• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ১১:২৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৬, ২০১৯, ১১:২৮ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পদোন্নতি জালিয়তির অভিযোগ

জবি প্রতিনিধি 
শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পদোন্নতি জালিয়তির অভিযোগ
অধ্যাপক ড. মনরিুজ্জামানের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মনরিুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও পদোন্নতির জালিয়তির অভিযোগ উঠেছে। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ব্যাংক থেকে বিভাগীয় ল্যাবরেটারী সেমিনার ও বিবিধ হিসাব বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বর্হিভূতভাবে নগদ উত্তোলন করেছেন। যার খরচের খাত এবং ভাউচার কোনোটি দেননি তিনি।

জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর ২০১০ থেকে ১১ নভেম্বর ২০১৩ তারিখ পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যানের দায়িত্ব পালন শেষে পরবর্তী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরামকে বিভাগের টাকা খরচের কোনো হিসাব বুঝিয়ে দেননি। এই নিয়ে বিভাগের ৭৫,৮০,৮১,৯৯,১১৮ একাডেমিক সভায় তাকে খরচের হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু তিনি এই বিষয়ে কোন ধরনের কর্ণপাত করেননি। 
বিভাগের শিক্ষকরা আর্থিক সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে একাডেমিক সভায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সর্বশেষ ১১৮তম সভায় উল্লেখকৃত বিষয়ে আলোচনা করা হলে শিক্ষক মনিরুজ্জামান খরচের হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই নিয়ে বিভাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি আবেদন করা হয়। যার এখনো কোন সমাধান মিলেনি।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানকে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত ছিল পিএইসডি এ্যাওয়ার্ড হওয়ার শর্তে তিনি সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। তিনি পিএইসডি ডিগ্রী প্রাপ্ত হয়েছেন ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রয়ারী। কিন্তু তিনি সহযোগী অধ্যাপক পদে যোগদান করেছেন ২০১২ সালের ৬ই আগস্ট। অথচ সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে প্রায় ৬ মাস আগেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেছেন। যা নিয়মনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। এই ব্যাপারে প্রশাসন এখনো তাকে কোনো ধরনের শাস্তি প্রদান করেননি । 

এসব অনিয়মের কারণে তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে বিভাগের চেয়ারম্যান করা হয়নি। কিন্তু বর্তমানে তিনি চেয়াম্যান হিসাবে দায়িত্বপালন করার অর্ডার পেয়ে গেছেন। উক্ত বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা অভিমত প্রকাশ করে বলেন, তখন যে অপরাধে তিনি চেয়ারম্যান হতে পারেননি তাহলে এখন কীভাবে চেয়ারম্যান হলেন?   

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের বাহিরে গিয়ে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে এ শিক্ষককে পদোন্নতিপত্র দিয়ে দেন। 

এছাড়া অধ্যাপক মনিরুজ্জামান পরিবহন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করার সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিজের প্রয়োজনে বিভিন্ন কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করতেন। উত্তরা একটি সার্ভিস সেন্টার থেকে সুবিধা ভোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গাড়ি মেরামত করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে গেলে অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হননি। সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। 
আইনের বাহিরে পদোন্নতি দেয়ার বিষয়টি জানতে গেলে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামা কে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

টিএফ

আরও পড়ুন