• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০১৯, ০৮:০৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১০, ২০১৯, ০৮:০৯ পিএম

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন হাজিরা

জাগরণ ডেস্ক
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন হাজিরা

আরাফাত ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। শনিবার (১০ আগস্ট) ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)- লাখো কণ্ঠে এই একই ধ্বনিতে আজ হাজিরা সেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন।

সূর্যোদয়ের পর লাখ লাখ হাজি মিনা থেকে রওনা হন আরাফাতের ময়দানের দিকে। ট্রেনে, বাসে ও হেঁটে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে হাজির হন। হজের তিন ফরজের মধ্যে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির আকুল বাসনায় লাখ লাখ হাজি মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করেন। কেউ কেউ যান জাবালে রহমতের কাছে। আবার কেউ কেউ যান মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা শুনতে।

৮ জিলহজ এশার নামাজের পর আরাফাতে যাওয়ার গাড়িগুলো আসতে শুরু করে। অনেকেই কোরআন শরিফ, হাজি ম্যাট এবং কিছু ব্যবহার্য জিনিস নিয়ে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা দেন। আরাফাতের ময়দানে হাজার হাজার তাঁবু টাঙানো আছে। তবে এগুলো অস্থায়ী।

আরাফাতের ময়দানে হাজিরা তাঁবুর ভেতরে ফজরের নামাজ পড়েন। তাঁবুর মধ্যেই নামাজ, ইবাদত বন্দেগি, দোয়া-দরুদ ও কোরআন শরিফ পড়েন। প্রতিটি তাঁবুর সামনেই খাওয়ার পানির পাত্র রয়েছে। কিছুদূর পরপর একসঙ্গে বেশ কয়েকটি টয়লেট। পুরুষ ও নারীদের টয়লেট আলাদা। টয়লেটগুলোর দুই প্রান্তে অজু করার জন্য কয়েকটি করে ট্যাপ আছে। অনেকেই ট্যাপগুলো থেকে পানি নিয়ে গোসল সেরেছেন।

আরাফাত ময়দান মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই ময়দানে অবস্থিত মসজিদটির নাম মসজিদে নামিরাহ। এই মসজিদের জামাতে অংশগ্রহণকারী হাজিরা জোহরের ওয়াক্তে এক আজান ও দুই ইকামতের সঙ্গে একই সময়ে পরপর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করে থাকেন। নামাজের আগে ইমাম সাহেব খুতবা দেন। নিয়ম হচ্ছে, কেউ মসজিদের জামাতে শামিল হতে না পারলে নিজ নিজ তাঁবুতেই জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। তবে সে ক্ষেত্রে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে না পড়ে জোহর এবং আসরের ওয়াক্তে আলাদা আলাদাভাবে পড়তে হবে। পরবর্তী কাজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেয়া।

আরাফাত থেকে মুজদালিফা যাওয়ার পথে মাগরিবের নামাজের সময় হলেও নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। মুজদালিফায় পৌঁছার পর মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে পড়তে হয়। মুজদালিফার খোলা প্রান্তরের খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়। কারণ, এই মুজদালিফায় আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.) খোলা প্রান্তরের খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। শয়তানের উদ্দেশে পরপর তিন দিন ছোড়ার জন্য ৭০টি পাথর এখান থেকেই সংগ্রহ করতে হয়।

মুজদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব, ফজরের নামাজ পড়ে দোয়া-দরুদ পড়ে সূর্যোদয়ের কিছু আগে মিনার উদ্দেশে রওনা দেয়া, পরবর্তী কাজ বড় জামারায় গিয়ে শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপ করা। জামারা হলো মিনা ময়দানে অবস্থিত তিনটি স্তম্ভ। এগুলোর নাম জামারাতুল উলা বা ছোট জামারাহ্‌, জামারাতুল উসতা বা মধ্যম জামারাহ্‌ এবং জামারাতুল কুবরা বা বড় জামারাহ্‌।

পাথর নিক্ষেপ- পরবর্তী কাজ হলো কোরবানি করা। হাজিরা কোরবানির টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে আগেই জমা দেয়ায় কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানে যেতে হবে না। জামারাহ থেকে বেরিয়ে পুরুষ হাজিদের মাথা মুণ্ডন করতে হবে।

১০ থেকে ১২ জিলহজ তাওয়াফে জিয়ারত করা হজের অন্যতম ফরজ কাজ। কাবা শরিফের তাওয়াফ শুরু করতে হয় হাজরে আসওয়াদ থেকে। ভিড়ের কারণে হাজরে আসওয়াদে স্পর্শ বা চুমু দেয়া সম্ভব না হলে ইশারায় চুমু দিতে হয়।

মসজিদুল হারামের চত্বরের একপ্রান্ত থেকে একটা পায়েচলা পথ জামারার দিকে চলে গেছে। রাস্তাটির বেশির ভাগ অংশই পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা টানেল। এই রাস্তার নাম আল রাহমাহ স্ট্রিট বা সহজে চেনার জন্য পায়ে হাঁটার পথ। টানেলের ভেতর পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা আছে। মাথার ওপর বিশাল সাইজের ফ্যানগুলো থেকে বিকট শব্দে বাতাস ছাড়া হয়। এই টানেল ছাড়াও গাড়িতে যাতায়াত করা যায়।

এমএ/এসএমএম

আরও পড়ুন

Islami Bank