আ. লীগের প্রার্থী বাছাই ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ

ড. মুসলিমা জাহান প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৪, ০৫:৩২ পিএম আ. লীগের প্রার্থী বাছাই ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ
ছবি : জাগরণ ডেস্ক

যে কোনো বাছাই প্রক্রিয়ার প্রথমে আমরা সংশ্লিষ্ট কাজের ওপর ভিত্তি করে কিছু মাণদন্ড নির্ধারণ করে দিই। শিক্ষাদীক্ষা, অভিজ্ঞতা, এবং সম্পর্কিত কাজের সংশ্লিষ্টতার ওপর ভিত্তি করেই মাণদন্ড নির্ধারণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো যে, প্রার্থী যেন সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য যোগ্য হয় এবং প্রতিষ্ঠান কর্মী বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ উপযোগিতা পেয়ে থাকে।  প্রতিষ্ঠান যাকে কাজে নিয়োগ করবে ব্যক্তি যেন সেই প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক অবদান এবং বাড়তি মর্যাদা বয়ে আনতে পারে। এজন্য অনেক চাকরীর সাক্ষাৎকারে প্রথম প্রশ্ন থাকে যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে- তার পদক্ষেপগুলো ও তা বাস্তবায়নের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা কী হবে।

সব মিলিয়ে একটি নির্ণায়ক প্রতিষ্ঠিত করার পর একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করে তার কর্মী সংগ্রহের কাজ। বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আবেদন সংগ্রহ করা হয়। সবশেষে মাণদন্ড অনুযায়ী বাছাই করে একটি পদের বিপরীতে ৩ থেকে ৫ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়; যাদের প্রতিষ্টান সাক্ষাৎকারের জন্য আহবান করে থাকে। অভিজ্ঞ প্যানেল সেসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে মূলত তাদের চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণবিষয়ক (যেগুলো ইদানিং সফটস্কিল বলে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে) যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এভাবেই একটা প্রতিষ্ঠান কোনো পদের জন্য চূড়ান্ত তালিকা এমনকি অপেক্ষমান তালিকাও তৈরি করে থাকে।

ওপরে যে প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক (রুল-বেজড্)। পাশাপাশি কোথাও সম্পর্কভিত্তিক (রিলেশন-বেজড্), হেড-হান্টিং (টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ) বা মিশ্র পদ্ধতি প্রয়োগ করেও একটি প্রতিষ্ঠান তার কর্মী সংগ্রহের কাজ সম্পাদন করে থাকে। কিছু অনৈতিক পদ্ধতি বা উদ্দেশ্য বাদ দিলে দেখা যায় যে মূলত ব্যক্তির সর্বোচ্চ উপযোগিতা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের চরম সাফল্য নিশ্চিত করাই বাছাই প্রক্রিয়ার কাজ।

এ প্রক্রিয়া কেবল বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়। সরকারী প্রতিষ্ঠানও ঠিক একইভাবে তাদের প্রার্থী বাছাই করে। বাংলাদেশে বিসিএস চাকরীর নিয়োগ প্রক্রিয়া তার চরম উদাহরণ। এখন আসি বিভিন্ন সংগঠনগুলো তাদের সদস্য সংগ্রহে বা নির্বাচনে কী ধরণের পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে থাকে তার আলোচনায়।

কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ওয়েব সাইট খুঁজে তাদের সদস্য সংগ্রহের অনলাইন ফরম পাওয়া গেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদশে জাতীয়তাবাদী পার্টি, ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেস, বিজেপি, আমআদমী পার্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল ও দি রিপাবলিকান।

