• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০, ০২:০২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০, ০২:৫৪ পিএম

কাদেরকে ফখরুলের ফোন

‘টক-শোতে শুনলাম আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে, বাস্তবে তেমন কিছু নয়’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘টক-শোতে শুনলাম আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে, বাস্তবে তেমন কিছু নয়’
ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ডানে) - ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজেই। তবে বিএনপি কিংবা খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে লিখিত কোনো আবেদন এখনো আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদককে ফোন করা ও সরকারকে আন্দোলনের হুমকির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, এটা বিএনপির দ্বিচারিতা। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব টেলিফোনে কথা বলেছেন। কিন্তু সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি জিজ্ঞেস করেছি গতকালও, আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে তার পরিবারের লোকজন ও দলের লোকজন বিচ্ছিন্নভাবে কথা বলছেন। কিন্তু অনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল পর্যন্ত পাননি। তারা মুখে বলছেন, তারা মুক্তি চান আবেদন করবেন, কিন্তু আবেদনটা লিখিতভাবে আসেনি। গতকাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আইনমন্ত্রী কেউই বলেননি যে বিএনপি কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো আবেদন পেয়েছেন। 

কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমাকে ফোনে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের এই আবেদনটা জানাতে বলেছেন, মৌখিকভাবে। আমি সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আমি এটুকু বলতে পারি- এছাড়া কোনো লেন-দেন বা এ নিয়ে কোনো কথাবার্তা, এসব আমাদের সঙ্গে হয়নি। তলে তলে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে কাল টক-শোতে শুনলাম, আমার মনে হয় বাস্তবে বিষয়টা তেমন কিছু নয়।    

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি আগে থেকেই বলে আসছি, বেগম জিয়ার এই মামলাটি রাজনৈতিক মামলা নয়। সরকারের বিবেচনার বিষয়টা তখনই আসে, যখন বিষয়টি রাজনৈতিক বিবেচনার হয়। বেগম জিয়ার এই মামলাটি হচ্ছে দুর্নীতির। এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। রাজনৈতিক মামলা হলে সরকারের পক্ষে বিবেচনার বিষয় ছিল। দুর্নীতির মামলা এখন সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ার।

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের - ছবি : জাগরণ

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারলের বিষয়টি তারা আবেদন করতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তবে প্যারল কী কী কারণে দেয়া যায় এবং দোষী বন্দিকে প্যারলে মুক্তি দেয়া যায় কি না, আর তারা কী কী কারণে প্যারলে মুক্তি চান সে বিষয়টা উল্লেখ করে তারা লিখিতভাবে কোনো আবেদন এখনও করেননি।    

খালেদা জিয়ার দল কিংবা পরিবার যদি আবেদন করেন তবে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে- জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘যদিটা পরে দেখা যাবে।’ ‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে প্যারলের আবেদনের সঙ্গে বিষয়টার মিল আছে কি না, এটা খতিয়ে দেখা। তাদের আবেদন খালেদা জিয়াকে প্যারলে মুক্তি দেয়ার জন্য যুক্তিযুক্ত কি না, এ বিষয়টা অবশ্যই দেখা হবে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে অমানবিক কোনো কিছু সরকার করতে পারে না। তাকে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সরকার অবশ্যই বিষয়টি মাথায় রাখে। তবে একটা বিষয় হচ্ছে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টা তার দলের লোকেরা যেভাবে বলেন, চিকিৎসকরা কিন্তু সেভাবে বলছেন না। চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার ব্যাপারে রিপোর্ট দেবেন, দলের লোকদের রিপোর্টের ওপর কি চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে? এমন প্রশ্নও রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।   

মন্ত্রিপরিষদে রদবদল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের সকল বিষয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী সরকারের মধ্যে কাজের সুবিধার জন্য সময়ে সময়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল করতে পারেন, কারও দায়িত্বের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। তারা কেউ তো বাদ যায়নি।

আগামীকাল শনিবার দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভা, এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের সংসদীয় বোর্ড আছে, স্থানীয় সরকার বোর্ড আছে। দুটি বোর্ডেরই যৌথসভা হবে। আগামীকাল ১৯ জনের যৌথসভা হবে। এই সভায় আমাদের কাছে কিছু রিপোর্ট আছে, নেত্রীর কাছে কিছু... তিনি তার নিজস্ব পদ্ধতিতেও খোঁজ-খবর নিয়েছেন। গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে। তা ছাড়া সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার বোর্ড প্রত্যেক প্রার্থীকে নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।    
 
এএইচএস/ এফসি