• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২০, ০৭:২০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২৩, ২০২০, ০৭:৪৫ এএম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

রিজভী-ফখরুল বাকতত্ত্বের জবাব খোকা-তরিকুল-মান্নান ভুঁইয়ায়

এস এম সাব্বির খান
রিজভী-ফখরুল বাকতত্ত্বের জবাব খোকা-তরিকুল-মান্নান ভুঁইয়ায়
ফটো কোলাইজ - জাগরণ গ্রাফিক্স ডেস্ক।

স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বিভীষিকাময় ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাটি ঘটানো হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। এ দিনে দেশব্যাপী বোমা হামলা, ৭ই আগস্ট সিলেটে বোমা হামলা, রাষ্ট্রীয় মদদে জঙ্গিবাদের উত্থান ও গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক সন্ত্রাসবিরোধী জনসভার আয়োজন করে তৎকালীন প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। সভার প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সেই জনসভাস্থলে চালানো হয় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। নারকীয় এ হামলায় প্রাণ হারান নারী নেত্রী আইভী রহমানসহ দলের ২৪ জন নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন শেখ হাসিনাসহ দলের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৬তম বার্ষিকীতে শুক্রবার এক ভার্চ্যুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গিয়ে খালেদা জিয়া (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) গ্রেনেড হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করেছিলেন। ওই হামলার সাথে জড়িতরা পরে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিল যে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানও সেই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিরোধীতা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, বিএনপিকে ফাঁসানোর লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের ফল হচ্ছে ২১ আগাস্টের গ্রেনেড হামলা। রিজভী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফল হচ্ছে ২১ আগস্ট বোমা হামলা এবং তারপরের বিচারিক প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। সেজন্য তারা ক্ষমতায় এসে ওই মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী তা বাস্তবায়নের জন্য তাদের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছে। তবে বিএনপি নেতাদের এই বিবৃতি যে গায়ের জোরে নিজেদের নির্দোষ দাবির প্রচেষ্টা মাত্র, তা বলাই যায়। কারণ, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বয়ং দলটির তৎকালীন হার্ডলাইনের একাধিক নেতারাই উত্তর দিয়ে গেছেন। তাদের সেই বক্তব্যের সঙ্গে দলটির বর্তমান নেতাদের বক্তব্য সাংঘর্ষিক।

২১ আগস্টের সেই ভয়াল হামলার স্মৃতি এখনও এদেশের মানুষের স্মৃতিতে সতেজ। সেই দৃশ্যপট একবার বিবেচনা করলেই বিএনপির এই দাবির গ্রহণযোগ্যতা কতটা তা নিরুপন করা সম্ভব। সেদিন যেভাবে সেখান থেকে শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে ফেরেন তা ভাবলেই বলা যায়, কেউ নিজের জীবন এভাবে ঝুঁকিতে ফেলে প্রতিপক্ষকে ষড়যন্ত্রের জালে ফাঁসানোর মত নির্বুদ্ধিতা করবেন না। তাছাড়া ষড়যন্ত্রের কারিগর নয় বরং বারংবার দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘাপটি মেরে থাকা অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ যে সত্য ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহের দ্বারাই প্রমাণিত।

গ্রেনেড হামলার দুই মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর ও তারেক জিয়া (ডানে)

সেদিনের সেই হামলার ঘটনায় শুধু বাংলাদেশ নয় বরং গোটা বিশ্বই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই নয়, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বহু নেতৃবৃন্দও বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনার সঙ্গে খালেদা পুত্র তারেক জিয়া ও তার একান্ত অনুচর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরসহ বিএনপি-জামাত জোটের একাধিক নেতৃবৃন্দের সম্পৃক্ততাই ছিল তাদের বিচলিত হওয়ার মূল কারণ। শুধু তাই নয় এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএনপির রাজনৈতিক ইমেজ চরম ধাক্কা খাবে বলেও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছিলেন তারা। তাদের মাঝে সাদেক হোসেন খোকা, তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া অন্যতম। নিজ দলের মাঝে 'বেয়াদব' আখ্যায়িত তারেক জিয়ার এই ধৃষ্টতা এবং 'মমতাময়ী' মা খালেদা জিয়ার প্রশ্রয়ের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তারা।