এর মধ্যে কংগ্রেস ও আমআদমী পার্টি ফরম পূরণের পূর্বে প্রার্থীর বয়স (১৮ বছর) এবং সে যে অন্য দল বা মতের সমর্থক নয় তার অঙ্গীকার নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বিজেপি, দি রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কেবল ‘জয়েন আস’ লিখেই শেষ করেছে যদিও বিজেপির ফরমের পিডিএফ তৎক্ষনাৎ দেখার সুযোগ রয়েছে। শুরুতে সব সংগঠনই কেবল সাধারণ কিছু তথ্য চেয়েছে। যেমন-নাম, ফোন নং, ইমেইল ইত্যাদি। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এরকম কোনো ফরম খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর সাথে একজন ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা জানাতেই হয়। সে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফরম পূরণ করার পর তৎক্ষনাৎ একটি বার্তা পেয়েছে যে তার সাথে পরে যোগাযোগ করা হবে। কয়েক মাস পরে সে ব্যক্তি পার্টি অফিসে গিয়ে কথা বলে জেনেছে যে এভাবে সদস্য হওয়া যাবে না। তাকে কাগজের ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। তবে সেটি সংগ্রহ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে এলাকার ভোটার সেখানকার দলীয় অফিস থেকে। সেই ব্যক্তি স্থানীয় কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেছেন, ফরম বিতরণ সাধারণ সম্পাদকের এখতিয়ারভুক্ত। সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেছেন, সব ফরম বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতিকে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ডের কারোর কাছেই ফরম নেই। তারা বলেছেন, নতুন করে যখন সদস্য নেবার ঘোষণা আসবে তখন যেন সে যোগাযোগ করে। খবরে দেখা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় অফিসে অনেকেই ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। এই প্রক্রিয়া আরও সহজ  হলে অনেক সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক কাজে যুক্ত হতে পারবে। ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রত্যেক কর্মীর ডাটাবেজ করা গেলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে এহেন ডাটাবেজের কাজ শুরুও হয়েছে বলে জানা গেছে। সেটা যেন মানুষের হাতের নাগালে আসে তার ব্যবস্থা জরুরী ভিত্তিতে করা দরকার।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মহানগর, বিভাগীয়, জেলা বা উপজেলাভিত্তিক বিভিন্ন কমিটির যারা সদস্য হন তারা বিভিন্ন নেতার কাছে জীবন-বৃত্তান্ত জমা দেন। সেজন্য কর্মীসভা বা সম্মেলন হয়। নেতারা আসেন। কমিটি গঠন হয়। কিন্তু সে কমিটিতে জায়গা পেতে কী ধরনের যোগ্যতা লাগে সেটা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আবার শামসুল হুদা কমিশনের নীতি অনুযায়ী তেত্রিশ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রাখার বিধানেরও কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না। যে কোনো কমিটিতে কেবল মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদ একজন নারী অলংকৃত করে থাকেন।

এখন মূল কথায় আসি। দ্বাদশ সংসদের সকল সাংসদের বাছাই ও মনোনয়নবিষয়ক প্রক্রিয়া; যা কিনা এই নিবন্ধের উপজীব্য সে আলোচনা করি। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলেন দলটির ৩৩৬২ জন নেতা বা প্রার্থী (প্রথমা আলো, ২৬/১১/২০২৩)। কী যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বা অযোগ্যতা থাকলে প্রার্থী আবেদন করতে পারবে বা পারবে না সে বিষয়ে কোনো দিক-নির্দেশনা কোথাও পাওয়া যায়নি। ফরমের দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা। আপাত দৃষ্টিতে যার টাকা আছে সেই আবেদন করতে পারবে বলে ধরে নেয়া যায়। আবেদন ফরমে প্রার্থীর ফোন নং বা ইমেইল থাকলেও সবাইকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণভবনে আম‌ন্ত্রণ জানানো হয়। কোনো সংক্ষিপ্ত তালিকা বা প্রাথমিক বাছাই ছাড়াই। গণভবনে সবার সম্মুখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভাপতি বক্তব্য দেন। মনোনয়ন না পেলে ডামী প্রার্থী হবার সুযোগের অবতারণা করেন। তার আগেই কয়েক দফায় দলের পার্লামেন্টারী বোর্ডের সভায় দলটি তার প্রার্থী ঠিক করে-কোনো রকম সরাসরি সাক্ষাৎকার ছাড়াই।  সংসদে পলিসি তৈরির কাজে দায়িত্ব পেতে একটা দেশের বিভিন্ন সেক্টরের কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন ক্ষমতা, মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, উপস্থাপণা দক্ষতা, সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধারণা এবং হাল আমলের সফট্ স্কিল কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগই পায় না। যদিও জাতীয় পার্টির এরকম একটা সাক্ষাৎকার টেলিভিশনে দেখেছি আমরা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সেরকম কিছু উদাহরণ দিয়ে জনগণের কাছে তাদের বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে। করলে ভালো হতো। অনেক দেশেই তো হয়। প্রার্থীদের নিয়ে বিতর্কের আয়োজন হয়। ২০২০ সালে পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে এমন একটি লাইভের প্রচার দেখেছি আমরা। সাংসদ হতে বা মনোনয়ন পেতে এমন বিতর্ক বা লাইভ সাক্ষাৎকার যদি প্রচার করা যেত! জনগণ মুঠোফোন মেসেজের মাধ্যমে তাদের ভোট প্রয়োগ করত। তারা নিজেরাও অংশ নিতে পারত প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায়! জাতীয় সংসদে সদস্যগণ যেহেতু জনগণের সামনে তাদের স্থানীয় নানা সমস্যা, উন্নয়ন ও নীতিমালা বিষয়ক  বক্তব্য দেন, প্রশ্নোত্তর পর্বের মুখোমুখি হন সেটি তারা সংসদে যাবার আগেই চর্চা করে যেতে পারেন। দলীয় নীতিমালায় এ ধরনের বিষয় অনর্ভুক্ত করলে ভোটাররা তাদের গ্রহণযোগ্য সেরা  প্রার্থীকে সহজেই খুঁজে পাবে বলে আমার বিশ্বাস। সাধারণ মানুষ তখন তাদের মতামতের মূল্যায়ন হবে এই প্রত্যাশায় আরও ব্যাপকভাবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে অংশ নিবে পরম আগ্রহে।

