• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ০৯:৩০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৫, ২০১৯, ০৯:৪৯ এএম

কিশোরগঞ্জে বসেছে ৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাক-ঢোলের হাট

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জে বসেছে ৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাক-ঢোলের হাট
কটিয়াদীতে বসেছে ৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাক, ঢোলের হাট -ছবি : জাগরণ

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এবারও বসেছে ৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাক-ঢোলের হাট। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় সর্ব প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। তখন থেকেই প্রতি বছর এখানে বসছে ঢাকীর হাট। ৩দিন ব্যাপী আয়োজিত এই হাটের শেষ দিন আজ শনিবার (৫ অক্টোবর)।

প্রায় ৫শত বছরের এ ঢাকীর হাটকে ঘিরে সরগম হয়ে উঠেছে কটিয়াদীর সর্বত্র। হরেক রকমের বাদ্যযন্ত্রসহ পছন্দের ঢাকীদের বেছে নিতে দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামন্ডপের লোকজন আসেন এখানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরবর্তী কটিয়াদী পুরাতন বাজার এলাকায় এই হাট বসেছে। পাশ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকে ঢাকীরা পূজার মৌসুমে এখানে এসে জমায়েত হয়। ঢাক-ঢোল, কাঁসি-সানাই, ঝনঝনিসহ বিভিন্ন ধরণের বাঁশিসহ কয়েক হাজারো বাদ্যযন্ত্রের পসরা বসে এখানে। নেচে গেয়ে বাদ্যযন্ত্র বাদকরা বায়নাকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টায় থাকেন। ভাড়ায় নিতে আসা পূজা আয়োজকদের কাছে প্রতিযোগিতামূলক নাচ-গান করে নিজেরদের ভাল বাদক হিসেবে প্রচার করতে থাকেন। সাধারণত একটি ঢাক ১০/১২ হাজার টাকা, ঢোল ৪/৫ হাজার টাকা, বাঁশি প্রকার ভেদে দুই হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, ১০/১২জনের ব্যান্ড পার্টি ৭০হাজার থেকে ১লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া হয়।

ঢাকী ও বাঁশি বাদকরা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে এখান থেকে ভাড়ায় গিয়ে তাদের ভালই রোজগার হয়। তাছাড়া দুর্গা মায়ের আর্শীবাদও পান তারা। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাজার দেশের একমাত্র ঢাক-ঢুলিহাট বলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোণা, সোনামগঞ্জ, রাজশাহী, খুলনা, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক দুর্গা পূজার আয়োজকরা এই হাট থেকে বাদ্যযন্ত্রীদের ভাড়ায় নিয়ে যান। এখানকার বাদকদের বাজনার মানও ভাল বলে জানায় ভাড়ায় নিতে আসা ক্রেতারা।

কয়েকজন বাদ্যযন্ত্র বাদক জানায়, আমরা অনেক দূর থেকে ১৫-২০ বছর যাবত এই হাটে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসছি। ২-৩ তিন দিন পর্যন্তও আমাদের এই হাটে থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এই হাট অনেক পুরনো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকী ভাড়া করতে হাজার হাজার লোকজন আসে। কিন্তু জায়গা ছোট হওয়ায় হাটে আসা লোকজন ও ঢাকীদের জায়গার সংঙ্কুলন হয় না।

তত্ত্বাবধানকারী সংগঠন কটিয়াদী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বেনী মাধব ঘোষ দৈনিক জাগরণকে জানান, এ ব্যাপারে সরকারি হস্তক্ষপ কামনা করা হয়েছে। পূর্বেই বাদকদের থাকার জন্য একটি সিড ও টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী হাটে বাদ্যযন্ত্র বাদকদের থাকার ব্যবস্থার জন্যও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। 

কটিয়াদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আ. ওয়াহাব আইনউদ্দিন জানান, ৫শ বছরের এই ঢাকের হাটকে ধরে রাখতে স্হানীয় সংসদ সদস্য, পৌর মেয়রসহ সকল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য আলোচনা হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর ঢুলির হাটের আগেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

একেএস 

আরও পড়ুন