মূলত ২১ আগস্টের এই গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি তারেক জিয়া নিজ দলের স্বার্থ রক্ষায় করেননি বলেই প্রতীয়মান হয়। বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যেও একই সত্য ফুটে ওঠে। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ধারনা করা যায়, পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার অনুগত এজেন্ট হিসেবে তারেক জিয়া এই হামলায় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মাধ্যমে মূলত জামাতপন্থী হুজি জঙ্গিগোষ্ঠীর গোড়াপত্তনের পথ বিস্তৃত করেন। আর সেক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে সে সময় বিএনপির ক্ষমতাসীন থাকার সুবিধা। তারেকের 'বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট' বলেই হয়তো এই ষড়যন্ত্রের কথা বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাই জানতেন না। আর তাই এরকম ঘটনা ঘটার পর হকচকিত হয়ে পড়েন দলটির অনেক শীর্ষ নেতাই। বিএনপির একাধিক হার্ডলাইনের নেতারা সে সময় এ প্রসঙ্গে তাদের মন্তব্যে জানিয়েছিলেন যে, তারেক, খালেদা জিয়া, বাবর, সেনা ও পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ এবং গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা ছাড়া ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার কথা কাউকেই জানানো হয়নি। এই সময়ে বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী এই ব্যাপারে পুরো অন্ধকারে ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির দুইজন প্রভাবশালী নেতা ক্ষোভ সংবরণ করতে না পেরে সরব হয়ে উঠেছিলেন। তারা এই গ্রেনেড হামলাকে হঠকারিতা এবং বিএনপির জন্য কবর রচনার শামিল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তারেক জিয়ার এই কাণ্ড গোটা বিএনপির অস্তিত্ব নাড়িয়ে দিয়েছিল। দলের অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী রাজনীতিকরা তখনই বিএনপির পতনের সুর শুনতে পেয়েছিলেন বলেও শোনা যায়। এদের মধ্যে ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা এবং তরিকুল ইসলাম। সাদেক হোসেন খোকা সেইসময়ে একাধারে মেয়র এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। তিনি যখন এই গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে জানতে পারেন তখন তিনি মেয়র ভবনে অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়। ঘটনা সম্পর্কে শোনার পরেই দ্রুত তিনি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে চলে যান এবং লুৎফুজ্জামান বাবরকেও সেখানে ডেকে পাঠান। এই সময়ে বিএনপির মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন এবং এই ঘটনা জানার পরে তিনিও দলীয় কার্যালয়ে চলে আসেন।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় যে, সেদিন সেখানে আব্দুল মান্নান ভুঁইয়ার সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকা এবং বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এরপরেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নয়া পল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের আসেন এবং এই তিন নেতাকে তিনিই প্রথম জানান যে, এটা পরিকল্পিত এবং ‘ভাইয়ার’ নির্দেশে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে খোকা এবং তরিকুল চরম ক্ষুদ্ধ্ব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া এই ঘটনাকে বিএনপির কবর রচনা করা হলো বলে উল্লেখ করে বলেছিলেন, "জিয়াউর রহমান একটা বেয়াদব জন্ম দিয়ে গেছে। শেখ হাসিনা শুধু বিরোধীদলীয় প্রধান না, তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা!"

গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে রক্তাক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত - ফাইল ফটো

জানা যায়, পরবর্তীতে সাদেক হোসেন খোকা ঘটনার বর্ণনা শুনে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে তারেককে গালাগালি করেন এবং এই ঘটনার মাশুল বিএনপিকে আজীবন দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। তরিকুল ইসলাম এটাকে আরেকটি ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে ‘ম্যাডামের’ সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই তারা তিনজন সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় সাক্ষাত করেন এবং এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া, রাজনৈতিক প্রভাব ইত্যাদি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বিএনপির এই তিন হাইভোল্টেজ নেতার ভাষ্য মতে, খালেদা জিয়া এসময় নিরব শ্রোতা ছিলেন এবং তিনি কিছুই বলেননি। এক পর্যায়ে বেগম জিয়াকে সাদেক হোসেন খোকা ঘটনার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি প্রদান করা এবং ঘটনার জন্যে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে অনুরোধ করেন। সাদেক হোসেন খোকা একথাও বলেন যে, এরকম ঘটনার দায়দায়িত্ব বিএনপির নেওয়া ঠিক হবেনা এবং তদন্তে যেন প্রকৃত দোষী ব্যাক্তিকে আইনের আওতায় আনা যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এইসময় তরিকুল ইসলামও বলেন যে, এখন কৌশলগত কারণে তারেক জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়াই ভালো, তার দেশে থাকা উচিত নয়। মান্নান ভূঁইয়া এই ঘটনার জন্যে যদি পুলিশ এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনীতি দিয়েই হারাতে হবে, সন্ত্রাস দিয়ে নয় এবং এটার পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে। বেগম খালেদা জিয়া সেসময় উদ্বিগ্ন ছিলেন, আতঙ্কিত ছিলেন। তাদের কথায় জানা যায়, এই হামলার পর শেখ হাসিনা জীবিত থাকার বিষয়টি নিয়ে খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া দুজনেই প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। 