তবে বর্তমান প্রেক্ষিতে কোন মাণদন্ড অনুসরণ করে সংসদীয় বোর্ড দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের এই কঠিন কাজটি করেছেন তা সাধারণ মানুষ কিছুতেই জানতে পারবে না। তবে তারা বলাবলি করে-টাকা, স্বজনপ্রীতি, পারিবারিক রাজনীতি, লবিং ইত্যকার কারণেই নাকি প্রার্থীরা দলের মনোনয়ন পায়। 

দি ডেইলি স্টার এর মতে ২৯৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক (২৬/১১/২০২৩)। এদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার কারণে কয়েকজন প্রার্থী প্রার্থীতা হারান। এ ধরনের কিছু নির্ণায়ক আবেদন প্রক্রিয়াতেও প্রয়োগ করলে বাছাই প্রক্রিয়ার ঝক্কি অনেক কমে যাবে বলে মনে করেন অনেকে। যা হোক প্রার্থী ঘোষণায় মনোনয়নবঞ্চিত হন ৩০৬৪ জন। কেন তারা মনোনয়ন পাননি তার কারণও তারা কোনোদিন জানতে পারবেন না। প্রযুক্তির এই যুগে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন সংক্ষিপ্ত তালিকা করে সরাসরি না হলেও অনলাইনে সাক্ষাৎকার নেয়। যাদের বাছাই করা হয় তাদের অভিনন্দন জানানো হয়। যাদের বাদ দেয়া হয় তাদেরও বাদ পড়ার কারণ সম্বলিত চিঠি দেয়া হয়। সেটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও সদস্য মনোনয়নে প্রয়োগ করতে পারে। পুরো আবেদন প্রক্রিয়াকেই ডিজিটাল করা সম্ভব। গুলিস্তান এলাকায় চৌষট্টি জেলার লোকের সমবেত হওয়ায় যে জ্যামের সৃষ্টি হয় সেটা থেকেও দেশকে রক্ষা করা যায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  ডিজিটাল আর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে এ ধরনের স্মার্ট পদ্ধতির প্রয়োগ করতে পারে।

সবশেষে আসি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের নারী প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায়। একই পদ্ধতি। এবারে মনোনয়ন প্রত্যাশায় ফরম কিনেছেন ১৫৪৯ জন প্রার্থী (মতান্তরে ১৫৫৩)। আবারও গণভবনে আমন্ত্রণের প্রেস বিজ্ঞপ্তি। তবে এবারে বলা হলো মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের আহবান। সবার উদ্দেশ্যে দলীয় সভাপতি বক্তব্য দিলেন। সাড়ে পনেরশ মানুষের আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার তো সহজ কথা নয় সেটাও বললেন। তাছাড়া দেশ ও দলের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও আত্মত্যাগ, বিভিন্ন সময়ে হামলা, কর্মীদের নির্যাতন ইত্যাদি ছাড়াও নারী জাগরণবিষয়ক অনেক কথা বললেন। মনোনয়ন না পেলেও যেন সবাই যার যার কাজে নিয়োজিত থাকেন, এবার না হলে পরের বার হবে এমন আশ্বাসও দিলেন। শেষে বললেন যে, বিভিন্ন বিভাগের নাম ঘোষণা সাপেক্ষে প্রার্থীরা যেন উঠে দাঁড়ায়। সবশেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ দিলেন। সবার জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল। আর এভাবেই  গণভবনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষ হলো।

