• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ০৪:৪৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ০৬:৩৬ পিএম

আ.লীগ সমর্থিত কর্মকর্তারা সিটি নির্বাচনের দায়িত্বে : ফখরুল 

জাগরণ প্রতিবেদক
আ.লীগ সমর্থিত কর্মকর্তারা সিটি নির্বাচনের দায়িত্বে : ফখরুল 
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর - ছবি : জাগরণ

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মকর্তাদের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কিন্তু আমরা জানি। কে গাড়ির অনুমোদন নেয়ার জন্য ফাইল বগলে নিয়ে মন্ত্রীর কাছে গেছেন, কারা নিজের স্কুল পারমিশন নেয়ার জন্য সরকারি জমি নিয়েছেন- এসব খবর আমাদের কাছে আছে। আরো দেখা যাচ্ছে, এসব মানুষগুলোকে যাদের কোনো মোরালিটি নেই, তাদেরকে নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে দিয়েই আবার নতুন যে যন্ত্র তৈরি করেছে ইভিএম মেশিন, যে মেশিন পৃথিবীর সমস্ত দেশে রিজেক্টটেড হয়ে যাচ্ছে, সেই মেশিন কখনোই ভোটারের যে ইচ্ছা, সে যেখানে ভোট দিতে যায় তার প্রতিফলন না ঘটানোর মতো যথেষ্ট কৌশল এর মধ্যে রয়েছে। 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ১৬ দিন আগে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হেল্প সেল’ এর এক আলোচনা সভায় তিনি এসব অভিযোগ করেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হাতে গুম, হত্যা, পঙ্গু হওয়া নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে গুম হওয়া ১০ পরিবারের সদস্যদের হাতে শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়।

ইভিএমের বিরোধিতা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইভিএম দিয়ে কখনোই মানুষের যে রায়, তার প্রতিফলন হবে না। আমরা এখনও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর বিরোধিতা করছি। তিনি বলেন, গতকাল চট্টগ্রামে উপ-নির্বাচন হয়েছে। ভোটারদেরকে যেতেই দেয়নি ভোটকেন্দ্রে। এর আগে বোমা মেরে লাঠিসোটা দিয়ে ভোটারদের তাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরে জিজ্ঞাসা করেন, বলবে যে আপনারা পারেননি। পারব কোত্থেকে? যে গুন্ডা, যে লাঠি মারে, সন্ত্রাসী কাজ করে তার সঙ্গে ভদ্রলোকেরা, সাধারণ মানুষেরা পারবে কোত্থেকে? দ্যাটস দ্য রিয়েলিটি। যারা ভোটার তারা তো মারামারি করে না। তারা তাদের অধিকারটা প্রয়োগ করতে যায়, সেটা প্রয়োগ করতে দেয়া হয় না।

তিনি বলেন, তারপরও বলি, হতাশ হবেন না, ছেড়ে দেবেন না। নেভার গিভ আপ। যত কষ্ট আসুক, যত যন্ত্রণা আসুক, যত অত্যাচার লাঞ্ছনা আসুক এদেশের মানুষ বার বার উঠে দাঁড়িয়েছে। তরুণরা উঠে দাঁড়িয়েছে, দাঁড়াবে, দাঁড়াচ্ছে। সব জায়গায় প্রতিরোধ হচ্ছে, প্রতিরোধ হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আজকে সব জায়গায় ভয়। এই যে সাংবাদিক ভাইয়েরা যারা আজকে এখানে খবর নিচ্ছেন, ছবি তুলেছেন তারা নিজেরাই সেন্সরশিপ আরোপ করছেন। তাদের ম্যানেজমেন্ট নিজেরাই করছেন। সরকার বলে তো বলেই কিন্তু তারা (মিডিয়া) নিজেরাই সেন্সরশিপ করেন- এটা দেয়া যাবে না, এটা দেয়া যাবে না, এই খবর ছাপানো যাবে না।

তিনি বলেন, আজকে এই যে খবর নিতে এসেছেন আপনারা। দেখা যাবে যে, এক কোনায় এইটুকু যাবে, এটাকে গুরুত্ব দেবে না। গুরুত্ব দেবে কাকে? ওবায়দুল কাদের কীভাবে গালি-গালাজ করছেন এটাই পাবে গুরুত্ব। এখানেই তাদের ক্রাইমটা সবচেয়ে বড়। আওয়ামী লীগকে আমি দায়ী করি এজন্য যে, ওরা আমাদের সমাজটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আজ তারা যেটা করছে সেটা হচ্ছে, ক্রাইম এগেনেস্ট হিউমিনিটি, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে।

সরকারের প্রতিহিংসায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার কথাও উল্লেখ করেন মহাসচিব ফখরুল। 

সংগঠনটির সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শফিউল বারী বাবু, মামুন হাসান, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, হেল্প সেলের নাসির উদ্দিন শাওন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

টিএস/ এফসি