সূত্র মতে, এই তিন নেতার বক্তব্য শুনে এক পর্যায়ে ক্ষুদ্ধ্ব খালেদা জিয়া উল্টো খোকা ও তরিকুলকে তীব্রভাবে ভৎসর্না দেন। সেদিন নেতারা- রাজনৈতিক দল হিসেবে যে বিএনপির অস্তিত্ব সংকটাপণ্ণ হতে চলেছে, তা  খালেদা জিয়াকে বোঝাতে ব্যর্থ হন। ক্ষোভ নিয়ে এ প্রসঙ্গে তাদের একজন খালেদা জিয়ার মন্তব্য সম্পর্কে জানিয়েছিলেন- সে সময় ক্ষুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপার্সন নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা কি আওয়ামী লীগের দালালি করতে এসেছ? এই ধরণের ঘটনার পর আমরা যদি সবকিছুর দায়দায়িত্ব নিয়ে নেই তাহলে আমাদের রাজনীতি কোথায় থাকবে? যা হবার হয়ে গেছে, এখন এটাকে সামলাতে হবে। তোমাদের কিছুই করতে হবেনা, যা করার আমিই করবো।’

বিএনপির তিন নেতা (বাঁ থেকে) সাদেক হোসেন খোকা, তরিকুল ইসলাম ও মান্নান ভূঁইয়া

ধারণা করা হয়, নিজের সন্তানের এই ঘৃন্য অপকর্ম প্রশ্রয় দিয়েই শেষ ভুল করেছিলেন খালেদা জিয়া। সেই বৈঠকের পর খালেদা জিয়া নেতাদের রীতিমতো তাঁর বাসভবন থেকে বের করে দেন। এই ঘটনার পরেই বিএনপির এই তিন নেতাসহ দলটির সিনিয়র পর্যায়ের অনেকেই নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। যার প্রেক্ষিতে তারেক জিয়ার বেপরোয়া কর্তৃত্ব আরো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনপিতে। পরিণতি, বিএনপি আর জামাতের গ্রাস থেকে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারেনি যার সত্যতা সাম্প্রতিক বাস্তবতায় প্রতীয়মান।

পাশপাশি দলটির একাধিক সূত্রের দাবি, এই ঘটনার আগেই বিএনপি হাইকমান্ডের অতিরিক্ত জামাত প্রীতি নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছিলেন দলের একাধিক অভিজ্ঞ নেতা। তারা ধারণা করেছিলেন জামাত শুধু রাজনৈতিক ইস্যুতে বিএনপিকে আঁকড়ে ধরে সবল হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে না এর আড়ালে আরো নিগূঢ় কিছু আছে। কিন্তু তারেকে বুঁদ হয়ে থাকা বিএনপির হাইকমান্ড তখন তা আমলেই নেয়নি। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয় এবং পর্যায়ক্রমে তা বিএনপির রাজনীতিকে আজকের এই নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমানে এই দলটির মাঝে যে মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বের গৃহদাহ চলছে তার কারণ হচ্ছে খালেদাপন্থী ও তারেকপন্থী বিভাজন। অঘোষিতভাবে যার একাংশের হাল মির্জা ফখরুল ইসলামের হাতে ও অন্য অংশের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করায় ব্যস্ত রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতারা এই দাবির সত্যতাও স্বীকার করেছেন।

সম্প্রতি এই ইস্যুতে রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মন্তব্যে যেন সে সময় এক সংসদ অধিবেশনে করা খালেদা জিয়ার বিতর্কিত উক্তিটির প্রতিধ্বনি শোনা যায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শেখ হাসিনা নিজের ভেনিটি ব্যাগে করে সেই গ্রেনেড নিয়ে এসেছিলেন এবং এ ঘটনার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিএনপির ইমেজ ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তার এমন উদ্ভট মন্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা যেমন সে সময় পাওয়া যায়নি, বিএনপির আজকের মন্তব্যও অনেকটা তেমনই।

এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের মন্তব্য, সাদেক হোসেন খোকা, তরিকুল ইসলাম ও মান্নান ভুঁইয়ার মত অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ রাজনীতিকরা বিএনপির জন্যে যে অবদান রেখেছেন তা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরী হিসেবে দলের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে আসা নেতাদের রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও নৈতিকতার অভাব ছিল বলেই জামাতপন্থী বিএনপির আজ এই দশা। তারেক জিয়ার কারণেই আগের নেতারা ধীরে ধীরে দলটির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নিরব হয়ে গিয়েছিলেন সেটা সকলেরই জানা। তার কারণেই দলটিতে বিভাজন সৃষ্টি হয়। তারেক জিয়া রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতে জানলেও রাজনীতি জানে না। আর তাই প্রতিদ্বন্দ্বীতার পরির্বতে প্রতিহিংসার খেলায় মেতেছিল। বর্তমানে দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা মানেই হচ্ছে সরকারের যে কোনো ইস্যুতে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন আর অগোচরের ষড়যন্ত্র।