন্ত দলীয় প্রধান কাউকেই সাধারণ সম্পাদক বলে গ্রিন সিগনাল দেননি। তবে এবারও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরেরই আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলের একটি সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, ওবায়দুল কাদের মাত্র একবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকায় তাকে শেখ হাসিনা আরেকবার সুযোগ দিতে পারেন। তবে গত ২২ দিনে ২৮ জেলায় সম্মেলন পড়ায় গত তিন বছরে দলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন করছেন দলের কেউ কেউ।   

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি দেখতে এসে ‘এবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসছে কি না’ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়টা নেত্রী আর আল্লাহ জানেন।’ তবে নেতা-কর্মীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে দলীয় সভাপতি পদে নবমবারের মতো শেখ হাসিনাই সভাপতি থাকছেন— এটা প্রায় নিশ্চিত। দলীয় নেতারা বলছেন, এই মুহূর্তে দলে শেখ হাসিনা অপরিহার্য, তার বিকল্প নেই।   

২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে সভানেত্রী পদে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

‘‘এবারের জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনে ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার যে বাধ্যবাধকতা দেয়া আছে তা পূরণ করা হচ্ছে।  দলের বর্তমান কমিটিতে সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে ১৫ জন নারী আছেন’’  

দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, এবারের জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনে ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার যে বাধ্যবাধকতা দেয়া আছে তা পূরণ করা হচ্ছে। দলের বর্তমান কমিটিতে সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে ১৫ জন নারী আছেন।  

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে আওয়ামী লীগের। এসব সম্মেলনে এখন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ৩ বার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ৮ বার, আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১০ জন। সবচেয়ে বেশি ৪ বার করে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ ৩ বার, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দু্ইবার করে, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, আবদুল জলিল এবং ওবায়দুল কাদের একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এএইচএস/এফসি/এসএমএম

আরও পড়ুন