• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯, ১৪ আষাঢ় ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০১৯, ০৫:০৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ১১, ২০১৯, ০৫:০৯ পিএম

বিশ্বকাপে অমর হয়ে থাকবেন যে তিন সহযোগী দলের ক্রিকেটার

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে অমর হয়ে থাকবেন যে তিন সহযোগী দলের ক্রিকেটার
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেভিন ও‍‍`ব্রায়ানের ৫০ বলে সেঞ্চুরি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে চলছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে ১০টি দল। ১০টি দলই টেস্ট খেলুড়ে হওয়ায় এবার থাকছে না কোনো আইসিসি সহযোগী দেশের অংশগ্রহণ। 

তবে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে বরাবরই সহযোগী দেশগুলো বড় সব দলের জন্য হুমকি হয়ে এসেছে। বিশেষ করে ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়া তো সেমিফাইনালে উঠে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল! 

আজ থাকছে এমন তিন সহযোগী দেশের খেলোয়াড়ের কীর্তির কথা, যারা স্বমহিমায় বিশ্বকাপ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিয়েছেন।

কেভিন ও'ব্রায়েন (আয়ারল্যান্ড) 

যদিও আয়ারল্যান্ড এখন টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে স্বীকৃত, ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৩ বলে ১১৩ রানের ইনিংস খেলার সময় আইরিশরা ছিল কেবলই সাধারণ মানের একটি আইসিসি সহযোগী দল। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অমন দানবীয় ইনিংস খেলে বহু ক্রিকেটপ্রেমীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন কেভিন। 

আইরিশ ক্রিকেটের উত্থানে কেভিন ও নায়াল ও'ব্রায়ান ভ্রাতৃদ্বয়ের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তবে কেভিনের কীর্তি তাকে ক্রিকেট ইতিহাসেই অনন্য এক স্থান করে দিয়েছে। ব্যাঙ্গালোরের এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সেদিন ইংল্যান্ডের দেয়া ৩২৮ রানের বিশাল টার্গেট ৫ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় আয়ারল্যান্ড। ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৩ বলে ১১৫ রান করে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন কেভিন ও'ব্রায়েন। ৫০ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন কেভিন; যে রেকর্ড এখনও অক্ষত আছে। 

ডোয়াইন লেভারক (বারমুডা) 

২০০৭ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার সুযোগ করে নিয়েই সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল বারমুডা। ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপ হওয়ায় মাঠে বেশ সমর্থন আদায় করতেও সক্ষম হয়েছিল তারা। গ্রুপ 'বি'তে বারমুডা পেয়েছিল তিন এশিয়ান প্রতিপক্ষ ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে।

বিশ্বকাপের সেরা ক্যাচ?

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা বারমুডা প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে বিধ্বস্ত হয় ২৪৩ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরুতে বল করে প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান দেয় বারমুডা। পুঁচকে বারমুডার জন্য স্বপ্নের মতো শুরুই বলতে হবে! 

দ্বিতীয় ওভারে বারমুডার ১৭ বছর বয়সী পেসার মালাচি জোনস যেন স্বপ্ন সত্যি করেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম বলেই ভারতীয় ওপেনার রবিন উথাপ্পাকে আউট করে। তবে সেই উইকেটটির জন্য মালাচিকে নয়, ইতিহাস মনে রাখবে বারমুডার ফিল্ডার ডোয়াই লেভারককে। 

১২৭ কেজি ওজনের লেভারক ফিল্ডিং করছিলেন স্লিপে দাঁড়িয়ে। সেখান থেকেই ডাইভ দিয়ে সেদিন যে দুর্দান্ত ক্যাচটি ধরেছিলেন তিনি, কোনো ক্রিকেটপ্রেমীই হয়তো কখনো ভুলতে পারবেননা সেটি! 

সুলতান জারাওয়ানি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) 

বিশ্বকাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিষেক হয় ১৯৯৬ সালে। কিন্তু সেই দলের অধিনায়ক সুলতান জারাওয়ানিই ছিলেন একমাত্র আমিরাতি। বাকি সবাই ছিলেন ভারত কিংবা পাকিস্তান বংশোদ্ভূত। 

নির্ভীক মেজাজের জন্য আরব আমিরাতের ক্রিকেটারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন জারাওয়ানি। নইলে কেউ দক্ষিণ আফ্রিকান গতি তারকা অ্যালান ডোনাল্ডকে হেলমেট ছাড়া ফেস করতে যান! 

হেলমেট ছাড়াই অ্যালান ডোনাল্ডের পেস সামলাতে গিয়েছিলেন সুলতান জারওয়ানি! 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ডোনাল্ডের এক বাউন্সার আঘাত হানে জারওয়ানির মাথায়। ডোনাল্ড ভেবেছিলেন জারওয়ানি হয়তো মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি মুহূর্তেই উঠে দাঁড়ান এবং আবারও হেলমেট ছাড়াই ডোনাল্ডকে খেলতে থাকেন! 

৯০'র ক্রিকেট ভক্তরা সুলতান জারওয়ানির নির্ভীক চিত্তকে মনে রেখেছেন আজও। আর হ্যাঁ, সেই বিশ্বকাপে কিংবদন্তি ভারতীয় ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারের উইকেট লাভের গৌরবও অর্জন করেছিলেন জারওয়ানি! 

এমএইচএস  

Space for Advertisement