• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০১৯, ০৩:০২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ৭, ২০১৯, ০৩:০৪ পিএম

ওয়েলসের গবেষণাগারে জীবন্ত লাল ড্রাগন!

এস এম সাব্বির খান
ওয়েলসের গবেষণাগারে  জীবন্ত  লাল ড্রাগন!

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্যতম অঙ্গরাজ্য ওয়েলসের ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করছেন যে ইউরোপীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রাগৈতিহাসিক ওয়েলসের লাল ড্রাগন কোন কাল্পনিক প্রাণী নয় বরং বাস্তবেই এর অস্তিত্ব ছিলো।

তাদের এই দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ সামনে আনার আগে তারা বলেছিলেন, আমরা জানি আধুনিক বিজ্ঞানের এই যুগে প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়া এমন দাবি অমূলক।  তবে এরইমধ্যে রেড ড্রাগনের অস্তিত্ব প্রমাণের কার্যক্রম চলছে এবং অল্পদিনের মধ্যেই সেই প্রমাণটি সামনে এনে সারা বিশ্বকে চমকে দেয়া হবে।

ওয়েলসের পতাকায় ঐতিহ্যবাহি রেড ড্রাগন- ছবি: ইন্টারনেট

ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েব সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেলে জানা যায়, তাদের দাবি, সুদীর্ঘ সময় ধরে চালানো ব্যাঙ্গর গবেষকদের এই বিশেষ অনুসন্ধান ও গবেষণা কার্যক্রম অবশেষে অভূতপূর্ব সাফল্যের মুখ দেখেছে।  আর এর প্রেক্ষিতে তারা যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন তা সত্যিই পুরো বিশ্বকে হতভম্ব করে দিয়েছে!

২০১৮ সালের মাঝামাঝি তাদের এই সাফল্যের নিদর্শন হিসেবে তারা বিশ্বের সামনে প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেন একটি জীবন্ত রেড ড্রাগন শাবক।  বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকগণ একদল জীব বিজ্ঞানীর সহায়তা নিয়ে প্রাগৈতিহাসিক রেড ড্রাগনের বংশধর উদ্ভাবনে এই অকল্পনীয় সাফল্য অর্জনের দাবি জানান।  সম্প্রতি নিজেদের ওয়েব সাইটে এক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তাদের সেই দাবিকে আস্থার সাথে জানান দিলেন বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, ঐতিহাসিক তথ্য মতে বিগত ৫'শ বছরের মধ্যে এটাই প্রথম কোন রেড ড্রাগনের জন্মের ঘটনা।

শিল্পীর কল্পনার রঙ, তুলিতে এভাবেই প্রকাশ দিয়েছে প্রাগৈতিহাসিক রেড ড্রাগনের- ছবি: ইন্টারনেট   

সমন্বিত এই গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নেয়া জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী, ওয়েলসের বিশিষ্ট জেনেটিক্স সায়েন্সের গবেষক ও প্রাণী বিজ্ঞানী ড. হ্যানরি ও-এর বরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য মতে জানা যায়; এই গবেষণা কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান , মূলত একটি অনুসন্ধানী কাজের এক পর্যায়ে তারা বেশ চাঞ্চল্যকর একটি জিনিসের সন্ধান পান। আর এর সূত্র ধরেই শুরু হয় রেড ড্রাগনের সত্যতার খোঁজ।  এক অনুসন্ধানী কাজে গিয়ে ওয়েলসের উপকূলবর্তী গহীন অরণ্যের মাঝে এক ধরনের গাছের খোঁজ পান বিজ্ঞানীরা।  যাদের গায়ে এক বিশেষ ধরনের আঠালো রঞ্জক কষের মত নির্গত হয়।  তবে দীর্ঘ সময় বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে এই কষ বেশ পুরু ও শক্ত চাঁচের স্বচ্ছ নিরেট-পিন্ডের মত জমাট বেধে গাছগুলোর গায়ে লেগে থাকে।

ব্রিটিশ পাউন্ডের ধাতব কয়েনে ব্যবহৃত রেড ড্রাগনের প্রতিকৃতি- ছবি: ইন্টারনেট

তিনি বলেন, হাজার বছর বয়সী বিশালাকার এই গাছগুলোর গায়ে লেগে থাকা জমাটা কষের স্বচ্ছ পিন্ডগুলোর অনেকগুলোর সাথে ক্ষুদ্রাকায় কীটপতঙ্গের দেহাংশ লেগে থাকতে দেখে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের অনুসন্ধানে ব্যবহৃত বিজ্ঞানের বিশেষ তত্ত্বটি তাদের পরিকল্পনায় আসে।  অর্থাৎ বরফাচ্ছাদিত ভূখন্ডের জমাট বরফ পিন্ড বা এই ধরনের গাছের গায়ের বিশেষ রঞ্জক কষের দলার ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গের মরদেহ অনুসন্ধানে প্রাণী বিজ্ঞানের এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেয়ার তত্ত্বটি, যা আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় মাইলফলক সৃষ্টি করেছে।

