• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২০, ০২:৫৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৫, ২০২০, ০২:৫৬ পিএম

গোলটেবিল আলোচনা

‘ভোটারাধিকার হরণ করবে ইভিএম’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘ভোটারাধিকার হরণ করবে ইভিএম’
বক্তব্য রাখছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না -ছবি : জাগরণ

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার মানা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। তারা মনে করেন, এই যন্ত্রের মাধ্যমে সহজেই ভোট চুরি হয়ে যাবে। তারা প্রশ্ন রাখেন, বিশ্বের বহু দেশে ইভিএম নিষিদ্ধ। তবে কেনো বাংলাদেশে ইভিএম ব্যবহার হবে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনে বিশ্বব্যাপী ইভিএম প্রত্যাখ্যান এবং বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তারা এই মতামত ব্যক্ত করেন।

স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বৈঠকে মতামত ব্যক্ত করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের উপদেষ্টা ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। সভাপতিত্ব করেন কাজী মনিরুজ্জামান।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যন্ত্র তো মানুষ তৈরি করেছে। সেটার নিয়ন্ত্রণ তো মানুষের কাছে। আপনি কোথায় ভোট দিলেন সেটা তো জানতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হলে দিনের ভোট নাকি রাতে হবে না। তো আপনি এর আগে কী করেছেন? যে যন্ত্র ব্যবহার করলে বিতর্ক থাকবে না, মামলার সুযোগ নেই, কোথায় ভোট দিলেন জানার সুযোগ নেই তাহলে এর চেয়ে ভোট চুরির বড় মাধ্যম আর কী হতে পারে?

মান্না বলেন, ইভিএম মানা যাবে না। এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। ৩০ জানুয়ারি ভোট চুরি হলে পরের দিন মাঠে নামতে হবে।

মান্না আরও বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যে ভোট ডাকাতি হলো তখন যদি আমরা মাঠে নামতাম তাহলে তারা সাহস পেতো না। আসুন তখন যেটা পারিনি ২০২০ সালে সেটা করি। কারণ এটা বিএনপি, গণফোরাম বা অন্য কারর লড়াই নয়। যেখান থেকেই নির্দেশ আসুক মাঠে নামতে হবে। এটা আমাদের ভোটাধিকার রক্ষার ও বাঁচা মরার লড়াই।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ইভিএম চাচ্ছে কে? সরকার ও নির্বাচন কমিশন। এর পেছনে কোনও সঠিক উদ্দেশ্য নেই। তারা নির্বাচন সামনে এলেই নতুন নতুন পদ্ধতি নিয়ে আসেন। ২০১৪ সালে গোলমাল লাগিয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখন সিটি নির্বাচনে যদি রাত ৩টা বা ৪টার দিকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।ভোট বানচালের জন্যই তারা ইভিএম ব্যবহার করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শাহদীন মালিক।

তিনি বলেন, এই পদ্ধতি নিয়ে দিন দিন সংশয় বাড়ছে। ফলে এটা ব্যবহার করা হলে ভোটারদের উপস্থিতি খুব কম হবে। প্রতারণা করা সহজ হয়।

শাহদীন মালিক বলেন, ভোটাধিকার হরণ ও ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখতে ইভিএম ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণায় সব ধরনের মানুষের মাঝে গিয়ে ভোট চান। মেয়র প্রার্থীদের কারও অভিজ্ঞতা নেই। তবে তারা সবাই কোটিপতি। সুতরাং আমাদের গণতন্ত্র এখন কোটিপতি গণতন্ত্র। আমরা কোটিপতিদের নিয়ে একটা প্রতারণামূলক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ইভিএম ভোটাধিকার হরণ করবে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ভোটারদের কাছে থাকবে না। তারা ক্ষমতা দখল করতে যত ধরনের পদ্ধতি আছে সব ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল তারা ঠিক করে রেখেছে। এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষায়। তবে আমরা মনে করি এই নতুন বছরের শুরুটা হচ্ছে সরকারের পতনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিয়ে যায় সেখানে ইভিএমে আমাদের ভোট যে চুরি হবে না সেটা কীভাবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়? সাধারণ মানুষ ইভিএমে অভ্যস্ত নয়। 

মূল প্রবন্ধে ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মূলত বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার চরম নৈরাজ্যকর, অব্যবস্থাপনা সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের লাগাতার প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ বা তাদের প্রতি সীমাহীন অনাস্থার কারণে মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নতুন অনুষঙ্গ ইভিএমকে অনেকেই ‘ভেল্কি’ মেশিন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

টিএস/এসএমএম

আরও পড়ুন