চতুর্থ দিনের মতো গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

জাগরণ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০১৯, ০২:৫৩ পিএম চতুর্থ দিনের মতো গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা
গাইবান্ধায় টানা চতুর্থ দিন বাস চলাচল বন্ধ -ছবি : জাগরণ

অতিরিক্ত চাঁদা আদায় ও শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বাস মালিকদের দ্বন্দ্বের জেরে টানা তিন দিন ধরে গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার সকল বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বাস মালিকরা। পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাস মালিকদের এমন সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন হজ যাত্রীরা। 

শনিবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে আকস্মিকভাবে এ বাস চলাচর বন্ধ হয়। 

গাইবান্ধায় টানা চতুর্থ দিনের মতো কাউন্টারগুলো বন্ধ -ছবি : জাগরণ

গত শনিবার সকাল থেকে হঠাৎ করে গাইবান্ধা-ঢাকা রুটে ঢাকাগামী দূরপাল্লার দিবা ও রাত্রিকালীন কোচ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিকরা। এ কারণে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও ডিবি রোডের দূরপাল্লার এসআর ট্রাভেলস, আলহামরা পরিবহন, শ্যামলী পরিবহণ, হানিফ পরিবহন, একতা ও অরিন ট্রাভেলসের টিকেট কাউন্টারগুলোও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সারিবদ্ধভাবেই ফেলা রাখা হয়েছে দুরপাল্লার বাসগুলো। ঢাকা থেকেও কোনো বাস গাইবান্ধায় আসেনি। সব কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বাসের চালক, শ্রমিকরা অনেকটা অলস সময় পার করছেন।

এসআর পরিবহনের গাইবান্ধা বাস টার্মিনালের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনদিন ধরে মালিকদের এমন সিদ্ধান্তে কাজ না থাকায় বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে বাসের চালক ও হেলপারসহ শ্রমিকরা প্রতিদিনের হাজিরার টাকা না পাওয়ায় অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের দাবি, এ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার।

এদিকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীরা টার্মিনাল ও শহরের ডিবি রোডের কাউন্টারগুলো বন্ধ পাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর কেউ বাড়ি ফিরছেন আবার কেউ বিকল্প পথে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে সবমিলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

বাস মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, ঢাকাগামী প্রতিটি চেয়ারকোচ বাস থেকে ৩৬০ টাকা করে মালিক সমিতির নামে শ্রমিক ইউনিয়ন আদায় করে আসছিলেন। কিন্তু কিছুদিন ধরে ৩৬০ টাকার পরিবর্তে ৪৪০ টাকা করে আদায় করছেন তারা। অতিরিক্ত চাঁদা আদায়সহ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা নানা কারণে পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ রুটে ঢাকাগামী বাসের স্টাফদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। 

এসব ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাস মালিকরা। দ্রুত সমস্যা সমাধান না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন বাস মালিকরা।

এ বিষয় জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ স ম রুহুল হক নান্নু যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, বাস মালিক, শ্রমিক ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।


একেএস
 

আরও সংবাদ