• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০১৯, ০৬:৫৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১, ২০১৯, ০৬:৫৫ পিএম

জাবি উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখালেন আন্দোলনকারীরা

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা
জাবি উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখালেন আন্দোলনকারীরা
জাবির উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা  -  ছবি : জাগরণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের পূর্বঘোষিত আল্টিমেটামের শেষ দিনে তাকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১টায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এ সময় কর্মসূচিতে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া এক বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আল্টিমেটামের শেষ দিন ছিল, আমরা আপনাকে যে সময় দিয়েছি তার মধ্যে সসম্মানে পদত্যাগ করেননি। বিগত  বছরে দুর্নীতি আর বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়কে শেষ করে দিয়েছেন। আপনার দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে আজ আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি। পাশাপাশি সরকার কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য যে টাকা এসেছে, সে টাকা নিয়ে আপনি যা শুরু করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান বিক্রি করেছেন, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচালনা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা এই ব্যর্থ, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস ও নিপীড়নকারীদের মদদদাতা উপাচার্যকে আর উপাচার্য হিসেবে দেখতে চাই না।’

পরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আদীব আরিফ বক্তব্যে বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সাথে তিনি অর্থ কেলেঙ্কারিতে লিপ্ত হয়েছেন এবং তার পরিবার সেসব কেলেঙ্কারির সাথে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা বারবার বলেছি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুন কিন্তু তিনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না। আমরা আপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আমলে নিয়ে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছি, আপনি সেটাতেও কর্ণপাত করলেন না। ঘোষিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আপনাকে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করা হবে।’

এ সময় তিনি আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। অন্যথায় আগামী ২ ও ৩ তারিখ সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি। তবে পরীক্ষা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস ও অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা, সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদার, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, অধ্যাপক খবির উদ্দিন প্রমুখ।

এনআই

আরও পড়ুন