• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২০, ১১:০৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৬, ২০২০, ১১:৫২ এএম

ম্যারাডোনার পোস্টমর্টেম 

ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যারাডোনার পোস্টমর্টেম 

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ম্যারাডোনা। বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কোটি ভক্তের মাঝে যেন এই মহাতারকার মৃত্যু নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না থাকে এবং তা নিয়ে কোনো প্রকার সহিংস পরিস্থিতির উদ্ভব না ঘটে, সেজন্য তার লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের একটি মর্গে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় এক আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ওই আইনজীবী জানান, স্থানীয় সময় রাত ১২টার দিকে ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা মারা গিয়েছিলেন। ফরেনসিক পুলিশ বিকাল ৪টা থেকে তাদের কাজ শুরু করে। তার মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অপরাধ বা সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সন্দেহাতীতভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য পোস্টমর্টেম করা হচ্ছে। আমরা এই পর্যায়ে বলতে পারি যে, তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। 

এদিকে, ম্যারাডোনার মৃত্যুতে আর্জেন্টিনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফারনান্দেস এক শোকবার্তায় প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে বলেন, ‘তিনি শুধু আমাদের আনন্দই দিয়েছেন। আমরা তার কাছে ঋণী। রাজ্যের সব দুয়ার ডিয়েগোর জন্য খোলা।’

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যারাডোনার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে টুইট করেছে, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া আমাদের কিংবদন্তি ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন। আপনি সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবেন।’

কিছুদিন আগে মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছিল ম্যারাডোনার। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি গিয়েছিলেন অতিরিক্ত অ্যালকোহল আসক্তি থেকে সেরে ওঠার নিরাময় কেন্দ্রে। এর পর বাসায় ফিরেছিলেন ম্যারাডোনা। সেখানেই তিনি মারা যান।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, ম্যারাডোনার মদের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। মদ ছাড়ার পর তার শরীরে অনেক উপসর্গ দেখা দেয় । এজন্য তাকে ওষুধ দিয়ে শান্ত রাখা হচ্ছিল, পুনর্বাসনের জন্য তিগ্রের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছিল । তার যকৃৎ ও হৃদপিণ্ডজনিত সমস্যা আগে থেকেই ছিল। মস্তিষ্ক আর পাকস্থলীও ধুঁকছিল। শেষ পর্যন্ত আর লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারলেন না ম্যারাডোনা। 
 

এসইউ