• ঢাকা
  • রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২০, ০৩:৫২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২৫, ২০২০, ০৫:৩৭ পিএম

মুক্তি পেয়ে বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়া

জাগরণ প্রতিবেদক
মুক্তি পেয়ে বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়া
বিএসএমএমইউ থেকে বাসভবনে রওনা হন খালেদা জিয়া ● কাশেম হারুন

২ বছর ১ মাস ১৭ দিন সাজা খাটার পর সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের জিম্মায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এ সময়কালে তিনি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। শর্ত ভঙ হলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি দেয়ার পর পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপির মহাসচিব তাকে গ্রহণ করেন।

পরে মেডিকেল ছাড়পত্র নিয়ে বিকাল ৪টা ১৫ দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে হুইল চেয়ারে করে বের আসেন তিনি। এ সময় খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিমা ইসলাম ও ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দু উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে তাকে বাসভবনে নিয়ে যেতে দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতাল চত্বরে ঢোকার পরই কয়েক শ নেতা-কর্মী সেখানে জড়ো হন। স্বজনরা সেখানে পৌঁছানোর মিনিট দশেক আগে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাজা স্থগিত মেয়াদকালে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় থাকবেন খালেদা জিয়া। সেখানে থেকেই তাকে চিকিৎসা নিতে হবে। সে জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।  

বিকাল সোয়া ৫টায় দিতে হাসপাতাল থেকে বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছান খালেদা জিয়া।  বিএসএমএমইউ থেকে ফিরোজা পর‌্যন্ত নেতা-কর্মীদের বেস্টনিতে ছিল খালেদার জিয়ার বহনকারী গাড়ি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫টা ২২ মিনিটে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আল্লাহ কাছে শুকরিয়া অবশেষ বিএনপি চেয়ারপারসনকে আমরা বাড়িতে নিয়ে আসতে পেরেছি। তাকে এখানে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। আশা করি, তাকে এখান থেকে সুস্থ করে তুলতে পারবো ইনশাল্লাহ।’’

বুধবার তাকে মুক্তি দেয়ার পর থেকেই ৬ মাস গণনা শুরু হয়ে গেছে।

কারা সূত্র জানায়, সাজা বাতিলের ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখানে স্বরাষ্ট্র সচিবের সইয়ের পর কারা অধিদফতরে যায়। কারা অধিদফতর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করে। সেই কাগজ নিয়ে বিএসএমএমইউতে গিয়ে খালেদাকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন জেল সুপার।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৬ মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত করা হয়েছে।

দু’টি শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে আইনমন্ত্রী জানান। সেগুলো হলো, এই সময়ে তার ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায়, মানবিক কারণে, সরকার সদয় হয়ে দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে দল ও নেতা-কর্মীরা যেমন স্বস্তিবোধ করছেন, আবেগ কাজ করছে, পাশাপাশি তাদের মধ্যে একটি আতঙ্কও কাজ করছে এটা ভেবে যে এমন একটা সময়ে তাকে মুক্তির এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যখন করোনাভাইরাস নিয়ে একটি দুর্যোগ চলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন থাকে আলাদা থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কিছুদিন আগে বিদেশে চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিল খালেদা জিয়ার পরিবার।

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তাদের চিঠিতে প্যারোলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু লেখা হয়নি। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, এখন তার বোনের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হলেও তাদের পরিবারের সদস্যদের কোনও আপত্তি থাকবে না। তবে পরিবারের অন্য একটি সূত্র এবং সরকারি সূত্রে জানা যায়, পরিবারের চিঠিতে মানবিক কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে এই মুক্তি দেয়া হয়েছে। 

২ বছরের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছিলেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে গত ১১ মাস ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন গৃহকর্মী ফাতেমা।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে পাঠানো হয় খালেদা জিয়াকে। ওই বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিকেল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে।

এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হয়। ফের ফিরিয়ে নেয়া হয় কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর বিকাল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে আনা হয় তাকে।

চূড়ান্তভাবে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে। খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার। হাসপাতালে খালেদা জিয়ার পাশের কেবিনে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা অবস্থান করছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথমে পাঁচ বছরের এবং পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। এই দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ছবি ● কাশেম হারুনফাইল ছবি

এসএমএম