অনুসন্ধানের তথ্য মতে দাবি করা হয়, এমনভাবেই প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসরদের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে এক বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জন করেছিলো বিজ্ঞান।  আর এই ক্ষেত্রে ব্যাঙ্গরের গবেষকদেরও হতাশ করেনি প্রকৃতি।

ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল সাইটে প্রকাশিত রেড ড্রাগন শাবকের প্রতিবেদন- ছবি: ব্যাঙ্গর অ্যায় সাইট

ড. হ্যানরির তথ্য মতে, এই তত্ত্ব অনুসরনে চালানো দীর্ঘ অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে একটি গাছের গায়ে লেগে থাকা জমাট এমনই একটি পিণ্ড তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।  যার কারণ ছিলো ঐ পিণ্ডের ভেতর আটকে থাকা একটি মশার অক্ষত মরদেহ।  নিরেট এই কষের পিণ্ডগুলো বায়ু নিরোধক হওয়ায় ভেতরে থাকা মশার মরদেহটি পচন থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে তারা ধারনা করেন।

পিণ্ডটি সংগ্রহ করে নিয়ে আসার পর ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে তা নিয়ে শুরু হয় পরীক্ষা নিরীক্ষা। এক পর্যায়ে সেটি ড্রিল করে ভেতরে থাকা মশাটিকে বের করে আনেন তারা।  পরে গবেষণায় দেখা যায় এটি একটি স্ত্রী মশা।  বায়ো সেল পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় মশাটি প্রজননের জন্য প্রস্তুত ছিলো এবং এর পেটে অন্য একটি প্রাণীর রক্ত রয়েছে যা মশাটি আহার হিসেবে গ্রহণ করেছিলো।  সেই রক্তের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে বিশেষ ধরনের একটি মেরুদন্ডী প্রাণীর ডিএনএ (DNA) আবিষ্কৃত হয় যেটি বনশগতি বৃদ্ধিজনিত প্রজনন প্রক্রিয়া হিসেবে সরাসরি শাবক জন্ম না দিয়ে ডিম পারতো।

ওয়েলসের লোকগাঁথায় এভাবেই ঠাঁই পেয়েছে ড়েড ড্রাগনদের নিয়ে নানা গল্প- ছবি: ইন্টারনেট

এ সময় ড. হ্যানরি ও তার গবেষক দলটি বিভিন্ন প্রাণীর বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য গবেষণার পর ব্যতিক্রমধর্মী এই অজানা প্রাণীটির পরিচয় জানতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন।  রক্তের নমুনা থেকে সংগৃহিত ডিএনএ সেল ব্যবহার করে শুরু হয় কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণীটির ভ্রূণ সংরক্ষিত ডিম উৎপাদনের চেষ্টা।  সে কাজে সফল হবার পর শুরু হয় কৃত্রিম পদ্ধতিতে ডিমের ভেতরে থাকা ভ্রূনটিকে অনূকুল পরিবেশে পরিণত  করা।  সেই সাথে চলতে থাকে প্রতীক্ষা।

অবশেষে বিজ্ঞানীদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০১৮ সালের শেষদিকে ডীমের ভেতরের ভ্রূনটিতে প্রাণের সঞ্চার হয়। সকল সম্ভাবনা যাচাই করে নিয়ে বিজ্ঞানীরা এবার কৃত্রিম পদ্ধতিতে ডিম ফুটানোর কাজে হাত দেন। আর ডিম ফুটে যে নবজাতকটি বেরিয়ে আসে তা তাদের রীতিমত বিস্মিত করে দেয়।

ওয়েলসের ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়- ছবি: বিবিসি

ড. হ্যানরির ভাষ্য মতে, তারা অনেক সম্ভাবনাই ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে যা হলো তা ছিলো তাদের জন্য রীতিমত একটি অভাবনীয় ও অকল্পনীয় বিস্ময়! কারণ তারা অন্তত এই অতিকাল্পনীক রেড ড্রাগন শাবকের ডিম থেকে বেরিয়ে আসার কথা নাকি ভুলেও নিজেদের চিন্তার ত্রি-সীমানায় আনেননি।

শাবকটির একটি ছবিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রজাশিত প্রতিবেদনে সেই প্রাণীটিকে ওয়েলসের এই গবেষকদল রেড ড্রাগন শাবক বলেই নিশ্চিত ভাবে দাবি করেছেন। তবে এই শাবকটি সত্যই রেড ড্রাগনের প্রজাতি কিনা তা নিয়ে চলছে বিস্তর অনুসন্ধান।

Space for Advertisement