• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২০, ০৫:০৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ৪, ২০২০, ০৫:০৬ পিএম

এসো জাগরণের পথে

ধর্মের নামে বর্বরতা ও লাখো আলেমদের তওহীদী বিপ্লব

এস এম সাব্বির খান
ধর্মের নামে বর্বরতা ও লাখো আলেমদের তওহীদী বিপ্লব
প্রতীকী ছবি

সারা বিশ্বের বুকে শান্তি বিনাশী এক প্রক্রিয়ার নাম হচ্ছে ধর্মের নামে সৃষ্ট সন্ত্রাসবাদ। প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রেই ধর্ম অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ইস্যু। সাম্প্রতিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দ্বারা শান্তির ধর্ম ইসলামের মানক্ষুন্ন করা ও বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের বিতর্কিত করার লক্ষ্যে চলমান রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। মুসলিম সম্প্রদায়ের বুকে লালিত কোরআন-হাদিসের প্রতি ভালোবাসাকে সে কাজে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্য অনেক স্থানের মতই বহুবার এই কথিত মৌলবাদীদের ভ্রষ্ট দীক্ষার প্রভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের অনেক মুসলিম তরুণ। ইলম ও জিহাদের নামে কোরআন ও সুন্নাহর সত্যতাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে ভুল নির্দেশনা, উস্কে দেয়া হয়েছে জঙ্গিবাদ। ধর্মীয় অনুরাগকে ধর্মান্ধতায় পরিণত করে দেশের সন্তানদের হাতেই দেশের বুকে ঘটানো হয়েছে হলি আর্টিসানের মত  নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোড়োন সৃষ্টি করেছিলো, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বুকে জেগে ওঠা- ইসলামের মহতি সাধকদের এক আলোকিত তওহীদী বিপ্লব। যার প্রেক্ষাপট ও মূলপ আলোচ্য অংশ এখানে উপস্থাপন করা হলো। 

ইসলামে জঙ্গিবাদ নিষিদ্ধ। ধর্মের নামে কাউকে হত্যা বা আত্মঘাতী হওয়া হারাম। এই ধর্মের নামে এই হারাম কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঈমানের আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশের ইসলামিক সত্যান্বেষীরা। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতারা সে সময় একটি ফতোয়া দিয়েছেন। এতে ১ লাখ মুফতি, আলেম, ওলামা, ইমাম স্বাক্ষর করে সমর্থন জানিয়ে ছিলেন। শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসাগুলোর ফতোয়া বিভাগও একই অভিমত ব্যক্ত করে। আর পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ ফতোয়াটিকে সঠিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 

২০১৯ সালের ১৭ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফতোয়া প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে ১ লাখ আলেম-ওলামার স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। দস্তখত সংগ্রহ কমিটির আহ্বায়ক শোলাকিয়ার ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ জানান, ধর্মের নামে তরুণ শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়াচ্ছে জঙ্গিরা। আমাদের উদ্দেশ্য এই তরুণদের সুপথে আনা। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) স্বয়ং সন্ত্রাসকে নিষিদ্ধ করেছেন। তারপরও যারা এমন কাজ করছে তাদের জানাতে চাই, ইসলাম কোনো ধরনের হত্যাকা-কে সমর্থন করে না। ইসলামে সন্ত্রাস হারাম। বিপথগামীদের কারণে যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী মনে করেন তাদেরও জানাতে চাই, ইসলামে সন্ত্রাসের স্থান নেই।

