• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ০৯:২৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ০৯:২৪ এএম

খালেদা জিয়া কি ‘মানবিক বিবেচনায়’ মুক্তি পাবেন?

জাগরণ প্রতিবেদক
খালেদা জিয়া কি ‘মানবিক বিবেচনায়’ মুক্তি পাবেন?
খালেদা জিয়া ● ফাইল ছবি

জামিন না প্যারোলে মুক্তি এ নিয়ে দীর্ঘ সময়ের দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের পর অবশেষে যে কোনও শর্তে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত হয়েছে বিএনপিতে। আগে এ নিয়ে খালেদা জিয়ার আপত্তি থাকলেও শারীরিক অবস্থা আর পারিবারিক চাপে এখন অনাপত্তি দিয়েছেন তিনি। যা জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আবারও উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে কোনও সম্ভাবনাই বাদ দিতে চায় না বিএনপি। তাই যে কোনও উপায়ে দলের প্রধানকে দেখতে চায় নেতা-কর্মীরা। তার দলের আইনজীবী ও দলের পাশাপাশি সক্রিয় হয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে পাঠাতে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ চেয়ে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন তাদের একমাত্র চাওয়া।

তার মতে, সরকার চাইলেই জামিনের বিরোধিতা না করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারে।

তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য উচ্চ আদালতে তার আইনজীবীরা আবেদন করবেন। আর মুক্তি পাওয়ার পরপরই তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে যাবেন।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া৷ সেখানকার মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার পাঁচ সদস্যের এই বোর্ডের সদস্য৷ মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি মেডিকেল বোর্ড সুপারিশ করতে পারে না৷ যদিও আবেদনের পর আমরা একসঙ্গে বসিনি৷ আমরা মনে করছি, তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রয়েছে৷

তবে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে৷ যে কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো প্রয়োজন৷ প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে পরিবারের আবেদন সম্পর্কে শামীম ইস্কান্দার গণমাধ্যমকে বলেন, তার দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনও অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন৷ পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যয়বহনসহ তাদের দায়িত্বে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে আবেদনে৷

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, মেডিকেল বোর্ড যেন বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারকে সুপারিশ করে সেজন্য তাদের এ আবেদন৷ আবেদনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চেয়েছি৷

প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিএনপির মধ্যে আগে থেকেই মতবিরোধ রয়েছে৷ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কথাও বলে আসা হচ্ছিল দলটির পক্ষ থেকে৷ কিন্তু গত দুই বছরে তেমন কোনও জোরালো পরিস্থিতিও দলটি তৈরি করতে পারেনি৷ খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির অন্যতম নীতি-নির্ধারক খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে আসছি আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেতে সময় লাগবে৷ তার যে স্বাস্থ্যের অবস্থা তাতে দ্রুত তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন৷ যদিও আমাদের দলের নেতারা শুরু থেকে প্যারোলের বিরোধিতা করে আসছেন৷ তারা মনে করছেন, প্যারোলে চাইলে আমাদের পরাজয় হবে৷

তিনি বলেন, আমরা শিগগিরই আবার জামিন চাইব৷ কিন্তু দেশে গণতন্ত্র না থাকলে ন্যায় বিচার পাওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়৷ তাই প্যারোল বা জামিন দু’টাই সরকারের হাতে৷ তারা চাইলে যে কোনও ভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে পারেন৷ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ওয়ান ইলেভেনের সময় প্যারোলে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন৷ পাকিস্তানেও নওয়াজ শরীফ প্যারোলে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেছেন৷ বিশ্বে এমন অনেক নজির আছে৷

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফও শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দু’টি পথ খোলা আছে৷ একটি হলো তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করে জামিন নিতে হবে৷ অন্যটি হলো প্যারোলে মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে৷ ওনারা সেটা করেননি৷ উল্টো তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে নোংরা রাজনীতি করে যাচ্ছেন৷

এসএমএম