পাটের চেয়ে খড়িতে লাভবান চাষি

কিশোরগঞ্জ (হোসেনপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১, ১২:৫৯ পিএম পাটের চেয়ে খড়িতে লাভবান চাষি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাট চাষিরা পাটের মূল্য সন্তোষজনক পেলেও পাটখড়ি অধিক দামে বিক্রয় করে অনেকেই লাভবান হচ্ছে। রান্নার জ্বালানি সহ বিভিন্ন কাজে পাটখড়ির চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে পাট খড়ির দাম । ফলে এ অঞ্চলের পাট চাষে বাড়ছে চাষিদের অত্যাধিক আগ্রহ।

প্রতিমণ পাট ভেদে ২৮শ টাকা থেকে ২৯ শ টাকায় বিক্রয় করায় তারা খুশী হলেও এক মণ পাট থেকে প্রাপ্ত পাটখড়ি বিক্রিতে আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছে। পাট ও খড়ি বিক্রয় করলে পাটের মণ  পাঁচ হাজার টাকার ওপর। এতে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় পাট চাষিরা।

হোসেনপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভাসহ তন্মধ্যে চরকাটি হারী, সাহেবের চর,চর হাজিপুর,চর বিশ্বনাথ পুর গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি হিসাবে পাটখড়ির কদর আগের মতই। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া,পানের  বরজে  এই খড়ি ব্যবহার হয়ে থাকে।

চরকাটি হারী গ্রামের পাট চাষি সাইফুল ইসলাম, সাহেবের চর গ্রামের পাট চাষি হেলাল উদ্দিন জানান,পাট ও পাট খড়ির কদর থাকায় পাট চাষ অনেক লাভবান। তাই অন্যান্য ফসলের তুলনায় এবছর অধিক জমিতে  পাট চাষ করেছি।

গত বছর পাটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়াতে হোসেনপুরে পাটের আবাদ দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি করেছে কৃষকরা। উপজেলায় পাট ক্রয় কেন্দ্র না থাকাতে চাষিরা অল্প মূল্যে ফড়িয়াদের নিকট বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলায় দুই হাজার দুইশ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার ক্রয় কেন্দ্র খোলা হলে ন্যায্য মূল্যে কৃষকরা পাট বিক্রয় করতে পারতো। কিন্তু তা না হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরুল কায়েস জানান, উপজেলায় পাটের সুদিন ফিরে আসছে। পাট ও পাট খড়ির কদর থাকায় বাড়ছে চাষিদের পাট চাষের চাহিদা।

জাগরণ/এমআর