• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২২, ০১:২৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৪, ২০২২, ০৭:২৯ এএম

এবাদত ম্যাজিকে ৪র্থ দিনেও আধিপত্য বাংলাদেশের

এবাদত ম্যাজিকে ৪র্থ দিনেও আধিপত্য বাংলাদেশের
ফাইল ফটো।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে কখনও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। সাফল্য বলতে ঘরের মাঠে পাওয়া ড্র। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গিয়ে ড্র করাও বাংলাদেশের জন্য অনেক দূরের ব্যাপার। কিন্তু শেষ বিকেলে ইবাদতের চার উইকেটের কল্যাণে ম্যাচের লাগাম ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ। ড্র ছাপিয়ে উঁকি দিচ্ছে জয়ের হাতছানি। চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৪৭ রান। তাদের লিড এখন ১৭ রানের, হাতে আছে আর ৫টি উইকেট। শেষ দিন হাতছানি দিচ্ছে রোমাঞ্চের। আগামীকালের দিনটি হতে পারে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের স্মরণীয়তম দিন।

ব্যাট হাতে দুর্দান্ত খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতেও নিউজিল্যান্ডকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম সেশন সমানে সমানে থাকলেও শেষ দুই সেশনে দাপট দেখিয়েছে সফরকারীরা। বাংলাদেশকে ৪৫৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট করতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় সেশনের নবম ওভারে টম ল্যাথামের উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। ইনসাইড এজ হয়ে বল আঘাত হানে স্টাম্পে। তাতে টানা দুই ইনিংসে ব্যর্থ ল্যাথাম ফিরেছেন ১৪ রান করে।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন স্বাগতিকদের তিন নম্বরে নামা ডেভন কনওয়ে। তিনি খেলেছিলেন ১২২ রানের ইনিংস। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তাকে বেশিদূর যেতে দেননি এবাদত ও সাদমান। ব্যক্তিগত ১৩ রান করে এবাদতের বলে সাদমানের তালুবন্দি হন কনওয়ে।

এক ওভার পর ইয়াংকে ফেরাতে পারতো বাংলাদেশ। মিরাজের বলে ক্যাচটি নিতে পারেননি উইকেটরক্ষক লিটন। ফলে ৩১ রানে জীবন পেয়ে যান প্রথম ইনিংসে ৫২ রানের ইনিংস খেলা কনওয়ে।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে অভিজ্ঞ ব্যাটার রস টেলরকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ ছন্দে ব্যাট যাচ্ছিলেন উইল ইয়াং। ফিফটি তুলে নিয়ে বড় সংগ্রহের পথে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের বোলিং ভালো হলেও, ফিল্ডিং ও রিভিউ নষ্টের কারণে সুযোগ পেয়েছে স্বাগতিকরা। বাজে সিদ্ধান্তে দুটি রিভিউ নষ্ট করেছে মুমিনুলরা। শুধু রিভিউ নয়, বাংলাদেশ তখন ভুগছিল ফিল্ডিংয়েও। ইনিংসের ৪২তম ওভারে মিরাজের বলে তুলে মেরেছিলেন টেলর। সহজ ক্যাচের সুযোগ ছিল সাদমানের সামনে। কিন্তু সেটি তালুবন্দি করতে পারলেন না সাদমান, ১৭ রানে বেঁচে যান টেলর। ইনিংসের ৫২তম ওভারে বাংলাদেশের ১৩০ রানের লিড ছাড়িয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। লিড ৬ রান স্পর্শ করতেই কিউই শিবিরে এক ওভারে জোড়া আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। তার জোড়া শিকারে সাজঘরে ফেরেন উইং ইয়াং ও হ্যানরি নিকোলস। ইয়াং ৬৯ রান করেন, আর নিকোলস রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ফেরেন শূন্য রানে।

নিজের পরের ওভারে টম ব্লান্ডেলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এবাদত। রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি ব্লান্ডেল। খালি হাতেই ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। এরপর আর বিপদ ঘটতে দেননি রস টেলর ও রাচিন রবীন্দ্র। দিনশেষে টেলর ৩৭ ও রাচিন ৬ রানের অপরাজিত রয়েছেন।

শেষ সেশনে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন এবাদত। সবমিলে এখন পর্যন্ত তার বোলিং ফিগার ৩৯ রানে ৪ উইকেট। যা টেস্ট ক্রিকেটে তার সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।

এর আগে মাউন্ট মঙ্গাইনুয়ে চতুর্থ দিনের খেলায় শেষ চার উইকেটে ৫৭ রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। আর তাতেই চারটি ফিফটিতে বাংলাদেশের ইনিংস থামল ৪৫৮ রানে। ফলে ১৩০ রানের লিড নিতে পেরেছে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ১৭৬.২ ওভার ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। যা নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওভার ব্যাটিংয়ের রেকর্ড। নিউজিল্যান্ডে কোনো সফরকারী দল এর চেয়ে বেশি ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে সবশেষ সেই ২০০৯ সালে। সেবার নেপিয়ারে ১৯৩.২ ওভার ব্যাটিং করেছিল পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। 

ম্যাচের চতুর্থ দিনের খেলায় ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ইয়াসির ও মিরাজ। দুজন মিলে খেলেন প্রায় ১৬ ওভার। আর তাতেই লিড একশ ছাড়িয়ে যায়। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে টিম সাউদির করা বলে কটবিহাইন্ড হন মিরাজ। এরপর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি রাব্বীও। ৮৫ বল খেলে ব্যক্তিগত ২৬ রানে কটবিহাইন্ড হন তিনিও। এরপর ৫ রানে তাসকিন এবং ৭ রানে ফেরেন শরীফুল ইসলাম। আর শূন্যরানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। নেইল ওয়েগনার নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া টিম সাউদি দুটি এবং কাইল জেমিসন একটি উইকেট পেয়েছেন।

 

এসকেএইচ//