• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২২, ০১:২৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৪, ২০২২, ০১:২৬ এএম

নান্নু-আশরাফুলের বাকযুদ্ধে বিসিবি‍‍`র অসন্তোষ

নান্নু-আশরাফুলের বাকযুদ্ধে বিসিবি‍‍`র অসন্তোষ
ফাইল ফটো।

বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল কথার লড়াইয়ে নেমেছিলেন। যেখানে প্রকাশ্যে আশরাফুলকে 'দেশদ্রোহী ও ফিক্সার' বলেছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। এতে দুঃখ পেয়েছেন আশরাফুল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নান্নুর এমন মন্তব্যে উত্তরও দিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটের অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ এই সেঞ্চুরিয়ান। দুইজনই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। দুইজনের এমন কথার লড়াই পছন্দ হয়নি বিসিবির। বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

সোমবার শেরে বাংলায় বিসিএল ফাইনাল চলাকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের জালাল ইউনুস বলেন, 'সে (আশরাফুল) একজন বর্তমান খেলোয়াড়। আবার সাবেক অধিনায়কও। যেহেতু সে এখনও আমাদের অধীনে খেলছে সেহেতু এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা ঠিক হয়নি। যেটা হয়েছে, আমি শুনেছি এটা নিয়ে আমাদের আলাপও হয়েছে। দেখা যাক, এটা নিয়ে আমরা বোর্ড সভাপতির সাথে আলাপ করবো।'
 
নান্নুর বক্তব্য নিয়ে জালাল ইউনুস বলেন, 'কারও ব্যাপারেই এভাবে আক্রমণ করা ঠিক নয়, যেখানে আপনি বোর্ডের একটা অবস্থানে আছেন। ঐ জায়গা থেকে এটা না করাটাই ভালো হতো। যেহেতু নির্বাচক প্যানেল আমাদের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের আওতায়, আমরা এটা নিয়ে আজকেও আলাপ করেছি। এখন বোর্ড সভাপতির সাথেও কথা বলব।'

নির্বাচক ও আশরাফুলের এমন কাণ্ড ভবিষ্যৎ দল নির্বাচনে আশরাফুলকে বিবেচনা নাও করা হতে পারে এমন প্রশ্নও উঠেছে। এমন প্রশ্নে জালাল ইউনুস বলেন, 'আমার মনে হয় না এমন কিছু হবে। আমার মনে হয় না ব্যক্তিগতভাবে কেউ এর শিকার হবে। যারা আসবে পারফরম্যান্সের জোরেই আসবে।'

জাতীয় দলের নির্বাচকদের মেয়াদ ৩-৪ বছরের বেশি হওয়া উচিত নয়। সম্প্রতি বেসরকারি এক টিভিতে এমন মন্তব্য করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। একই টিভিতে অতিথি হওয়া জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর কাছে আশরাফুলের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেখানে আশরাফুলকে 'দেশদ্রোহী ও ফিক্সার' বলে আখ্যা দেন তিনি।

নান্নু বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার একজন প্রধান নির্বাচক কত বছর কাজ করেছে সেটি বোধহয় আশরাফুলের ধারণা নেই। প্রায় ৯ থেকে ১২ বছর একনাগারে কাজ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া কি ক্রিকেট থেকে পিছিয়ে গেছে? যেসব খেলোয়াড় দেশদ্রোহী হয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়, ওদের কাছ থেকে ভালো পরামর্শ আশা করা কঠিন।'

নান্নুর এমন বক্তব্যকে 'আপত্তিকর' বলে মনে হয়েছে আশরাফুলের। রোববার রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে এ বিষয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন টেস্ট ক্রিকেটের অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ এই সেঞ্চুরিয়ান। আশরাফুল বলেন,  'একটা পোস্টে যদি একজন বেশিদিন থাকে তবে তার প্রতিভাটা এক জায়গায় আটকে থাকবে। আমি কারো নাম উল্লেখ করিনি। তবে তিনি যেভাবে সবার সামনে আমাকে 'দেশদ্রোহী' বললেন তা খুবই দুঃখজনক। আমি যদি খারাপ কিছু বলে থাকি তাহলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন। আমি শুধু দলকে ভালো অবস্থায় নেয়ার জন্য আমি যা মনে করি তাই বলেছি। আমি কারো নাম উল্লেখ করিনি।'

এর পর নির্বাচক নান্নুকে উদ্দেশ্য করে আশরাফুল ক্ষোভ ঝেড়ে  বলেন, 'আপনার সাক্ষাতকারেই বোঝা যাচ্ছে আপনার গুড বুকে আমি নেই বলেই এখন সুযোগ পাচ্ছি না। সেন্স ভাই আমাদের কম নেই। আল্লাহর রহমতে আমাদেরও মোটামুটি সেন্স আছে। খেলা নিয়ে আমরাও সারাদিন চিন্তা করি। ছোটবেলা থেকে এখনও ঘুম থেকে উঠে সারাদিন ক্রিকেট নিয়ে চিন্তা করি।'

২০১৩ সালের সেই ফিক্সিংকাণ্ডের বিষয়ে আশরাফুল বলেন, 'আমি সাদাকে সাদা বলব, কালোকে কালো বলব। অন্যায় করেছি স্বীকার করি। আমার আত্মবিশ্বাস আছে বলে এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি। নান্নু ভাই যেভাবে নাম ধরে দেশদ্রোহী, ম্যাচ ফিক্সার বললেন, এটি তো ২০১৩ সালে হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, শাস্তিও হয়েছে। যেভাবে আক্রমণ করলেন, কষ্ট লেগেছে। আমি তো উল্টাপাল্টা কিছু বলিনি।'

 

এসকেএইচ//