সন্ধ্যায় ঘোষণা হলো। ৪৮জন প্রার্থীর মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাছাইয়ের মাণদন্ড কী? অজানা। তবে দলীয় সূত্র অনুযায়ী সংসদীয় নারী আসনে একটা বড় সংখ্যায় মনোনয়ন পান পিতা বা স্বামীর অবদানের কারণে (প্রথম আলো, ২৭/১/২০২৪)। লেখকের সন্তান লেখক, অভিনেতার সন্তান অভিনেতা, নেতার সন্তান নেতা হবে-এই ধারণা থেকেই হয়ত এ প্রথার উৎপত্তি। বিভিন্ন পত্রিকায় বা অনলাইন ভিডিওতে কারা মনোনয়ন পেতে পারেন, কেন পেতে পারেন- তা নিয়েও চলে জল্পনা-কল্পনা। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা পালন বা নির্যাতনের স্বীকার পরিবারের নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন বলেও ধারণা দেয়া হয়। এখানে একটা বিষয় না বললেই নয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি এরকম অনেক পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তারা মাসিক হারে ভাতা-পায়। অনেককে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। খোদ ঢাকায় তাদের জন্য এপার্টমেন্ট বরাদ্দ দিয়েছেন। সেগুলোর সুফলও তারা পাচ্ছেন। কৃতজ্ঞতা হিসেবে তাদের আরও নানারকম কাজেই সম্পৃক্ত করা যায়। তবে সাংসদ হতে হলে তাদের ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে নতুবা এদের অনেকেই লেখা দেখেও পড়তে পারেন না বলে ভাইরাল হয়েছেন বা হবেন। দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ কোটায় (রাষ্ট্রপতি কোটা) মহিলা এসপি (পুলিশ) নিয়োগের কথাও প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেছেন (১৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৪)। যদিও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো মহিলাকে তাঁর পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেননি। হতে পারে ‌‘গ্লাস সিলিং’ই তার কারণ।

প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় চান তার সংসদ সদস্যদের মধ্যে শিক্ষিত, বুদ্ধিদীপ্ত, চৌকস, মেধাবী তরুণ, অভিজ্ঞ ও ঋদ্ধ রাজনীতিবিদ এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অসাধারণ সব ব্যক্তিত্বের সন্নিবেশ হোক। চমক সৃষ্টি করার মতো এমন  অনেকেই তো সংসদে রয়েছেন।  আজ যেমন দুটিই কন্যা-সন্তানের অনেক মাতা-পিতাই ‘হাসিনা-রেহানা‌’র কথা চিন্তা করে নিজের সন্তানদের বড় করে ঠিক তেমনি রাজনীতিবিমুখ ডিজিটাল যুগের এই তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতে ‘রাজনীতিবিদ হবো’ এই স্বপ্ন নিয়ে বড় হোক। সেজন্য তাদের সামনে সেই আদর্শ ব্যক্তিত্ব সংসদে সন্নিবেশিত করার দায়িত্ব যিনি কাঁধে নিয়েছেন। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রীকে বিনীত অনুরোধ জানাবো যে বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও যুগোপযোগী, স্বচ্ছ ও স্মার্ট করুন!

স্মার্ট পার্লামেন্ট, স্মার্ট বাংলাদেশ-এই হোক আমাদের শ্লোগান।

 

লেখক: গবেষক, লেখক ও সমাজকর্মী। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক 

 

 

দ্রষ্টব্যঃ প্রকাশিত নিবন্ধটি লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত এবং এর দায়-​দায়িত্বও লেখকের একান্ত নিজস্ব।