• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২০, ০২:৫৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৭, ২০২০, ০৩:০২ পিএম

‘তারিখ পরিবর্তন হলে কোনো আপত্তি নেই’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘তারিখ পরিবর্তন হলে কোনো আপত্তি নেই’
বক্তব্য রাখছেন ওবায়দুল কাদের - ছবি : জাগরণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। এখানে সরকারকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক। হিন্দু ধর্মের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে একটা সম্মানজনক সমাধান খুঁজে নেয়া উচিত। তারিখ পরিবর্তন হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর মুলতবি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা বলব, নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো বিষয় সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। পূজার কারণে আজ যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে... আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশন হিন্দু ধর্মালম্বীদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব এই দিন। তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলাপ-আলোচনা করে সম্মানজনক, গ্রহণযোগ্য, যুক্তিযুক্ত বাস্তবসম্মত একটা সমাধান তারা খুঁজে নেবেন। এটাই আমরা আশা করি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে নির্বাচনের তারিখ পরে কিংবা আগে, তারিখ পরিবর্তন করবেন এটা সম্পূর্ণভাবে তাদের এখতিয়ার। তারা এটি করতে পারেন, এ ব্যপারে আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ সরকারের কিছুই করণীয় নেই এবং আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একজন প্রবীণ নেতা ড. কামাল হোসেন, তিনি বলেছেন পূজার দিন নির্বাচনের তারিখ দিয়ে সরকার অন্যায় করেছে। আমরা বলতে চাই, এই তারিখটি সরকার নির্ধারণ করেনি। ইসি একটি সাংবিধানিক সংস্থা। তারিখ ঘোষণা করা তাদের এখতিয়ার। এ ব্যাপারে সরকারকে দোষারোপ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। 

নির্বাচনের তারিখ পূজার দিনে পঞ্জিকার ভুলে- সিইসির এমন বক্তব্যের জবাব জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এখানে অন্য কারও উপরে দায়-দায়িত্ব চাপানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। সব এখতিয়ার কমিশনের। ‘২২০০ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে পূজা হবে।’ ৫৪ কেন? চারটি হলেও ধর্মের প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত এবং আমরা সেটা করি। আমার মনে হয় তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বসা উচিত। ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়টির সম্মানজনক যৌক্তিক সমাধান তারা খুঁজে নেবেন। এটি আমরা আশা করছি।

কাউন্সিলর পদে দলের বাইরে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের বসিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দলের বাইরে যারা নির্বাচন করছেন, নির্ধারিত সময়ে যারা প্রত্যাহার করেননি, তাদের প্রত্যাহার করানোর জন্য আমাদের শৃঙ্খলা কমিটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এভিএম নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বগুড়ার দুপচাচিয়ায় ইভিএম দিয়ে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সেখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মির্জা ফখরুল সাহেব কি কখনও বলেছেন এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। তারা কি প্রত্যাখান করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়াচ কি সঠিক হয়েছে- আমার প্রশ্ন। বিরোধীরা প্রতিদিন সরকারের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে সব ভাষা ব্যবহার করছে, অশ্রাব্য ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ করছে। সরকার কারো কণ্ঠরোধ করলে তারা কি এই ভাবে গালিগালাজ করতে পারত।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

এএইচএস/ এফসি