শরীয়তপুর-চাঁদপুরের মোহনায় গড়ে উঠেছে মিনি কক্সবাজার

জাগরণ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০১৯, ১০:২৯ এএম শরীয়তপুর-চাঁদপুরের মোহনায় গড়ে উঠেছে মিনি কক্সবাজার

শরীয়তপুর-চাঁদপুর জেলার সীমান্ত ঘেষে গড়ে উঠেছে বালুচরের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। যা ‘মিনি কক্সবাজার’ সমুদ্র সৈকত নামে পরিচিতি লাভ করেছে। আর পর্যটন কেন্দ্রটির মন ভোলানো দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন এখানে জমছে হাজার হাজার মানুষের ভিড়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা বালুচরের দ্বীপটিতে সরকারিভাবে না হলেও বেসরকারিভাবে দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য বসানো হয়েছে কিছু ছাতা আর বেঞ্চ। এছাড়াও তাদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে পাবলিক টয়লেট,দোকানপাটসহ নানাবিধ সুবিধা। সেই সঙ্গে রয়েছে প্রকৃতির দেয়া সবুজ কাঁশবন, নদীর মৃদু স্রোত আর ঢেউ। তবে সামুদ্রিক শামুক, ঝিনুক আর বিলাস বহুল হোটেল না থাকলেও কক্সবাজারের সার্বিক পরিবেশ রয়েছে এখানে।

পর্যটন কেন্দ্রে আগত দর্শনার্থীরা জানান, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, উড়ন্ত পাখির ঝাঁক আর পদ্মা-মেঘনার মিলন মেলা দেখতে ভীর জমাচ্ছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। যারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমনে সুযোগ পান না তারা এখানে এসে সেই স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন অনায়াসে। তাছাড়া এখানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো বড় ঢেউ আর সূর্যাস্তো দেখতে না পারলেও পদ্মানদীর ছোট ঢেউ আর সূর্যাদয় দেখা যায় প্রাণভরে। সরকারিভাবে এই পর্যটন কেন্দ্রটির সম্প্রসারণ এবং সংস্কারের উদ্যোগে নিলে জনসাধারণের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পাবেন।

পর্যটন কেন্দ্রটিতে ঘুড়তে আসা আহমেদ শাকিল, শাহাদাৎ হোসেন ও নাসির খান নামে কয়েকজন পর্যটক জানান, কাজের ব্যস্ততার কারনে পরিবার পরিজন নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘুড়তে যাওয়া হয় না। তাই অল্প সময়ের জন্য ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখানে চলে এসেছি। ভালোই লাগছে। পরিপূর্ণভাবে কক্সবাজারের চাহিদা পূরণ না হলেও কিছুটা আনন্দ পাওয়া যায়। সরকার যদি এ জায়গাটিকে পর্যটনের আওতায় এনে নতুন করে সাজানোর ব্যবস্থা করেন তাহলে দূর-দূরান্ত থেকে আমাদের মতো অনেক পর্যটক আসবেন এ জায়গার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

ভেদেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, পর্যটন কেন্দ্রটি যে এলাকায় রয়েছে তা ভেদরগঞ্জ এলাকায় নয়। সেটি হচ্ছে চাঁদপুর জেলায়। আমি মৎস্য অভিযানের সময় গিয়েছিলাম। এটি পর্যটনের জন্য খুবই ভাল জায়গা। শরীয়তপুরের খুব কাছে। যারা কক্সবাজার যেতে পারবেন না, তারা সেখানে গিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। আমার মতে, পর্যটনের জন্য এই জায়গাটির ব্যাপারে সরকারের গুরুত্ব দেয়া উচিত। আমার জায়গায় হলে আমি ডিসি স্যারকে বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।

কিভাবে যাবেন, শরীয়তপুরের সখিপুর থানার স্টেশন বাজার থেকে ট্রলারযোগে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে যাবেন আপনার কাঙ্খিত পর্যটন কেন্দ্রে। আর চাঁদপুরের বড় স্টেশন থেকে যাতায়াতে প্রয়োজন হয় মাত্র ১৫ মিনিট। সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় নৌকা ছাড়ে।

এসসি/