ফতোয়াটির শুরুতেই সূরা মায়েদা (আয়াত ৩২), সূরা আরাফ (আয়াত ৭৭), সূরা কাসাস (আয়াত ৮৫) ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, নিরপরাধ কাউকে হত্যা মানে গোটা মানবজাতিকে হত্যার মতো গর্হিত অপরাধ। সন্ত্রাস ও দুর্যোগ সৃষ্টি ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ সন্ত্রাসীদের পছন্দ করেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে একের পর এক গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটছে। লেখক, ব্লগার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনুসারীরা হত্যার শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইসলামের নামধারী কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন এসব হত্যায় জড়িত। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ (এবিটি) কয়েকটি সংগঠন গুপ্তহত্যায় জড়িত বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের প্রধান কেন্দ্র হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগও অভিমত দিয়েছে, জঙ্গিবাদ হারাম। একই অভিমত দিয়েছে, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার। চরমোনাইর পীরের মাদ্রাসাও বলেছে, ইসলামের নামে হত্যা হারাম।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, কোরআন-হাদিসের আলোকে মুফতি ও ধর্মবেত্তাদের দেওয়া মতামত (ফতোয়া) সবাইকে মানতেই হবে। ফতোয়ার ভূমিকায় বলা হয়েছে, ‘ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস করছে, তারা বেহেশত লাভের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা করছে। কিন্তু তা বেহেশতের নয়, জাহান্নামের পথ।’ ফতোয়ায় কোরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জিহাদ ও সন্ত্রাস এক নয়; বরং ইসলামে বলা হয়েছে, যুদ্ধাবস্থা হলে মীমাংসা করে দাও। ইসলাম যুদ্ধ সমর্থন করে, তবে তা অনেক শর্তযুক্ত। সূরা হজ (আয়াত ৪) উদ্ধৃত করে ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে হামলা করা হারাম। আল্লাহতায়ালা নিজেই তা নিষিদ্ধ করেছেন।

আলেম-ওলামাদের কাছে ১০টি প্রশ্ন রেখেছিল জমিয়তুল উলামা
জঙ্গিবাদীরা পবিত্র কোরআনের সূরা তওবার ৫ নম্বর আয়াতকে ব্যবহার করে হত্যাকা- চালাচ্ছে। এ আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম অস্বীকারকারীকে হত্যা করা বৈধতা পেতে পারে কি-না? এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল ১ লাখ মুফতির কাছে। তারা সহিহ মুসলিম ২ :২৩৬ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, শুধু মানুষ নয়, কোনো প্রাণীকে হত্যার বৈধতা ইসলাম দেয় না। সূরা বাকারার ২০৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা মুনাফেকের কাজ। মুসনাদে আহমাদের ৭০৭৬ নম্বর হাদিস উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি যার কাছে সব মানুষ নিরাপদ।

এই আলোচনায় ইসলাম কায়েমে বর্বর ও হিংসার পথ ব্যবহার করা যাবে না বলে মতামত দিয়েছেন আলেমরা। পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে স্বয়ং হজরত মুহম্মদকে (সা.) আল্লাহতায়ালা এ নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলাম প্রচার করতে বলা হয়েছে। কাউকে তা গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না। সূরা ইয়াসিনে বলা হয়েছে, ‘স্পষ্টভাবে প্রচার করাই আমাদের দায়িত্ব’ (আয়াত ১৭)। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে, ‘দ্বীনের ব্যাপারে জবরদস্তি নেই। (আয়াত ২৫৬)’।

ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদী, বর্বর গুপ্তহত্যাকারীদের জানাজা পড়াও হারাম
ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ও আত্মঘাতী হামলাকে ‘হারাম, জঘন্য অপরাধ ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করে ফতোয়া জারি করেছেন দেশের লক্ষাধিক মুফতি, ওলামা ও আইম্মা। গত ১৮ জুন রাজধানীতে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই ফতোয়া প্রকাশ করে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মের নামে সন্ত্রাসকারী, জঙ্গি, গুপ্তহত্যাকারীদের জানাজা পড়াও হারাম। ইসলাম এদের কখনই শহীদের মর্যাদা দেয় না। বরং যারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মারা যাবেন তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন। 

