মাদকের টাকা না পেয়ে শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে পিতা গ্রেপ্তার

নরসিংদী প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২২, ১২:৫১ পিএম মাদকের টাকা না পেয়ে শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে  পিতা গ্রেপ্তার

নরসিংদীতে সৌদি প্রবাসী স্ত্রী টাকা পাঠাতে দেরি করায় নিজের শিশুকে নির্যাতন করে স্ত্রীর কাছে ভিডিও পাঠিয়ে শিশুকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় পাষন্ডপিতা আলামিন। ছোট্ট দুটি সন্তানের এমন নির্যাতনের ভিডিও দেখে প্রবাসে থাকা মা সাকিনা আক্তার তার এক আত্মীয়ের কাছে পাঠায়। আর সেই থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হতে থাকে। শিশু দুটির পিতা আলামিনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে জেলার রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের শ্রীনিধি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে দুই শিশুসহ বাবাকে আটক করে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। 

শুক্রবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম।

গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। এখানে শিশুর বাবা আল আমিন নির্যাতনের ঘটনার বিষয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে। এসময় দুই শিশু মুন্না (৬) ও মুন্নী (৪) কে নতুন পোশাক প্রদান করেন নরসিংদী পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম।

পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম জানান, প্রবাসী স্ত্রীর টাকা পয়সা নিয়ে আলামিনের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। সে একজন মাদকাসক্ত। আসক্তির ফলেই তার সন্তানদের সাথে এ নির্মম নির্যাতন করে ভিডিও তৈরী করতে পেরেছে। আলামিনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ঘুম থেকে ডেকে তুলে দুই শিশুকে মারধর ও তাদেরকে ফাঁসি দেয়ার হুমকি দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের মারধর করা ওই ব্যক্তি তাদের বাবা মো. আলামিন। তিনি জেলার রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের শ্রীনিধি গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী সাকিনা আক্তার (২৫) সৌদি প্রবাসী।

প্রায় ৭ বছর পূর্বে চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের শ্রীনিধি গ্রামের মোজাম্মেল হকের মেয়ে সাকিনা বেগমের সাথে ভালোবেসে বিয়ে হয় একই গ্রামের আলামিনের। ৭মাস আগে শিশু দুটির মা সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এদিকে আলামিন নিয়মিত গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক সেবন করেন। মাদকের টাকা না পাঠালেই দুই শিশুকে মারধর করে স্ত্রীর কাছে ভিডিও পাঠিয়ে টাকা আদায় করেন তিনি। সম্প্রতি দুই শিশুকে মারধরের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

জাগরণ/আরকে