• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০, ০৬:৫১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০, ০৬:৫২ পিএম

ডাইনোসররাও ভয়ে কাঁপতো যে প্রাণি দেখে

সবিশেষ
ডাইনোসররাও ভয়ে কাঁপতো যে প্রাণি দেখে

খসখসে তো বটেই, প্রচণ্ড শক্ত চামড়া। বিশাল মজবুত দাঁত ও ইয়া বড়ো লম্বা লেজ। ঠিক যেন কুমির। আকারে কুমিরের থেকে খানিকটা বড়। পাগুলোও আরও একটু বেশি লম্বা এবং শক্তপোক্ত। এক বা দু’শ বছর নয়, ২৩ কোটি বছর আগে এই পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াতো কুমিরের এই আত্মীয়। যাদের দেখে ভয়ে কাঁপতো ভয়ানক প্রাণি ডাইনোসররাও। আনন্দবাজার পত্রিকা অবলম্বনে কুমিরের সেই ভয়ানক আত্মীয়ের কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন এসএম মুন্না

সম্প্রতি এমনই প্রাণির জীবাশ্মের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ ব্রাজিলের আগুডোয় মাটি খুঁড়ে এই প্রাণির জীবাশ্ম পেয়েছেন তারা। অ্যাকটা প্যালিওনটোলজিক্যাল পোলোনিকা নামে জার্নালে তা প্রকাশিত হয়েছে।

জার্নালের দাবি— এই প্রাণির শক্ত ও ধারালো দাঁত ডাইনোসরদের হাড় গুঁড়িয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখতো।

এখন যেমন কুমির দেখতে আমরা অভ্যস্ত, অনেকটা সে রকমই দেখতে ছিল এগুলো। চারপেয়ে এই প্রাণি পেছনের পা দুটো মূলত জোরে দৌড়ানোর জন্য কাজে লাগাতো। এদের নাম ডি কলিসেনসিস।

দৈর্ঘ্যে সাত ফুট পর্যন্ত লম্বা হতো এরা। মুখটাও কুমিরের মতো লম্বাটে। আর সেই লম্বাটে মুখের ভেতর শক্ত চোয়ালে উঁকি দিত ব্লেডের মতো দাঁতের সারি।

১৯ শতকে স্কটল্যান্ডে একটা এবং ৫০ বছর আগে আর্জেন্টিনায় কলিসেনসিসের দুটো জীবাশ্ম মিলেছে। সম্প্রতি মিললো ব্রাজিলে। এই নিয়ে বিশ্বে মাত্র চারটি জীবাশ্ম মিলল।

ব্রাজিলে এই ধরনের প্রাণির জীবাশ্ম পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা। সে সময়ে এই প্রাণি এই অঞ্চলের ইকোসিস্টেমে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

যে জীবাশ্মটি উদ্ধার হয়েছে, তার শরীরের হাড়, মাথার খুলি প্রায় একইরকম রয়েছে। খুব একটা ক্ষয় হয়নি। এগুলো থেকে গবেষণার মাধ্যমে সে সময়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

কলিসেনসিসের খুলি এবং দাঁত পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন— ভয়ঙ্কর এই প্রাণি কিন্তু তুলনামূলক শান্ত স্বভাবের ছিল। সাধারণত মৃত প্রাণিদেরই হাড়-মাংস খেতো এরা। প্রয়োজনে তার আকারের চেয়ে বড় প্রাণিকেও নিমেষে মেরে ফেলতে পারতো কলিসেনসিস।

বাস্তুতন্ত্রের ফুড চেনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কারণ তাদের মুখে থাকা উৎসেচক মৃত প্রাণিগুলোর প্রোটিন-শর্করা সহজ উপাদানে ভেঙে ফেলতো।

সেই উপাদানগুলো মাটিতে মিশে মাটি উর্বর করে তুলতো। মাটি থেকে পুষ্টিগুণ নিয়ে গাছ বড় হতো, সেই গাছ খেয়ে বেঁচে থাকতো শাকাহারি প্রাণিরা। এইভাবেই এগিয়ে চলত ফুড চেন।

এসএসএম