• ঢাকা
  • বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২০, ০৬:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৩, ২০২০, ০৬:২১ পিএম

চট্টগ্রামে উপ-নির্বাচনে সিইসি’র কেরামতি অক্ষুন্ন : রিজভী 

জাগরণ প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে উপ-নির্বাচনে সিইসি’র কেরামতি অক্ষুন্ন : রিজভী 
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ

চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা নিজের কেরামতি অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। 

তিনি বলেন, ভোট-সন্ত্রাসকে জাতীয় জীবনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই কেএম নুরুল হুদা। আজও চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট-লুটের রমরমা আয়োজন সম্পন্ন করেছেন তিনি। হুদা কমিশন ভোট ডাকাতির বৈধতা দানের সিলমোহরে পরিণত হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের শত্রুপক্ষ। তিনি গণতন্ত্রের শত্রু। তিনি বিএনপিসহ বিরোধীদল ও মতের সাথে শত্রুতামূলক আচরণ করেন। বিষাক্ত সাপকেও বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু নুরুল হুদার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন বিশ্বাস করা যায় না। তিনি একদলীয় রাজনীতির মূঢ় বিশ্বাসের দ্বারা অনুপ্রাণিত।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের আগের দিন বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধামকি, হামলা আর ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান করা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও ভোটারদের প্রতিনিয়ত নিগৃহীত করা হয়েছে। প্রতিমূহুর্তে ধানের শীষের সমর্থক ও ভোটাররা হিংসার সম্মুক্ষীন হয়েছেন। সারা আসন জুড়ে সর্বত্রই অত্যাচারের চিত্র ছিল একই রকম। ১৭০টির মধ্যে সকালবেলায় ১২০টি ভোটকেন্দ্র থেকে এবং পরে সকাল ১১টার মধ্যে সবকটি কেন্দ্র দখল করে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। বহিরাগতদের ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটের লাইন দেখানো হলেও ওই এলাকার কোন ভোটারই ভোট দিতে পারেনি। 

রিজভী বলেন, এই আওয়ামী আমলে মানুষ ফেনী মার্কা নির্বাচন দেখেছে, এখন হুদা মার্কা নির্বাচন দেখছে। এরপরেও মানুষ আরও কি মার্কা নির্বাচন দেখবে সেটির প্রতীক্ষা করছে। সকল আমলের আওয়ামী সরকার ও শেখ হাসিনার ওপর গবেষণা করলে দেখা যাবে সেখানে হিংসা আর ভোট-লুটের গল্প ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে না। শেষ বিচারে সবচেয়ে যা বিবেচ্য তা হলো-শেখ হাসিনা ও কেএম নুরুল হুদা সমমনোভাবাপন্ন। সুতরাং তাদের নেতৃত্বে ভোটের প্রসাধনী ছাড়া সুষ্ঠু ভোট কখনোই হবে না। 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সিইসি হিসেবে নুরুল হুদাকে বাছাই করা হয়েছে কেবলমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনকে গোরস্থানের স্থায়ী বাসিন্দা বানাতে। ক্ষমতার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নিবিড়-নিবিষ্ট ধ্যানকে আরও বেশি মগ্ন করে তুলেছেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা। শেখ হাসিনার উচ্চাভিলাষের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন নুরুল হুদা। ভোট-লুটের নির্বাচন শেষে আওয়ামী রাজন্যবর্গের মতোই সিইসি বলবেন-ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। সত্য ঘটনাকে মিথ্যা বলা আওয়ামী লীগের এই আদর্শিক ইশতেহার আস্বস্থ করেছেন সিইসি। কেএম নুরুল হুদার জন্যই আওয়ামী লীগ মিথ্যারাজ দীর্ঘায়িত করতে পারছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সিইসি কেএম নুরুল হুদার সাংস্কৃতিক অভিরুচি একই ধরণের। সেটি হলো-নিরস্ত্র ভোটারদেরকে অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শন। ভোট ডাকাতি, ভোট সন্ত্রাস, জালভোট, ভোট কেন্দ্র দখল ও অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালনে আওয়ামী লীগের যে বিজয় নিশান উড়ে সেই নিশানে হাওয়া দেন সিইসি। ক্ষমতা ধরে রাখার বিকৃতি, লোভ, লালসা ও ভোট ডাকাতি শেখ হাসিনা এবং নুরুল হুদাকে একাকার করে রেখেছে। এখন জনমনে ভোট মানেই যে প্রহসন সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

টিএস/বিএস