• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০১৯, ১১:০৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ১২, ২০১৯, ১১:৪৬ পিএম

নিজেদের আসল রূপ দেখিয়ে হারলো ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান  

ক্রীড়া ডেস্ক
নিজেদের আসল রূপ দেখিয়ে হারলো ‘আনপ্রেডিক্টেবল’  পাকিস্তান  

ম্যাচের শেষের দিকে এসে মনে হচ্ছিল এবারের বিশ্বকাপে হয়তো আরও একটি অঘটন ঘটাতে চলেছে পাকিস্তান। কেননা ইনিংসের মাঝপথে মাত্র ২৪ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসা দলটি লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করা ওয়াহাব রিয়াজের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তখন জয়ের স্বপ্নই দেখছিল। কিন্তু মিচেল স্টার্কের কল্যাণে তা আর হলো কই? দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ২৬৬ রানেই অলআউট করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। ফলাফল ৪১ রানের জয় অজিদের। 

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ইনিংস ছিল চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দারুণ ব্যাটিং-ই করছিলেন ইমাম-উল-হক ও মোহাম্মদ হাফিজ। ওপেনার ফখর জামান ও বাবর আজম সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর তারা বেশ ভালোই সামলাচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের। তবে ফিফটি তুলে নিয়েই বাজে শট খেলে আউট হন ইমাম (৫৩ রান)। অন্যদিকে, অযাচিত শট খেলে তার পথ ধরেন হাফিজও (৪৬ রান)।    

এদিকে দ্রুত এই দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর চাপে পড়ে শূন্য রানের উইকেট ছুঁড়ে আসেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। এরপর আসিফ হাসানও মাত্র ৫ রান করে সাজঘরের পথ ধরায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান।  

মূলত পাকিস্তানের হঠাৎ ব্যাটিং ধসের শুরু ইমামকে দিয়েই। প্যাট কামিন্সের খাটো লেন্থে ফেলা বল পুল করতে যেয়ে উইকেটের পেছনে থাকা অ্যালেক্স ক্যারের গ্লাভসবন্দী হন তিনি। আর পার্ট-টাইমার হিসেবে বোলিং করতে এসে ৪৬ রান করা হাফিজের মহামূল্যবান উইকেট তুলে নেন অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। 

এরপর ফের আঘাত হানেন কামিন্স। এবার দারুণ সুইংয়ে পরাস্ত করেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিককে। আর হাসান আলীকে ফেরান কেন রিচার্ডসন। উইকেটেই নেমেই মারমুখী অবতার নেয়া হাসান আলী মাত্র ১৫ বলে ৩২ রান করেন। তবে রানে-বলে ব্যবধান ঠিক রাখতে ওই বড় শট খেলতে গিয়েই কাঁটা পড়েন তিনি। তাকে ফেরান রিচার্ডসন। 

জয় থেকে তখন বহুদূরে পাকিস্তান। কিন্তু উইকেটে নেমেই পরীক্ষিত ব্যাটসম্যানের ভূমিকা নেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। উইকেটের একপ্রান্তে দলীয় অধিনায়ক সরফরাজ দায়িত্বশীলভাবে ব্যাটিং করতে থাকলেও তিনি নাকাচুবানি খাওয়ান অজি বোলারদের।

তবে ৪৪তম ওভারে ম্যাচের সমস্ত হিসেব-নিকেশ পাল্টে দেন স্টার্ক। গতিতে বোকা বানান দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা ওয়াহাবকে। উইকেটের পেছনে থাকা ক্যারের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে ৪৫ রান আসে ওয়াহাবের ব্যাট থেকে। এর ঠিক ১ বল পর মোহাম্মদ আমিরকে বোল্ড করে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন স্টার্ক। আর পাকিস্তান দল তাদের শেষ উইকেট হারায় ম্যাক্সওয়েলের অতিমানবীয় ফিল্ডিংয়ে। সরফরাজ ফাঁদে পড়ে আউট হন ৪০ রানে। তাতেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।   

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার কামিন্সের। অন্যদিকে, স্টার্ক ও রিচার্ডসন পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। 

এর আগে, টন্টনে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ৩০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। ওপেনার ফখর জামান শূন্য (০) রানেই সাজঘরে ফেরার পর উইকেটে সেট হয়ে বাবর আজম আউট হন ৩০ রান করে। 

পাকিস্তান তাদের প্রথম উইকেট হারায় দলীয় ২ রানে। প্যাট কামিন্সের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বল ফখরের ব্যাটের কানা ছুঁলে থার্ড ম্যান অঞ্চলে থাকা কেন রিচার্ডসন তা লুফে নেন। 

এরপর উইকেটে এসে ইমাম-উল-হককে নিয়ে এগোতে থাকেন বাবর আজম। বেশ দারুণ কিছু শটও আসে তার ব্যাট থেকে। তবে নাথান কুল্টার-নাইলের শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে থাকা রিচার্ডসনের দ্বিতীয় ক্যাচে পরিণত হন তিনি।

এসএইচএস 

Islami Bank