সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মুজিবকেল্লা নির্মাণে অনিয়ম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২, ০২:১৮ পিএম সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মুজিবকেল্লা নির্মাণে অনিয়ম

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে উপজেলায় ২ কোটি ৮ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয়ে মুজিবকেল্লা আশ্রায়ন প্রকল্পে নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালি, সিমেন্টসহ নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ঠিকাদার নাজমুল আহসানের বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান সরদার মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন গেলে স্থানীয় বন্ধকাটি গ্রামের একাধিক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্ধকাটি গ্রামের গোয়াল ঘেঁষিয়া নদীর চরে বন্ধকাটি মুজিব কেল্লা কাম আশ্রায়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২কোটি ৮লক্ষ ৩৩ হাজার ৩০২ টাকা এর প্রকল্পটি কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এবং টেন্ডারে ফরিদপুর জেলার খন্দকার শাহীন আহমেদ কাজটি পায়।

পরে কাজটি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেরার বাসিন্দা নাজমুল হাসান কাজটি কিনে নিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রকল্পের কাজটি দেখাশোনার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রকল্প সেক্রেটারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদস্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। 

প্রকল্পের কাজ শুরুতেই নদীর চরে বালি ভরাট থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণের যাবতীয় ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের খোয়া, বালি ব্যবহার করে। ওই সময় কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করলে স্বয়ং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী নিজে যেয়ে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার ভয় দেখিয়ে থানায় জিডি করেন। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করে। 

প্রতিবাদের মুখে ওই প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ ৫-৬ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও ছাদ ঢালাইয়ের জন্য খোয়া বানানোর কাজে ব্যবহৃত ৩-৪ নাম্বার ইট, নিম্নমানের বালি আর সিমেন্ট আনলে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে আটকে যায়। 

মঙ্গলবার এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসীর বক্তব্যের সঙ্গে অতি নিম্নমানের ইট স্তুপ করা দেখতে পাওয়া যায়। 
অন্যদিকে ভরাটকৃত চরের জায়গা ভেঙে নদীতে বিলিন হতে চলেছে। প্রকল্প স্থানে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রাশেদ সরকার নামে এক ব্যক্তিকে পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে কথা বললে ঠিকাদার নাজমুল হাসান ওপেন হার্ট সার্জারি করে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইট নিম্নমানের হওয়ায় ফেরত নিয়ে যেতে বলেছি। বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিম্নমানের কোন ইট বা কোন সামগ্রী দিয়ে কাজ হবে না। অনিয়ম করলে ঠিকাদারী লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বিষয়টি আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি।

উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয় আমি কিছু জানিনা এবং প্রকল্প আমাদের সংশ্লিষ্ট না। তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সাঈদ মেহেদীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জাগরণ/আরকে