• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২০, ০৬:১২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২০, ২০২০, ০৬:১২ পিএম

নিরাপদ ঠিকানায় মহাকাশ স্টেশনের ত্রয়ী

জাগরণ ডেস্ক
নিরাপদ ঠিকানায় মহাকাশ স্টেশনের ত্রয়ী

বর্তমানে ১৯৫টি দেশ রয়েছে বিশ্বে। অর্থাৎ করোনা-মুক্ত দেশ মাত্র ৩০টি। কত দিন থাকবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ব্রাজিলের আওয়া, কাওয়াহিবা, ভেনেজুয়েলার ইয়ানোমামি বা আন্দামানের সেন্টিনেলিদের মতো হাতে গোনা কয়েকটি উপজাতিই বাকি বিশ্বের সংসর্গ থেকে দূরে থাকে। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময় এর।

নিরাপদ স্পেস স্টেশনে কমলেশ চৌধুরী। #আর্থস্ট্রং। দিস শ্যাল টু পাস! বুক বাঁধো বিশ্ব। এই দুঃসময়ও পেরিয়ে যাবে।

একটি প্রবাদ স্মরণ করিয়ে করোনাভাইরাসে ত্রস্ত দুনিয়াকে শক্ত হওয়ার বার্তা দিলেন বছর বিয়াল্লিশের তরুণী। সেই বার্তা এল এমন এক জায়গা থেকে, যা এই মুহূর্তে মানবজাতির কাছে সবচেয়ে নিরাপদ। করোনা-ছোঁয়াচ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। জায়গাটি আকাশবাড়ি, পোশাকি নাম আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। রয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২২ কিলোমিটার দূরে।

টুইটটি করেছিলেন জেসিকা মাইয়ার। মহাকাশ স্টেশনে যে তিন মহাকাশচারী এই মুহূর্তে রয়েছেন, নাসার জেসিকা তাদের মধ্যে একজন। গত বছরের অক্টোবর থেকে মহাকাশে রয়েছেন তিনি। তার দুই সঙ্গী রাশিয়ার ওলেগ স্ক্রিপোচকা ও নাসার অ্যান্ড্রু মর্গ্যান। ওলেগ ছাড়া দু’জনেই টুইটারে সক্রিয়। নিজস্ব টুইটার হ্যান্ডেল রয়েছে মহাকাশ স্টেশনেরও। বিশ্বের ১৯৫টি দেশ যখন করোনার হানায় বিধ্বস্ত, তখন মহাকাশের বাসিন্দা ত্রয়ীর কী প্রতিক্রিয়া, তা জানতে উৎসাহের শেষ নেই নেটিজেনদের। তারা টুইট করলেই প্রশ্ন আছড়ে পড়ছে টুইটারে। কারও অনুসন্ধিৎসু মন, কেউ আবার মশকরায় ব্যস্ত।

মিশন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) নতুন তিন মহাকাশচারীর মহাকাশ স্টেশনের পথে পাড়ি দেয়ার কথা। তাদের কাজ বুঝিয়ে ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) ফিরে আসার কথা জেসিকা, অ্যান্ড্রু, ওলেগদের।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে টুইট করে এপ্রিলের পালাবদলের কথা উত্থাপন করে মহাকাশ স্টেশন। তাতেই রে রে করে ওঠেন নেটিজেনরা। জেন হান্টার নামে স্কটল্যান্ডের এক তরুণ লেখেন, ‘ওখানেই সবচেয়ে নিরাপদে রয়েছেন ওঁরা। নাসার উচিত মিশন পিছিয়ে দেয়া।’

ইংল্যান্ডের জেসন হাচিসনের মন্তব্য, নিচে সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে। ওঁরা উপরেই থাকুন।

এমনিতে মহামারীর মধ্যে অপারেশন কীভাবে হবে, তার নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর। যাতে মহাকাশযান সয়ূজের গাঁ ঘেঁষে করোনার ছোঁয়াচ মহাকাশ স্টেশনে না পৌঁছায়। যেমন জেসিকাই এদিন বলেছেন, সংক্রমণ রুখতে মহাকাশ স্টেশনে কোনও কিছু ঢোকাতে বা বের করতে আমরা গ্লাভব্যাগ ব্যবহার করি। 

সেই গ্লাভব্যাগ কেমন দেখতে, তার ছবিও দিয়েছেন জেসিকা। লেখেন, পৃথিবীতে যাই ঘটুক, মহাকাশ স্টেশনের গবেষণা চলতেই থাকবে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে সেন্ট প্যাট্রিকস ডে উপলক্ষে মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা অরোরা বোরিয়ালিসের ছবি তুলে পোস্ট করেছিলেন জেসিকা। সেই টুইটের নিচে মেরুপ্রদেশের আলো নিয়ে কম, করোনাভাইরাস নিয়ে বেশি কথা হয়েছে। জম্মুর জাম্বু চিড়িয়াখানার ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন অমিত শর্মা লিখেছেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। আপনারা করোনাভাইরাস থেকে অনেক দূরে রয়েছেন।’

কথায় কথায় এসেছে সামাজিক দূরত্বের কথাও। যেমন- কানাডার লেখক ও আর মেলিং মন্তব্য করেন, সামাজিক দূরত্বের চরম উদাহরণ। 

আমেরিকার অ্যানিমেটর ফেডোরা মার্কের মুখেও এক কথা, আপনারাই সামাজিক দূরত্বকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন! 

টেক্সাসের বাসিন্দা উমবের্তো ওলাস্কোয়াগার পরামর্শ, ‘পৃথিবীর জনজীবন ধীরগতিতে চলছে। যাতায়াত কমে গিয়েছে। কমেছে দূষণও। আপনাদের কাছে এটা পৃথিবীকে নিয়ে অন্যভাবে গবেষণার করার একটা সুযোগ।

নেদারল্যান্ডসের জ্যাক হার্কনেস আবার লিখেছেন, দারুণ। করোনামুক্ত জায়গা। ওখানেই থাকুন।

বিশ্ববিমুখ এই আচরণই চলতি সময়ে এখন তাদের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। ধরাধামের বাইরে আকাশবাড়ি তার চেয়েও বেশি সুরক্ষিত।

এসএমএম