• ঢাকা
  • বুধবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২১, ১২:৪২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৫, ২০২১, ০৬:৪২ এএম

সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া

সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া
ফাইল ফটো

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি বরং মাঝেমধ্যেই অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকরা তার আরোগ্যের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরাও।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনায়

বুধবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে। এতে বোর্ডের আট সদস্যের সঙ্গে আরও পাঁচ চিকিৎসক যোগ দেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার লিভারের ক্ষত সম্পর্কে জানতে কলোনস্কপি সহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। যা যকৃতের ক্রনিক রোগ। এতে লিভারের সাধারণ আকৃতি নষ্ট হয়। এ কারণে তার অরুচি, ওজন হ্রাস, বমি ভাব বা বমি হচ্ছে। বমি ও মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জ্বর জ্বর ভাব, শরীরে পানি আসা, খনিজে অসমতা সমস্যা দেখা যায় লিভার সিরোসিসে।

ওই চিকিৎসক সমকালকে জানান, গত সোমবার রাত থেকে খালেদা জিয়া দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকেন। তার দেহে খনিজ অসমতা চরমে পৌঁছেছে। প্রধান ইলেকট্রোলাইট, অর্থাৎ সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্লোরিন কমে যাওয়ায় শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে তা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সোমবার রাত থেকে তা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। কিডনির ক্রিয়েটিনিন বর্ডার লাইন অর্থাৎ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি। তার পরও ডায়াবেটিস ১২-১৩ এর মধ্যে ওঠানামা করছে।

চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক দুর্বলতার মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে রক্তবমি সহ খালেদা জিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এতে রক্তে হিমোগ্লোবিন মাত্রাতিরিক্ত কমে যেতে শুরু করে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে জরুরি রক্ত দেয়া প্রয়োজন হলেও খালেদা জিয়ার শরীর তা গ্রহণের অবস্থায় ছিল না। এতে খালেদা জিয়ার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। পরে রাত ১০টার দিকে তার শরীরে রক্ত দিতে সক্ষম হন চিকিৎসকরা। এর ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে শুরু করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ডা. এফএম সিদ্দিকী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ডা. মোহাম্মদ আল মামুন, ডা. আরেফিন আহমেদ, ডা. নিশাত, ডা. ফাহমিদা বেগম ও ডা. মনসিং। ভার্চুয়ালি যোগ দেন দেশি-বিদেশি পাঁচ চিকিৎসক।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ২৫ মাস কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। সে সময়ে তার সুচিকিৎসা না হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, সরকার কারাগারে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছে খালেদা জিয়াকে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সেবা দিচ্ছেন। সরকার গত তিন বছরে তাকে চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকার গণতন্ত্রকে হরণ করতে খালেদা জিয়ার মতো ক্যারিশম্যাটিক নেত্রীকে বন্দি করে রেখেছে। তাকে নিয়ে একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে। গুজবে কান না দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন বিএনপি মহাসচিব।

জাগরণ/এসএসকে/এমএ