রানা প্লাজা দুঃসহ স্মৃতির ৯ বছর

সাভার প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২২, ০২:১৩ পিএম রানা প্লাজা দুঃসহ স্মৃতির ৯ বছর

আজকের এইদিনে ধসে পড়েছিল সাভারের রানা প্লাজা। কয়েকটি পোশাক কারখানা নিয়ে গড়ে ওঠা ভবনটিতে ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এক হাজার ১৩৬ জন। আহত হন আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষ। সেই দুঃসহ স্মৃতি মাখা দিনটি নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালন করছেন শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা।

রবিবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিবছরের মত আজও সকাল থেকে ৯ বছর আগে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে নিহত শ্রমিকদের স্বরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদীদে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, আহত ও নিহতের স্বজনসহ সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এসময় শ্রমিক নেতারা বলেন- আমরা কে.টি.এস. স্পেকট্রাম, তাজরীন, স্মার্ট, রানা প্লাজা, আসওয়াদ, টাম্পাকো ও হাসেম ফুডস ট্রাজেডি আর দেখতে চাই না। তবে শ্রমিকের মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হয়নি এখনও। এসব দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হচ্ছে না। আহত শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও মানসিক ট্রমা থেকে মুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও পরিবার ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ আজও পাননি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ইব্রাহিম জাগরণকে বলেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে কারখানা মালিক ও শ্রমিক নিয়োগকারীদের অবজ্ঞা, অবহেলা, উদাসীনতা ও আইন অমান্য করার প্রবণতা লক্ষনীয়। এসবে সরকারের নিয়মিত পরিদর্শন ও আইন বাস্তবায়নে দৃঢ়তার অভাব রয়েছে। এছাড়া শ্রম আইনে অপর্যাপ্ত ক্ষতিপুরণের বিধান  নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর  হাইকোর্ট এর নির্দেশে গঠিত কমিটি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা করার সুপারিশ করলেও বাস্তবায়ন হয়নি। উপরন্ত ২০০৬ সালে শ্রম আইনে নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ ১ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ১৩ বছর পর ২০১৮ সালের শ্রম আইন সংশোধনীতে নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপুরণ ২ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। নয় বছর অতিক্রান্ত হলেও রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা ও বিল্ডিং কোড সংক্রান্ত আইন ভঙ্গের মামলা আজও নিষ্পত্তি হয়নি। আমরা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ২৩ শে এপ্রিল রানা প্লাজা ভবনে ফাটল দেখা দেয়।এখবর শুনে কারখানার সে দিন ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তবে পরের দিন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগদানে না করতে চাইলেও জোরপূর্বক ভয়-ভীতি দেখিয়ে কাজে যোগদানে বাধ্য করা হয়। এরপরে সকালে ৮.৪৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ জেনারেটর চালালে বিকর্ট শব্দে ধসে পড়ে রানা প্লাজার নয় তলা ভবন। এঘটনায় নিহত হন ১ হাজার ১৭৫ শ্রমিক, আহত হন ২ হাজার ৭৬৯ জন।

জাগরণ/আরকে