• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০, ০৩:৫৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০, ০৩:৫৮ পিএম

শেখ হাসিনার জন্মদিনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশেষ দোয়া মাহফিল

জাগরণ প্রতিবেদক
শেখ হাসিনার জন্মদিনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশেষ দোয়া মাহফিল
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বিশেষ মোনাজাতকালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ - দৈনিক জাগরণ

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে তার সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহ্ফিল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

সোমবার সকাল ১১টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 

উক্ত দোয়া মাহফিলে সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা'র সু স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের অসুস্থ সকল নেতাকর্মীদের সুস্থতার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থণা করেন।

এ সময় তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে বন্যা দূর্গত অসহায় মানুষের পাশে থাকারও নির্দেশ দেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু তার বক্তব্যে বলেন, গ্রীক পৌরাণিকে আমরা ফিনিক্স পাখির কথা শুনতে পাই। সে পাখি নিজের পুড়ে যাওয়া ছাই থেকেই আবার জন্মায়, যার পালক থেকেও জন্মায় অজস্র নতুন পাখি। শেখ হাসিনা আমাদের সেই ফিনিক্স পাখি। খুনীদের রক্তের হলি খেলা থেকে যিনি জন্মেছেন বারবার, যার অসীম সাহস আর অফুরন্ত প্রাণশক্তির কাছে নতজানু হয়েছে ষড়যন্ত্রকারী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। 

১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার ঘর আলো করে টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম হয় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার।টুঙ্গিপাড়ায় বাল্যশিক্ষা অধ্যয়নরত শেখ হাসিনা ১৯৫৪ সালে পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৬৭ সালে গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ(ইডেন কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬২ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন । ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য এবং ১৯৭৩ সালে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

১৯৬৭ সালের ১৭ই নভেম্বর বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ডঃ এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সাংসারিক জীবনে তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এর গর্বিত মা। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘৃন্য খুনি চক্র শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে ছাড়া পরিবারের সকল সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বামীর চাকুরীসূত্রে পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান তাঁরা।

১৯৮১ সালের কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘ ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। 
১৯৮৬-১৯৮৭ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন।

১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। ১৯৯১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধীদল হিসেবে প্রকাশ পায়।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে খুনি জিয়া ও খন্দকার মোসতাকের জারিকৃত কুখ্যাত  ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির পিতার খুনীদের বিচারের মুখোমুখি করেন এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলংকমুক্ত করেন। 

১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে 'ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি' করেন শেখ হাসিনা সরকার। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দাবির কারণে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং সদস্য দেশগুলো দিবসটি পালন করে থাকে।

পরবর্তীতে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জামাত জোটের সীমাহীন দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ১/১১'র সেনা সমর্থিত অবৈধ সরকারের  জেল,জুলুম উপেক্ষা করে নির্বাচন দিতে  বাধ্য করে ২০০৮ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করে একটানা তৃতীয় বারের মতো সরকার প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।

আন্তর্জাতিক আদালতে মায়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্র সীমা জয়, ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিটানা, প্রথমবারের মতো মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রেরণ করা, বিশ্ব মোড়লদের কাছে বাংলাদেশের সক্ষমতার জানান দিয়ে পদ্মা সেতু তৈরীর সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোগ, মেট্রোরেল  নির্মান, নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ, বিদ্যুতের উৎপাদন সহ অভূতপূর্ব সাফল্যের পথে বাংলাদেশ।

আরো উপস্থিত ছিলেন 
কেন্দ্রীয় নেতা গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ম, আব্দুর রাজ্জাক, মজিবুর রহমান স্বপন,দেবাশীষ বিশ্বাস, আবু তাহের, আব্দুল আলিম বেপারী, মোবাশ্বের চৌধুরী, একেএম আজিম, খায়রুল হাসান জুয়েল, নাফিউল করিম নাফা, আব্দুল্লাহ আল সায়েম,কৃষিবিদ মাহবুবুল হাসান, শাহ জালাল মুকুল, আজিজুল হক আজিজ, রফিকুল ইসলাম বিটু, আবিদ আল হাসান, আনোয়ারুল আজিম সাদেক, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ইসহাক মিয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি কামরুল হাসান রিপন সহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর - দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ৭৫,র ১৫ আগস্ট জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের অসুস্থ নেতা-কর্মীদের সুস্থতাও কামনা করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।

এসকে