• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২১, ০৩:৩৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৩, ২০২১, ০৯:৩৪ পিএম

ফ্রান্স-পর্তুগাল ম্যাচ:

বাজে রেফারিং, তিন পেনাল্টি ও রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড 

বাজে রেফারিং, তিন পেনাল্টি ও রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড 
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড স্পর্শের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দৌড়ে উদযাপন। স্পোর্টস ম্যাক্স

উত্তেজনার পারদ চড়ানোর জন্য এমনিতেই ক্ষেত্র ছিল প্রস্তুত। ইউরোপের জায়ান্ট দুই দল ফ্রান্স ও পর্তুগাল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে ইউরোর এবারের আসরের পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য মরিয়া। দুই দলের তারকাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার জন্য সবার ছিল অধীর অপেক্ষা। দর্শকরা মোটেও হতাশ হননি। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটি ২-২ গোলে হয়েছে ড্র। তবে বাজে রেফারিং, তিন পেনাল্টি গোল; যার ভেতর দুইটি ছিল রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে দেয়া ম্যাচের উজ্জ্বলতা অনেকটাই নষ্ট করেছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্ব রেকর্ড করে বসার জন্যও খেলাটি চিরকাল আলোচনায় থাকবে।  

বুধবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৪ মিনিটে রেনেতো সাঞ্চেসের শট ঠেকিয়ে দেন ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষক হুগো লরিস। দুই মিনিট পর সাঞ্চেজের ক্রসে বল পাওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হেড সরাসরি লরিসের গ্লাভসে চলে যায়। ১৬ মিনিটে পল পগবার বাড়ানো বল পাওয়া কিলিয়ান এমবাপ্পের কিক সেভ করেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক রুও প্যাট্রিসিও।  

ম্যাচের ২৭ মিনিটে ঘটে যায় চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। জোয়াও মৌতিনহোর অ্যাসিস্টে হেড করে গোল করতে যান দানিলো পেরেইরা। বিপদ বুঝতে পেরে লরিস এগিয়ে এসে সামনে লাফ দিয়ে ফ্লিস্ট করেন। এ সময় তার সঙ্গে দানিলোর সঙ্গে ডি বক্সের ভেতর সংঘর্ষ হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে লরিসকে হলুদ কার্ড দেখালে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা রেফারিরে ঘিরে ধরে তর্ক জুড়ে দেন। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, লরিসের কনুই দানিলোর থুতনিতে লাগে। দানিলো মারাত্মক ব্যথা পেয়ে মাঠে কাতরাতে থাকেন। মূলত লরিস ফ্লিস্ট করতে যাওয়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই তা দানিলোকে আঘাত করেছিল। রেফারি ভিএআরের সাহায্য না নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরেননি। তার দেয়া বিতর্কিত পেনাল্টিতে ৩১ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন রোনালদো।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লেগে পড়ে যাওয়ায় এবার ফ্রান্সের পক্ষে বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন যথারীতি তিনি ভিএআরের সাহায্য না নিয়ে আবারো সমালোচনা সৃষ্টি করেন। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্পট কিকে করিম বেনজেমা গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরান।

দ্বিতীয়ার্ধে আবারো আলোচনায় বিতর্কিত রেফারিং। ৪৭ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে পল পগবার লম্বা পাসে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে গোল করে বেনজেমা যখন ফরাসিদের এগিয়ে নেয়ার আনন্দে মেতেছেন, তখনই অফসাইডের বাঁশি! এ যাত্রায় রেফারি ভিএআর নিলেন আর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে গোলের সংকেত দিলেন। 

৫৮ মিনিটে আবারো নাটকীয় ঘটনা। ফ্রান্সের ডি বক্সের ভেতর রোনালদোর নেয়া কিক জুলেস কাউন্দের হাতে লাগলে রেফারি আবারো পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে দেন। এবার টিভি রিপ্লে দেখে বোঝা যায়, অবশেষে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন! ৬০ মিনিটে স্পট কিক থেকে নিশানাভেদ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইরানের আলী দাইয়ির রেকর্ড ১০৯ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন রোনালদো।  

মৃত্যুকূপ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এফ গ্রুপে ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সমান ৪ পয়েন্ট  ও গোল পার্থক্য একই থাকলেও হেড টু হেডে পর্তুগাল জয় পাওয়ায় গ্রুপ রানার্সআপ জার্মানি। গত আসরের মতো পর্তুগাল ছয় গ্রুপের তিন নম্বরে থাকা সেরা ৪ দলের একটি হয়ে নকআউটে পা রেখেছে। ২ পয়েন্ট পাওয়া হাঙ্গেরি টেবিলের তলানিতে থেকে বিদায় নিয়েছে।