• ঢাকা
  • বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০১৯, ০৩:০৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ৯, ২০১৯, ০৩:৪৫ পিএম

কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানতে র‌্যাবের নজরদারি

হালিম মোহাম্মদ 
কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানতে র‌্যাবের নজরদারি
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক কিশোর অপরাধীরা -ছবি : জাগরণ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় বেড়ে গেছে কিশোর গ্যাং-এর উৎপাত। বিশেষ করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, হাজারীবাগ, বংশাল, তাঁতীবাজার, আগারগাঁও ও উত্তরায় বিভিন্ন নামে একাধিক কিশোর গ্যাং দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রায়শ সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে খুন-খারাবিও হচ্ছে। কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের নিজস্ব কোন্দলের জেরে গ্রুপগুলো নিজেদের মধ্যে যেমন দ্বন্দ্বে লিপ্ত, তেমনি তাদের ভয়ে এলাকাবাসী থাকেন ততস্ত্র। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনের তথ্য, রাজধানীতে অন্তত পাঁচটি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। সে সব গ্যাংয়ের নামও বিচিত্র। কোনোটার নাম ডিসকো বয়েজ, আবার কোনোটার নাম নাইন স্টার ক্লাব, নাইন এমএম, সেভেন এমএম, বিগ বস। পুরান ঢাকার মধ্যে সক্রিয় ডিসকো বয়েজ ও নাইন স্টার।

গ্যাং এর অধিকাংশ সদস্যই স্কুলপড়ুয়া কিশোর। হত্যা, খুনসহ নৃশংস বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় মশগুল থাকে। সেই সঙ্গে দল বেঁধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, নিরীহদের মারধর করে বেড়ায়। তবে এবার উচ্ছনে যাওয়া এই কিশোরদের নৈরাজ্য এবং খুন-খারাবি ঠেকাতে মাঠে নেমেছে র‌্যাব এবং গোয়েন্দা পুলিশ।

এরই মধ্যে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।  আদালতের মাধ্যমে টঙ্গী কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠিয়েও দেয়া হয়েছে তাদের। সংশোধিত হওয়ার পরই তাদের মুক্তির ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান আটক কিশোরদের অভিভাবকরা।   

সম্প্রতি রাজধানী তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে গ্যাং এর সাথে জড়িত ৪৬ কিশোরকে আটক করে র‌্যাব-২। পরে তাদের প্রত্যেককে ৬ মাসের জন্য কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয় র‌্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পুরান ঢাকার বংশাল, তাঁতীবাজার, শাখাঁরীবাজার, লালবাগ, হাজারীবাগ এবং সূত্রাপুরে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ পৃথকভাবে ৫৮ জনকে আটকের পর আদালতে তোলা হয়। তাদেরকেও টঙ্গী সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। 

উত্তরায় হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ ফার্স্ট হিটার বস (এফএইচবি) নামে একটি কিশোর গ্যাং এর ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। বিচারক সংশ্লিষ্ট কিশোরদের টঙ্গী কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাজধানীর জিগাতলা, সাতমসজিদ রোড, আদাবর এবং মিরপুরে অভিযান চালিয়ে ৩৩ জন কিশোরকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদেরকেও সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। 

কিশোর গ্যাং এর মাধ্যমে খুনের ঘটনার পর বুধবার (৭ আগস্ট) রাত ১০ টা থেকে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। তারা সবাই বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য ও মাদকাসক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৬ সদস্যর প্রত্যেককে ৬ মাসের জন্য কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন সারোয়ার আলম।

সম্প্রতি কিশোর গ্যাং এর অন্তকোন্দল ও আধিপত্য বিস্তার ঘিরে রাজধানীতে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তারই ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারির ধারাবাহিকতায় ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- বিশু চন্দ্র শীল, নাঈম মিয়া, ইয়াসিন আরাফাত, আসিফ মাহমুদ, ফরহাদ হোসেন, আলামিন হোসেন, বিজয়, সিফাত, মুন্না, তানভীর, আকাশ, মেরাজুল, হজরত আলী ও রাজিব।

র‌্যাব-১-এর স্কোয়াড কমান্ডার (সিপিসি-২) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সালাউদ্দিন দৈনিক জাগরণকে জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি এসবিবিএল অস্ত্র ও দুটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। 

গত বছরের ৬ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনের ১৩ নম্বর সেক্টরে ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনানকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার মধ্য দিয়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপ অস্তিত্ব জানান দেয়। আদনান তার সমবয়সী ও দু-এক ক্লাস ওপরে পড়া ছাত্রদের হাতে খুন হয়েছিল। তারা নাইন স্টার নামে কিশোর গ্যাং এর সদস্য। 

হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতারকৃত ২২ আসামির মধ্যে ১৫ জন জামিনে বেরিয়ে আসে। জামিনে বেরিয়ে এসে আদনানের বাবা কবীর হোসেনকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য হুমকি দিতে থাকে। তাদের হুমকিতে তিনি এখন উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছেন। শুধু আদনানের পরিবার নয়, এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে অন্যরাও।

আদনান খুন হওয়ার পর উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এক ডজন কিশোর গ্যাং-এর অস্তিত্ব খুঁজে পায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারপরেই শুরু হয় ধর-পাকড়। কিছুদিনের জন্য গ্যাংগুলো আড়ালে চলে গেলেও চলতি বছরের প্রথম দিকে ফেসবুকে আবারও ফিরে আসার ঘোষণা দিয়ে। তাই এবারও তাদের রুখতে মাঠে নেমেছে র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলার বাহিনী গোয়েন্দা শাখা।

এইচএম/টিএফ/এসএমএম

আরও পড়ুন