জলের গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১, ০১:৫৪ পিএম জলের গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য

জলের গ্রাম। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে কাওয়াদীঘি হাওরের পাশে অন্তেহরী গ্রাম। প্রকৃতির অপরূপ রুপে সাজানো নৈসর্গিক এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ি দেখে মনে হবে জলে ভাসছে বাড়িগুলো।

হাওরের স্বচ্ছ জল আর অরণ্যের মাঝে দাঁড়ানো এই গ্রামটি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। ভ্রমণ পিপাসুরা এই স্থানে প্রতিদিন ভিড় করেন। বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই জল থাকে বলে পরিচিতি পেয়েছে জলের গ্রাম নামে। নির্মল প্রকৃতির কারণে গ্রামটি বক-পানকৌড়ি ও দেশি পাখির কলকাকলিতে মুখর। এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের স্বাদ আস্বাদন করতে আসেন ভ্রমণ পিপাসুরা।

কাউয়া দিঘি হাওরকে কেন্দ্র করে অন্তেহরি গ্রামে লোকবসতি গড়ে উঠে প্রায় শতবছর পূর্বে। জেলার রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বড় এই জলাভূমির অবস্থান। হাওরপাড়ের এ গ্রামে বসবাস করেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ। গ্রামটি বৈচিত্র্যপূর্ণ রূপ ধারণ করে, যখন হাওর পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। গ্রামটির বৈশিষ্ট্য বছরের প্রায় অর্ধেকটা সময় পানির ওপর ভেসে থাকে। ইতিমধ্যে এই গ্রামটি ‘সোয়াম ভিলেজ অন্তেহরি’ নামে পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

হাওর পাড়ের নৈসর্গিক গ্রাম অন্তেহরীতে ঘুরেতে আসা ভ্রমনপিপাসু আব্দুর রব জানান, জল আর অরণ্যের মাঝে দাঁড়ানো এই জলারবনে ভেতর নৌকা করে পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়ানো যায়। পুরো গ্রামই পানির ওপর ভাসমান। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ির যাতায়াতের মাধ্যম শুধুই নৌকা। এযেনো একটি বাড়ি একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সবুজ হিজল-করচ-তমাল বনের ছায়া সুশীতল পরশ। হালকা বাতাসে ঢেউ আছড়ে পড়া বিভিন্ন গাছের উপর এবং বাড়ির সীমানায়। পুরো গ্রামের সুনসান নীরবতা ভেঙে পাখিদের কলতান সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

জলের গ্রামে ঘুরতে আসা ফাতেমা জেরিন বলেন, এই গ্রামের নাম অনেক শুনেছি, এই প্রথম আসলাম। এক একটা বাড়ির চারিদিকে পানি, সবুজ গাছগাছালি, পাখিদের ডাক, নির্মল বাতাস, প্রকৃতির এতো বৈচিত্র্য রুপ একসাথে দেখে আনন্দ পেয়েছি। এখানে না আসলে বুঝতাম না প্রকৃতির কি অপরুপ মহিমা এখানে লুকিয়ে আছে।

সরকারি বরাদ্দকৃত ইঞ্জিন নৌকা মাঝি বিশ্বজিৎ দাশ জানান, করোনার কারণে সব বন্ধ থাকা ও হাওরে পানি কম থাকায় মানুষ আসেনি। এখন সব খুলে দেওয়া হয়েছে এবং হাওরে পানি বেড়েছে এজন্য গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিনই পর্যটকরা আসছেন।

পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে আরো সুন্দর করে রাখলে অনেক বেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবেন বলে জানান পরিবেশকর্মী রিপন দে। তিনি বলেন, এই স্থানের প্রতি একধরনের অবহেলাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। দুবছর আগে এখানে প্রচুর শাপলা-শালুক দেখা যেতো, কচুরিপানার স্তুপের কারণে এখন এগুলো নেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য অমর দাশ জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা দিয়ে চারটি আকর্ষণীয় নৌকা এবং একটি ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ২০১৮ সালে অন্তেহরী গ্রামকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করে নামকরণ করা হয় 'জলের গ্রাম অন্তেহরী'।

জাগরণ/এমআর