অমুসলিমদের গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ইত্যাদি উপাসনালয়ে হামলা প্রসঙ্গে বলা হয়, এমন সকল কাজ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশের বিশিষ্ট মুফতি, আলেম ও ইমামরা এই বলে ফতোয়া দিয়েছেন যে, ইসলামের নাম ব্যবহার করে কতিপয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশে মহাগ্রন্থ কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এরা ইসলামের কেউ নয়। এরা ইসলামের শত্রু। মানুষের চোখে ইসলামকে এরা একটা বর্বর নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসী ধর্মরূপে চিত্রিত করছে। জিহাদ ও সন্ত্রাস একই জিনিস নয়। 

আলমগণের দাবি, জঙ্গিদের অনেকেই ‘জিহাদী’ বললেও তারা আসলে সন্ত্রাসী। ইসলাম সন্ত্রাস সমর্থন করে না। আর যারা বেহেশত পাওয়ার আশায় আত্মঘাতী হামলা করছে, বলছে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’, তারা কোরআন ও হাদিসের আলোকে বেহেশত পাবে না।’ তাদের স্থান নিশ্চিত দোজখে। ‘মুসলিম সমাজে বসবাসকারী অমুসলিমকে যদি কেউ হত্যা করে, সে বেহেশতের গন্ধও পাবে না।’ অমুসলিমদের গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ইত্যাদি উপাসনালয়ে হামলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত প্রায় দুই বছরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, অধ্যাপক, বিদেশি, হিন্দু পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে একই কায়দায় হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো এ ধরনের শক্ত মতামত এলো। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট মুফতি, আলেম ও ইমামরা। 

বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মুফতি-মাওলানা ও আলমগণের এই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল ওলামার সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী, নূরুল উলূম কুলিয়ারচরের প্রিন্সিপাল মুফতি আবদুল কাইয়ুম খান, বাংলাদেশ জমিয়াতুল ওলামা ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইফী, সার্কিট হাউস জামে মসজিদের খতিব ও জামি’আ ইকরার প্রিন্সিপাল মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, খুলনা মাদানীনগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, বাংলাদেশ জমিয়াতুল ওলামা ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, ফতোয়ার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়জী, বাংলাদেশ জমিয়াতুল ওলামা ময়মনসিংহের আহ্বায়ক মাওলানা উবায়দুর রহমান, ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি মুফতি শরফউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা হোসাইনুল বান্না প্রমুখ।

ফতোয়া প্রকাশ, পরিকল্পনা, কর্মসূচি 
সংবাদ সম্মেলনে ফতোয়া প্রকাশ করেন ১ লাখ আলিম, মুফতি ও ইমামগণের ফতোয়া ও দস্তখত সংগ্রহ কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল ওলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। 

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তিবাদী, উদার, সহিষ্ণু এবং অসাম্প্রদায়িক এক ভারসাম্যপূর্ণ সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। মহান রাব্বুল আলামীন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন সারা আলমের প্রতিটি বস্তুর জন্য রহমত এবং করুণার আধার হিসেবে। তার এবং তার সঙ্গী সাহাবীগণের জীবনে মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতার ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় আজ কতিপয় দুষ্কৃতকারী নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশে মহাগ্রন্থ কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামের নামে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মানুষের চোখে ইসলামকে একটা বর্বর নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসী ধর্মরূপে চিত্রিত করছে। এতে সরলমনা কেউ কেউ বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞ এই আলেম আরো বলেন, এই উগ্রজঙ্গিবাদীরা মূলত ইসলাম ও মুসলিমদেরই শত্রু নয়, মানবতারও শত্রু। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, আফ্রিকার দেশসমূহ কীভাবে ছারখার হয়ে যাচ্ছে, তা আজ কারও অজানা নেই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আজ হুমকির সম্মুখীন। তাই বিষয়টি স্পষ্ট যে, এদের হৃদয় বৈকল্য বিদূরিত করা না গেলে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে এদের দমন করা সম্ভব নয়। কারণ এই সন্ত্রাসীরা তো ধর্মের নামে আত্মদানে প্রস্তুত। তাদের চৈতন্যের বিভ্রম দূর করা দরকার সবার আগে। ইসলামের সঠিক ও বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা তুলে ধরে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষে তা করা সম্ভব।

