• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২২, ১২:৩৭ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৭, ২০২২, ১২:৪২ এএম

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নির্বাচনে অংশ নেয়া যার যার দলের সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে অংশ নেয়া যার যার দলের সিদ্ধান্ত
সংগৃহীত ছবি
মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য চেষ্টা করছি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সদিচ্ছার অভাব  খুঁটির জোর থাকলে বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দিতো না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দলগুলোই সিদ্ধান্ত নেবে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগদান এবং যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ মন্তব্য বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতবার আমরা সবগুলো দলের সাথে আলোচনা করেছি। এরপরেও তারা নির্বাচনে হেরে গিয়ে আওয়ামী লীগের দোষ দিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিবার জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। আমরা যা করি জনগণের মত নিয়েই। কিন্তু এরপরেও যারা জনগণের কাছে যেতে ভয় পায় তারা আমাদের দোষ দেয়।

গ্রেনেড হামলায় যারা আহত হয়েছেন সে ক্ষত এখনও শুকায়নি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তত আওয়ামী লীগ কখনও জোর করে ক্ষমতায় আসবে না।

তিনি জানান,  ‘ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে। দল সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা আমাদের দলের গঠনতন্ত্র মেনে চলি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৮ সাল থেকে কী কী ওয়াদা করেছি, কতোটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা হিসেব করি। আমরা আগামীতে কি করবো তা নিয়েও আলোচনা করি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে পরিকল্পনা করছি তা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। আমরা ২১০০ সালে বাস্তবায়নের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করেছি। সময়ের সাথে সাথে তা পরিবর্তন, পরিবর্ধন হবে। বাংলাদেশ কখনও পিছিয়ে যাবে না।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নের চাকাটা সচল করেছি। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছে। আমি দেশের মানুষের জন্য কতোটুকু করতে পারে সেটাই একমাত্র চাওয়া-পাওয়া।

মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য চেষ্টা করছি : মহামারি, যুদ্ধসহ বিশ্বের চলমান পরিস্থিতে আমরা কতোটা প্রস্তুত- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বই অশান্তিতে ভুগছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা একাই শান্তিতে থাকতে পারবো কিনা পারবো না তা বলা মুশকিল।

সারা বিশ্বের মানুষ যদি কষ্টে থাকে তাহলে কি শুধু আমরা শান্তিতে থাকতে পারবো?
তারপরেও আমার দেশের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য যা করার দরকার আমরা চেষ্টা করছি, যোগ করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোসহ অন্যান্য সবগুলো বিষয়ে নজর দেয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, একদিকে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি অন্যদিকে রাশিয়ার যুদ্ধ। আমরা তো বিশ্ব থেকে আলাদা কিছু না। তারপরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারপরেও কেউ যদি ভালো কোনো পরামর্শ দিতে পারে আমরা তা গ্রহণ করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, ভারতসহ অন্যান্য দেশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আমরা খাদ্য গুদামগুলোকে নিয়মিত মনিটরিং করছি। সবগুলো খাদ্য যাতে ঠিক থাকে তা মনিটরিং করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার টিসিবির কার্ডের মাধ্যমে মাত্র ৩০ টাকা দামে চালের ব্যবস্থা করেছে। যাতে এক কোটির বেশি মানুষ সহায়তা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, যাদের কিছু ছিল না, ভাসমান ছিল আমরা তাদের ঘর করে দিয়েছি। আমরা তাদের নানা ধরনের গবাদি পশুও দিয়েছি। তারা এগুলো পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সদিচ্ছার অভাব :  মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। মানবিক কারণে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে সম্মানের সঙ্গে ও নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরতে পারে সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

এবার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার জন্য জাতিসংঘকে কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছি।

জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন বিরোধ নিরসনের আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির জন্য অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে অধিক পারস্পরিক সংহতি প্রদর্শন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করি। এসব সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা-নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট ও বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। চলমান সঙ্কট নিরসনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তি ও উন্নয়ন ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগদান উপলক্ষে লন্ডন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে টানা ১৮ দিনের সফর শেষে সোমবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডন সফর শেষে তিনি নিউইয়র্ক যান।  

২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রোববার (২ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে রওয়ানা হয়ে লন্ডনে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি দিয়ে সোমবার (০৩ অক্টোবর) দিনগত রাত ১টায় ঢাকায় ফেরেন তিনি।

খুঁটির জোর থাকলে বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দিতো না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপির তো খুঁটির জোর নেই। যদি সেটা থাকতো তাহলে তো তারা বিদেশিদের দ্বারে দ্বারে যেতো না, ধরনা দিয়ে বেড়াতো না।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ বিএনপিকে সবক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কোন মুখ নিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে। আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো, পেট্রলবোমা মারা, নাশকতা করে মানুষ খুন করেছে। এখন মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাবে কোন মুখ নিয়ে। পারছে না বলেই বিদেশিদের পিছে পিছে ঘুরছে।’

আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক দল অংশ নেবে না বলে আসছে- এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকার কী ভাবছে? এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়া যেকোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না। তবে চাইবো- সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অনেক হুমকি দিচ্ছে। এটাই তো তাদের কাজ। যত উন্নয়নই হোক, বিরোধিতা করাটাই তাদের কাজ। তবুও তারা যদি শক্তিশালী হতো, তাহলে অনেক কিছুই হতে পারতো।

আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন কাউন্সিলরও যদি আমাকে না চায়, তাহলে আমি থাকবো না। দীর্ঘদিন হয়ে গেছে। আমি অবশ্যই চাই আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব আসুক। নেতৃত্ব কাউন্সিলররা ঠিক করেন। কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তটাই চূড়ান্ত।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় পরিণত হয়েছি। এখন বিদায় নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।

জাগরণ/রাজনীতি/এসএসকে/এমএ