• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০১৯, ০২:২৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১১, ২০১৯, ০২:৫২ পিএম

রোড টু সেমিফাইনাল 

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ দৌড়ের আদ্যোপান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ দৌড়ের আদ্যোপান্ত
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই হাসি ধরে রাখতে পারবে অস্ট্রেলিয়া?

ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নামের পাশে পাঁচ-পাঁচটি বিশ্বকাপ ট্রফিই বলে দেয় সব কিছু। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের অনবদ্য পারপফরম্যান্স দিয়ে নিজেদের অন্য সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গিয়েছে অজিরা। 

এবারের বিশ্বকাপেও সবার আগে হুঙ্কার ছেড়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিলো অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বের ৯ ম্যাচে ৭ জয় ও ২ পরাজয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে থেকে সেমিতে এসেছে তারা। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরাজয় বরণ করতে হলেও বাকি সবগুলো ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করেই জিতেছে অ্যারন ফিঞ্চের দল। 

ব্যাটিংয়ে নির্বাসন কাটিয়ে ফেরা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের ৬ শতাধিক রান ও বোলিংয়ে মিচেল স্টার্কের এ পর্যন্ত ২৬ উইকেট শিকারে দুই ইউনিটেই অস্ট্রেলিয়ায় এখন এক শক্ত প্রতিপক্ষের নাম। অজি শিবিরে ইনজুরির আঘাত থাকলেও সেমির আগে তাদের নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের চিন্তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। 

এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার টুর্নামেন্ট যাত্রা 

বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার সবার আগে দুর্বল আফগানিস্তানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় অস্ট্রেলিয়া। আফগানদের বিপক্ষে সেই ম্যাচে হেসে-খেলেই জয় লাভ করে অজিরা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ ওভার ২ বলে ২০৭ রানে অলআউট হয়ে যায় গুলবাদিন নাইবের আফগানিস্তান। জবাব দিতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের অপরাজিত ৮৯ ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের ৬৬ রানে ভর করে সহজেই সাত উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। 

রাউন্ড রবিন লীগে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার ত্রাতা হিসেবে সেদিন আবির্ভূত হন স্টিভেন স্মিথ। ষষ্ঠ উইকেটে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে গড়ে তোলেন ৬৮ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর নাথান কোল্টার-নাইল এর সঙ্গেও ১০২ রানের একটি পার্টনারশিপ ছিল স্মিথের। ৭৩ রান করে সেদিন স্মিথ ফিরে গেলেও কোল্টার-নাইল খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৬০ বলে ৯২ রানের ঝড়ো ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২২৮ রান তুলে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। জবাব দিতে নেমে মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপে ২৭৩ রান থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। ৪৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন স্টার্ক।

এবারের টুর্নামেন্টে 'মাইটি অজি'রা প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পায় ভারতের বিপক্ষে। শুরুতে ব্যাট করে শিখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরি, বিরাট কোহলির ৮২ ও হার্দিক পান্ডিয়ার ৪৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৩৫২ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ভারত। জবাব দিতে নেমে ভুবনেশ্বর ও বুমরাহর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া থামে জয় থেকে ৩৬ রান দূরে। ইনিংসের শুরুতে মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণে সেদিন সমালোচিত হয়েছিলেন ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ। 

পরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে উড়ন্ত সূচনা পেলেও শেষদিকে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে ৪৯ ওভার শেষে ৩০৭ রানে অল আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৭ রান করেন ডেভিড ওয়ার্নার। ৩০ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। জবাব দিতে নেমে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের ঠিকঠাকভাবে সামলাতে না পারায় ২৬৬ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। অজি বোলারদের পক্ষে প্যাট কামিন্স ৩টি, মিচেল স্টার্ক ২টি ও কেন রিচার্ডসন ২টি করে উইকেট পান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ফেরা অস্ট্রেলিয়া পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় আরেক আশিয়ান প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে। টস হেরে সে দিন ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের ১৩২ বলে ১৫৩ ও শেষ দিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এর ২৫ বলে ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৩৩৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় জাস্টিন ল্যাঙ্গার এর দল। জবাব দিতে নেমে ৩ উইকেটে ২০৫ রান নিয়ে এক সময় ভালভাবেই ম্যাচে টিকে ছিল লঙ্কানরা। তবে মিচেল স্টার্কের হঠাৎ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত ২৪৭ রানে অলআউট হতে হয় তাদের। সেই ম্যাচে ১০ ওভার বল করে ৫৫ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন স্টার্ক। 

এরপরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার আসল ব্যাটিং শক্তিটা প্রদর্শিত হয়। ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের বিপক্ষে ৩৮১ রান সংগ্রহ করে অজিরা। ডেভিড ওয়ার্নারের ১৪৭ বলে ১৬৬ রানে সেদিন বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ। পার্টটাইম বোলার সৌম্য সরকার সেদিন ৩ উইকেট না নিলে বাংলাদেশকে পড়তে হতো দারুণ বিপদে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। মুশফিকের সেঞ্চুরিতে ও মাহমুদউল্লাহর ক্যামিওতে ৩৩৩ পর্যন্ত যেতে পারে টাইগাররা। 

এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডও পাত্তা পায়নি অস্ট্রেলিয়ার কাছে। লর্ডসে টস হেরে ব্যাট করতে নামা অজিরা অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ৩০০'র নিচেই আটকে যায়। জবাব দিতে নেমে জেসন বেহরেনডর্ফ ও মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপে ইংলিশ টপ অর্ডার চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। শেষমেশ বৃথা যায় বেন স্টোকসের ৮৯ রানের লড়াকু ইনিংসও। বেহরেনডর্ফ ৪৪ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক। 

তবে শেষ ম্যাচে টুর্নামেন্ট জুড়ে ছন্দহীন থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোঁচট খায় অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড ওয়ার্নারের ১২২ রানের ইনিংসেও সেদিন প্রোটিয়াদের দেয়া ৩২৬ রানের টার্গেট পেরোতে পারেনি। শেষ ম্যাচে এমন পরাজয়ে সেমিফাইনালের আগে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। 

এমএইচএস 

আরও পড়ুন