• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৩, ০১:০৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৯, ২০২৩, ০১:০৬ এএম

প্রেগন্যান্ট বলার পরেও পানি দেয়নি পুলিশ : মাহি

প্রেগন্যান্ট বলার পরেও পানি দেয়নি পুলিশ : মাহি
ছবি ● সংগৃহীত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশের করা মামলা এবং জমি দখল ও মারধরের দুই মামলাতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

শনিবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মাহি গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর তিনি গাজীপুরে চান্দনা চৌরাস্তার তেলিপাড়ায় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে এ অভিনেত্রী বলেন, গ্রেফতারের পর থেকে পুলিশ নানাভাবে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করেছে। আমি প্রেগন্যান্ট বলার পরেও পানি চাইলে প্রায় একঘণ্টা পানি দেয়নি। তবে কারাগারের ভেতরে জেলারসহ অন্যরা খুব মানবিক ছিলেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে এ চিত্রনায়িকা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিয়ে লাইভ করার বিষয়টি উচিত হয়নি। দেয়ালে পিঠ থেকে যাওয়ার কারণেই এমনটা করেছি।

এসময় তার স্বামীর জমি সংক্রান্ত বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্ল্যা নজরুল ইসলামের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। তবে ফেসবুক লাইভে উল্লেখ করা দেড় কোটি টাকার বিষয়ে তিনি সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমার সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়েছে, রকিব সরকার (মাহির স্বামী) দেশে আসলে তাকে নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করা হবে।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে মাহি বলেন, ‘আমি শুধু একজন ব্যক্তির (গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম) বিরুদ্ধে কথা বলেছি, পুরো পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বলিনি। পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে যাইনি।’

তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান মাহি। সংবাদ সম্মেলনে তার আইনজীবী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে গাজীপুর আদালতে নিয়ে মাহিয়া মাহির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালতের বিচারক রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাহিয়া মাহিকে বেলা দেড়টার দিকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন মাহিকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

লাইভে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ’ নেয়ার অভিযোগ তোলেন এই নায়িকা। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে মাহিয়া মাহি ও তার স্বামী রাকিব সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ। এই মামলায়ই গ্রেফতার করা হয় মাহিকে।

সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ হজ পালনের জন্য গিয়েছিলেন মাহিয়া মাহি ও তার স্বামী রকিব সরকার। কিন্তু মাহি দেশে ফিরলেও ফেরেননি রকিব। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মাহি ও তার স্বামী রকিব সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রোকন মিয়া। এই মামলায় প্রধান আসামি রকিব সরকার এবং দ্বিতীয় আসামি মাহিয়া মাহি।

জাগরণ/বিনোদন/ঢাকাইচলচ্চিত্র/এমএ