• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২২, ০১:০৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৬, ২০২২, ০৭:০৬ এএম

ভলিবল থেকে ক্রিকেট : এবাদত হোসেনের যাত্রা

ভলিবল থেকে ক্রিকেট : এবাদত হোসেনের যাত্রা
এবাদত হোসেন। ফাইল ফটো।

তপেষ ভৌমিক, ক্রিকেট এনালাইজার, ক্রিকম্যাক// 
হাই পারফর্ম্যান্স দলের কোচ আকিব জাভেদ স্যার আবুল হাসান রাজু, আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ চৌধুরীর পাশাপাশি এবাদাত হোসেনের নাম নেওয়ার আগে ২০১২ সালে বাংলাদেশ এয়ারফোর্সে যোগ দেওয়া ভলিবল প্লেয়ারটাকে ক'জনই বা চিনতো???

এবাদত হোসেন ২০১৬ এর জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত পেসার হান্টের আবিষ্কার। এবাদাত পেসার হান্টে ঢাকা থেকে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এক বন্ধুর পরামর্শে ১৪,৬১১ জনের সাথে ফরিদপুর থেকে অংশ নেন। পেসার হান্টে মাত্র দুইটি 'বিশেষ' ডেলিভারি করেই নির্বাচকদের নজরে আসেন এবং হাই পারফর্ম্যান্স টিমে চান্স পেয়ে যান।

"সারোয়ার ইমরান স্যার আমাকে এক ওভার বল করতে বলেছিলেন।" এবাদতের সহজ ভাষ্য। "যার একটা ১৩৩ কিমি/প্রতিঘন্টার বল ছিলো। আমি প্রথম ৩০ জনের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে সেরা দশে জায়গা করে নিলাম। ঢাকায় শেষ রাউন্ডে ১৩৯.৯ কিমি/প্রতিঘন্টার একটা বলও ছিলো।

এয়ারফোর্সে জয়েন করা কিংবা ভলিবল খেলা, একটাও আমার স্বপ্ন ছিলো না। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট ভালোবাসতাম, তাই সবসময় চেষ্টা করেছি যেকোন উপায়ে খেলাটাকে ধরে রাখারI আমার একটা চাকুরির দরকার ছিলো, কিন্তু এয়ারফোর্স সবসময় আমাকে সাহায্য করেছে। কিন্তু গত কয়েকমাসে যা কিছু হলো তা দেখে এয়ারফোর্সের প্রধান আমাকে বলেন, তুমি যত বড় ক্রিকেটারই হও না কেন, তুমি সর্বদা এয়ারফোর্সের সাথেই থাকবে।" 

এয়ারফোর্স থেকে উঠে আসা প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার এবাদতের নেই কোন লিস্ট-'এ' কিংবা ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের অভিজ্ঞতা। HP প্রোগ্রামের পরই তার এয়ারফোর্সে ফিরে যাবার কথা ছিলো, কিন্তু আকিব জাভেদের পরামর্শ মেনে তাকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে চান্স দেয়া হয়। বিসিবি একাদশ হেরে গেলেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন এবাদাত। সেখানে  ৫ ওভারে ১ মেডেনের সাথে ২৬ রানে ২টি উইকেট তুলে নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেকের নজরে এসে পড়েছেন ১৯৯৪ সালের ৭ জানুয়ারীতে সিলেটের মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া এবাদাত হোসেন। 

আকিব জাভেদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান এবাদত। "প্রথম দিন জাভেদ স্যার আমাদের রান-আপ আর পেস নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি আমাদের পেস বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন এবং শেষ দিন সুইং, ভেরিয়েশন আর রিভার্স সুইং শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে আমার শারীরিক শক্তি কম, কিন্তু সঠিক শারীরিক গঠনের মাধ্যমে আমি আমার পেস আরো বাড়াতে পারি।"

এবাদতকে বাংলাদেশ পেস দলের ভবিষ্যৎ তারকা আখ্যা দিয়ে আকিব জাভেদের কন্ঠেও শোনা গেলো উচ্ছ্বাস। "সবার মাঝে আমি আবুল হোসেন রাজুকে এগিয়ে রাখলেও তার ইঞ্জুরী আর কনফিডেন্সের অভাব তাকে ভোগাতে পারে। তার ভালো পেস আছে, ভালো শারীরিক গঠন আছে, সিম্পল কিন্তু কার্যকরী বোলিং অ্যাকশন আছে, কিন্তু তাকে ঐ দশা থেকে প্রথমে বেড়িয়ে আসতে হবে। তারপর বলবো এবাদতের কথা। ও ১৩৮-১৪০ কিমি/ঘন্টা বল করতে পারে, ভালো হাইট আছে। কিন্তু শুনেছি ক্যাম্প শেষ হলে ও এয়ারফোর্সে ফিরে যাবে আর প্র্যাকটিস করা বন্ধ করে দেবে। আমি মনে করি ওকে যেকোন একটা কন্ট্রাক্ট দেওয়া উচিৎ। কিংবা ক্রিকেট সম্পর্কিত চাকুরী হলেও, যেন ও ক্রিকেটের মাঝেই থাকতে পারে। ওকে দেখে আমার মোহাম্মদ ইরফানের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা টানা ছয়মাস ইরফানকে নিয়ে কাজ করে ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটের জন্য তৈরী করে তুলেছিলাম। ও যদি ওর শারীরিক গঠন ঠিক করতে পারে আর তা মেনটেইন করে যেতে পারে, তবে এবাদতই হবে বাংলাদেশ পেস দলের ভবিষ্যৎ বড় তারকা।" 

এবাদত বলেন যে এয়ারফোর্স, ক্রিকেটের জন্য যেকোন সময় তাকে ছুটি দিতে রাজি আছে। "এখানে আসার পর বুঝতে পারছি যে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে আমাকে। এয়ারফোর্সে আমি জব করি আর তারা আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ব্যাপারে সবসময়ই পজেটিভ ছিলো। আমি এয়ারফোর্স থেকে আবেদনপত্র নিয়ে আসবো যেন আমি নিয়মিত আমার ট্রেইনারদের সাথে জিম করে ফিটনেসের উন্নতি করতে পারি।"

২০১৪-১৫ সিজনে ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট লীগে মাত্র একম্যাচ খেলেছেন এবাদাত। সেই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ২২ ওভারে ২.৪৫ ইকোনমিতে ৫৪ রানে ৩টি উইকেট তুলে নেন তিনি। আশা করি মুস্তাফিজ, তাসকিন, এবাদত হোসেনদের মতন তরুণ পেসাররাই ভালো পারফর্ম করে বাংলাদেশের পেস বোলিংকে নিয়ে যাবে সেরাদের সেরার কাতারে।

 

এসকেএইচ//