ফতোয়ায় স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট মুফতি ও আলেমগণ 
বেফাকুল মাদারিসিল আরবি বাংলাদেশ-এর সহ সভাপতি, মাওলানা আশরাফ আলী, দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর প্রধান মুফতি, মাওলানা মুফতি আবদুস সালাম, আল জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রামের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি আবদুল হালিম বুখারী, জামিয়া দারুল মা’আরিফ, চট্টগ্রামের প্রিন্সিপাল, মাওলানা সুলতান যওক্ব নদভী, দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মুফতি মাওলানা নূর আহমদ, জামিআ আরাবিয়া এমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ, ঢাকার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, পূর্ব সিলেট আযাদ দ্বীনী এদারা বোর্ডের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ বিন ইদ্রীস লক্ষ্মীপুরী, পূর্ব সিলেট আযাদ দ্বীনী এদারা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী, জামিয়াতুস সাহাবা উল্টরার প্রিন্সিপাল আামীন উজানবী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, খাদিমুল ইসলাম গওহরডাংগা মাদরাসার প্রিন্সিপাল, মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন। আরও আছেন মাওলানা মুফতি মনসুরুল হক, মাওলানা মুফতি নুরুল হক জকিগঞ্জী, মাওলানা নোমান ফয়জী, মাওলানা মুফতি আবদুল হক, মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান, মাওলানা আবদুল হক হক্কানী, মুফতি ইউসুফ শেমপুরী, মাওলানা আনোয়ারুল করীম যশোরী, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা মুফতি আবুল কাসিম, মাওলানা নাসিরুদ্দীন, সিনিয়র মুহাদ্দিস, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ, মাওলানা শওকত সরকার, মাওলানা হাফিজুদ্দীন, প্রিন্সিপাল, মাওলানা আনাস, মুফতি সাইয়্যিদ নুরুল করীম, মাওলানা আবদুল আওয়াল, মাওলানা হেলাল আহমদ প্রমুখ।
আছেন নারী আলেমা ও মুফতি : সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত লাখো আলেমের ফতোয়ায় অংশ নিয়েছেন নারী আলেমরাও। দেশের ৯ হাজার ৩২০ জন নারী আলেমা স্বাক্ষর করেছেন জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়ায়। ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আমাদের দেশে মহিলাগণের মাঝেও বিপুলসংখ্যক আলিম ও মুফতির আবির্ভাব ঘটেছে। এই ফতোয়ায় মহিলা আলিম ও মুফতিগণেরও দস্তখত নেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বেশ সাড়াও পাওয়া গেছে। বর্তমান বিশ্বে এটা একটা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নয়া সংযোজন। 

দেশের নারী আলেমরাও জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের মহিলা মাদ্রাসাগুলোয় এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়। মহিলা মাদ্রাসার মধ্যে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদ্রাসা, দুর্লভপুর দারুল হাদিস মহিলা মাদ্রাসা সিলেট, বারুতখানা দারুল হাদিস মহিলা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য।

স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদ্রাসার আলেমা তানজিলা আফরিন, উম্মে হাফছা, আমেনা, কুলসুম রিমা, খাদিজাতুল কুবরা, তানজিম তাসফিয়া দিনা, আনিকা আহাদ, ফাতেমা খাতুনসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে। এ মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল চরমোনাই পীরের ভাই মাওলানা মুসতাক আহমদ। নরসিংদী জেলার কয়েকটি মহিলা মাদ্রাসার নারী আলেমদের মধ্যে রয়েছেন আলেমা মোসা তৈয়্যবা, উম্মে সালমা, আমিনা, সুরাইয়া, মাকসুদা, তাসফিয়া, মুশফিকাসহ আরও অনেকে।