• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২১, ০৫:০১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৯, ২০২১, ১১:০১ এএম

চট্টগ্রাম টেস্টে হার দেখছে মুমিনুল বাহিনী

চট্টগ্রাম টেস্টে হার দেখছে মুমিনুল বাহিনী

সংক্ষিপ্ত স্কোর (চতুর্থ দিন শেষে) 

বাংলাদেশ  ৩৩০ ও ১৫৭
পাকিস্তান  ২৮৬ ও ১০৯/০ 

চট্টগ্রাম টেস্টের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন পাকিস্তানের হাতে। বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৭ রানে আটকে দিয়ে নিজেদের জন্য লক্ষ্য ধরা ছোঁয়ার মধ্যেই রাখে সফরকারীরা। ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে চতুর্থ দিন শেষে স্কোরবোর্ডে বিনা উইকেটে ১০৯ রান তুলে ফেলে বাবর আজমের দল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৪ রানের লিড পাওয়ার পরেও মহাবিপদেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ৩৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল।

চতুর্থ দিনের সকালটাও টাইগারদের জন্য সুখকর ছিল না। ব্যাট করতে নামেন আগের দিন দুই অপরাজিত ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এবং ইয়াসির আলি রাব্বি। হাসান আলীর করা ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে দিনের খেলা শুরু করেন মুশফিক। কিন্তু তিন নম্বর বল ছেড়ে দিতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরে যান মিস্টার ডিপেন্ডবল। আউট হওয়ার আগে তিনি করেছেন মাত্র ১৬ রান।

৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে মহাবিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশকে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪৭ রান যোগ করে কিছুটা স্বস্তিতে ফেরান লিটন দাস ও ইয়াসির আলী রাব্বি। তবে পানি পানের বিরতির এক ওভার আগে শাহিন শাহ আফ্রিদির বল লাগে ইয়াসির আলির হেলমেট। তিনি যতটা ভেবেছিলেন অতোটা ওঠেনি বাঁহাতি পেসার আফ্রিদির বাউন্সার। শেষ সময়ে চোখ সরিয়ে নেয়ায় বলের লাইন থেক সরেও যেতে পারেননি ইয়াসির। ফিজিও আসার পর তার সঙ্গে কথা বলে খেলা চালিয়ে যান এই মিডল অর্ডার ব‍্যাটসম‍্যান। পানি পানের বিরতির সময় ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়েন তিনি। ইয়াসির ৬ চারে ৭২ বলে করেন ৩৬ রান। স্ক‍্যানের জন‍্য তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। এই মিডল অর্ডার ব‍্যাটসম‍্যানের জায়গায় কনকাশন সাব হিসেবে কিপার-ব‍্যাটসম‍্যান নুরুল হাসান সোহানকে নিয়েছে বাংলাদেশ।

ইয়াসির মাঠ ছাড়ার পর ব্যাট করতে নামেন মিরাজ। লিটনের সঙ্গে ২৫ রানের জুটি গড়ার পর ৪৪ বলে ১ চারের মারে ১১ রান করা মিরাজ লেগ বিফোরে সাজিদ খানের বলে কাটা পড়েন। এরপর ক্রিজে লিটনের সঙ্গী কিপার-ব‍্যাটসম‍্যান নুরুল হাসান সোহান। ইয়াসিরের কনকাশন সাব হওয়ায় এই ম‍্যাচে তিনি খেলছেন বিশেষজ্ঞ ব‍্যাটসম‍্যান হিসেবে। এই ম‍্যাচে কিপিং করতে পারবেন না তিনি। ৬২ বলে ৩ চারের মারে লিটন ৩২ ও ৯ বল খেলে রানের খাতা না খোলা সোহানের উপর এখন বাংলাদেশ তাদের ১৫৯ রানের লিড কতটা বড় করতে পারবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছিল। 

 লিটনের সঙ্গে সোহানের জুটি জমতে বসেছিল। সোহানের দরকার ছিল সতীর্থকে সঙ্গ দিয়ে যাওয়া। সেটি না করে ছক্কার চেষ্টায় ফিরলেন তিনি। সাজিদ খানের সাদামাটা এক ডেলিভারিতে লং অনে ধরা পড়েন সোহান। রাব্বির কনকাশন সাব হিসেবে নামা ডানহাতি এই ব‍্যাটসম‍্যান ৩৩ বলে তিন চারে করেন ১৫ রান। তার বিদায়ে ভাঙে ৬১ বল স্থায়ী ৩৮ রানের সম্ভাবনাময় জুটি।

সোহানের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকলেন না লিটন দাস। শাহিন শাহ আফ্রিদির চমৎকার ডেলিভারিতে ফিরে গেলেন এলবিডিব্লিউ হয়ে। দুই বল পর আবু জায়েদ চৌধুরিকে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট নিলেন আফ্রিদি।

ওভারের শুরু থেকে রাউন্ড দা উইেকেটে বোলিং করা বাঁহাতি এই পেসারের ভেতরে ঢোকা বল লিটনের ব‍্যাটের কানা এড়িয়ে ছোবল দেয় প‍্যাডে। রিভিউ নিয়েছিলেন ব‍্যাটসম‍্যান কিন্তু কাজ হয়নি। ৮৯ বলে ৬ চারে ৫৯ রান করেন লিটন।

আফ্রিদির শর্ট বল আবু জায়েদের গ্লাভস ছুঁয়ে জমা পড়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে। সঙ্গে ক‍্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি। খানিক পর সাজিদ খানের বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন কোনো রান না পাওয়া তাইজুল ইসলাম। তাতে ১৫৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। 

২০২ রানের জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশি বোলারদের কোন সুযোগই তৈরি করতে দেননি আবিদ-শফিক। দুজনেই তুলে নিয়েছেন অর্ধশতক। আলোক স্বল্পতায় বেশ আগেই শেষ হয় চতুর্থ দিনের খেলা। যেখানে কোন উইকেট না হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ১০৯ রান তুলে ফেলেছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য শেষদিনে তাদের প্রয়োজন ৯৩ রান। হাতে ১০ উইকেট। আগামীকাল মঙ্গলবার ম্যাচের পঞ্চম ও শেষদিনে আবিদ আলি ৫৬ এবং শফিক ৫৩ রান নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নামবে।