• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৪, ১২:২৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৪, ১২:২৪ এএম

‘চকলেট খাব, বাড়ি যাব’

‘চকলেট খাব, বাড়ি যাব’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার অসুস্থ সংগীতকার কবীর সুমনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

মমতাকে পেয়ে সুমনের দুই আবদার। প্রথম আবদার, চকলেট খাবেন। আর দ্বিতীয়, বাড়ি ফিরতে চান। তবে মমতা সুমনকে আরও ১০দিন হাসপাতালে থাকতে বলেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মেডিকেল কলেজে যান তৃণমূলের সাবেক এমপি সুমনকে দেখতে যান দলীয় প্রধান মমতা। মিনিট দশেক ছিলেন সেখানে।

সুমনের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, কেমন আছেন ‘গানওয়ালা’।

মমতা বলেন, আগের চেয়ে ভালো আছেন। কথা বলেছেন। বাড়ি যাব, বাড়ি যাব করছেন। কিন্তু আমি বলেছি, এখন বাড়ি যাওয়া যাবে না। এক বার এমন হয়েছে। আবার যখন-তখন এমন হতে পারে। তাই আমি বললাম, এখনও ১০ দিন থাকতে হবে। সুস্থ হয়ে ফিরবেন।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা জানা, সুমন যেহেতু এখন কথা বলতে পারছেন, তাই অন্য গল্পও হয়েছে। বাংলা খেয়াল নিয়ে কথা বলেছেন সুমন।

মমতা বলেন, ‘সুমনের সঙ্গে যেখানেই দেখা হোক, গান নিয়ে কথা হয়। আজও হয়েছে। খেয়াল নিয়ে কথা হল। ও আমাকে দেখে ‘জয় বাংলা’ বলল, আমিও বললাম।

মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে কবীর সুমন তার কাছে চকোলেট খাওয়ার আবদার করেন। যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী সুমনের সেই আবদার পূরণও করেছেন। তবে গায়কের যেহেতু ডায়াবেটিস আছে, তাই চিকিৎসকেরা চকোলেটটা বাদ দিয়ে বিস্কুটের অংশটা খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

আগের চেয়ে সুমনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অক্সিজেন নির্ভরতাও কমেছে। সারাক্ষণ অক্সিজেন সাপোর্টের দরকার পড়ছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তবেই অক্সিজেন দেওয়া হবে। যদিও গায়কের ফুসফুস এবং হার্টের সমস্যা রয়েছে। তবে সেই সংক্রান্ত উপসর্গগুলি এখন আর ততটা সক্রিয় নয়। উঠে বসতে পারছেন। মাঝেমাঝে হাঁটাচলাও করছেন তিনি।

তবে হাসপাতাল থেকে কবে ছাড়া পাবেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। যেহেতু, হাসপাতালে থাকলে আরও অনেক সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সে কারণে গায়ককে বাড়ি পাঠানো যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছেন চিকিৎসকেরা। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে সুমনের শারীরিক অবস্থার উপর। তিনি শারীরিক ভাবে কেমন থাকেন, সেটা বিশ্লেষণ করেই বাকি সিদ্ধান্ত নেবে মেডিক্যাল বোর্ড।

সোমবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বাংলা আধুনিক গানকে নতুন এক দিশা দেখানো ৭৫ বছর বয়সী কবীর সুমন।

এখন নতুন গানের অ্যালবাম বের না করলেও বাংলা খেয়াল গান নিয়ে মেতে আছেন। যাকে শিল্পী নিজেই বলেছেন তার জীবনের ‘শ্রেষ্ঠ কাজ’। সাড়া জাগানো অ্যালবাম ‘তোমাকে চাই’ ছাড়াও, ‘বসে আঁকো’, ‘ইচ্ছে হল’, ‘গানওয়ালা’, ‘ঘুমাও বাউন্ডুলে, ‘চাইছি তোমার বন্ধুতা’, ‘জাতিস্মর’, ‘পাগলা সানাই’, ‘যাব অচেনায়’, ‘নাগরিক কবিয়াল’, ‘আদাব’সহ আরও কিছু অ্যালবাম সুমন প্রকাশ করেছেন গত তিন দশক ধরে।

শৈশবে বাবা সুধীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং মা উমা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে সংগীতের হাতেখড়ি সুমনের। খেয়ালের তালিম নেন সংগীত শিক্ষক কালীপদ দাসের কাছে। শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নেওয়া সুমন একসময়ে রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক বাংলা গান গাইতেন রেডিওতে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা করা এই শিল্পী জীবনের শুরুর দিকে কাজ করেন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে এবং পরে ভয়েস অব আমেরিকা এবং ডয়চে ভেলেতে। আনন্দবাজার।

জাগরণ/বিদেশিবিনোদন/সঙ্গীত/এসএসকে