• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ১১:৫২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ০৬:২০ পিএম

প্রাচুর্য্যে ভরপুর দুর্গাপুর

নেত্রকোনা সংবাদদাতা
প্রাচুর্য্যে ভরপুর দুর্গাপুর
মূল্যবান খনিজ সম্পদ সাদা মাটি- ছবি : জাগরণ

নেত্রকোনার রত্মগর্ভা উপজেলা দুর্গাপুর। এখানে রয়েছে মূল্যবান খনিজ সম্পদ সাদা মাটি। অনেকে এ মাটিকে চীনা মাটিও বলে থাকেন। চিনা মাটির পাহাড় গড়ে উঠেছে দুর্গাপুরের বিজয়পুরে। 

চীনা মাটি মূলত সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল। খনিজ সম্পদ ব্যুরোর ১৯৫৭ সালের তথ্যানুযায়ী, এখানে চিনা মাটির মজুদ রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। এ মাটি দিয়ে বাংলাদেশ সিরামিক শিল্পের তিনশ বছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ময়মনসিংহ অঞ্চলের সিনিয়র গবেষণা কর্মকর্তা সোমনাথ লাহেরি জাগরণকে জানান, ১৯৫২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চীনা মাটির এ পাহাড় সরকারি ও বেসরকারিভাবে কাটা হচ্ছিল। যে প্রক্রিয়ায় তা কাটা চলছিল তা পরিবেশের অনুকূলে ছিল না। তাছাড়া, এ পাহাড় কাটার পূর্বে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় পরিবেশ সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার কোন মূল্যায়নও করেনি। তাই নিয়মবহির্ভূত পাহাড়া কাটার ব্যাপারে বেলার পক্ষ থেকে ২০১৫ সালে একটি মামলা করা হয় উচ্চ আদালতে। পরে আদালত থেকে এ বছরেই নির্দেশ দেয়া হয় ওই পাহাড় কাটা বন্ধের। বর্তমানেও এ অবস্থা বহাল রয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চীনা মাটির এসব টিলা বা পাহাড় দেখতে খুবই মনমুগ্ধকর। বাহারি এর মাটির রঙ। লাল, সাদা, নীলাভ। এ যেন প্রাকৃতিক আরেক নিসর্গ। এ দেশে সাদা মাটির অন্যতম বৃহৎ খনিজ সম্পদ অঞ্চল এটি। নেত্রকোনা জেলার উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বিজয়পুরের সাদা মাটি। ১৯৫৭ সালে ভূতত্ত্ব জরিপে দুর্গাপুরের বাগাউড়া গ্রামে সর্ব প্রথম সাদা মাটির সন্ধান মিলে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫ সালে সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সাদা মাটির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য ১৩টি কূপ খনন করে। ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৮০ ও ১৯৮৩, সালে সরকার ব্যাপকভাবে ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান চালায়। সাদা মাটির এ এলাকাটি দৈর্ঘ্যে ১৪ কিলোমিটার, প্রস্থে ৬শ মিটার। অধিকাংশ সাদা মাটির টিলা ১৫ থেকে ৪০ মিটার পর্যন্ত উঁচু । ভূ-পৃষ্ট থেকে ৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত সাদা মাটির অস্তিত্ব রয়েছে। চীনে এ মাটির সর্ব প্রথম ব্যবহার শুরু হয়েছিল বলে অনেকের কাছে এ সাদা মাটি চীনা মাটি হিসেবেও পরিচিত। এ সাদা মাটিকে বিজয়পুর অঞ্চল থেকে উত্তোলন করা হয় বলে এ দেশে এটিকে অনেকে বিজয়পুরের সাদা মাটিও বলেন। এ মাটিকে সাদা মাটি বলা হলেও এর রং একেবারে সাদা নয়। হালকা ধূসর থেকে সাদাটে রঙের এ মাটি কোন কোন স্থানে মসৃণ, কোথাও খসখসে। শুকনো অবস্থায় এ মাটি শক্ত ও ভঙ্গুর থাকে। ভিজলে তা আটালো ও নরম হয়ে যায়। 

বিজয়পুরের সাদা মাটি নিয়ে রাসায়নিক বিশ্লেষণে মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে বলছেন, এ মাটিতে সিলিকন অক্রাইড দশমিক ৪ থেকে ৬৮ শতাংশ। টাইটনিয়াম অক্রাইড দশমিক ৪ থেকে ২ শতাংশ। ক্যালসিয়াম অক্রাইড সামান্য থেকে ১ শতাংশ। ম্যাগানেসিয়াম অক্রাইড সামান্য থেকে দশমিক ৮ শতাংশ। পাস্টিসিটি ২০ শতাংশ। এ মাটির আপেকি ঘনত্ব ২.৫৫।  ছোট বড় টিলা-পাহাড় ও সমতল ভূমিজুড়ে প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০০ মিটার প্রস্থ এ খনিজ অঞ্চল।

কেএসটি