• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪, ১২:৫০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪, ১২:৫০ এএম

ভাষার মাস

একুশে ফেব্রুয়ারির দিন গণনা শুরু

একুশে  ফেব্রুয়ারির দিন গণনা শুরু
ছবি ● ফাইল ফটো

শুরু হলো মহান ভাষা আন্দোলনের স্মারক ও উত্তাল স্মৃতিমাখা ফেব্রুয়ারি। যে মাস এলেই বাঙালির মনে ভিড় জমায় মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে প্রাণ দেয়া সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ ভাষাশহিদদের নাম।

নতুন প্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পায় গোটা জাতি। 

আজ ১ ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালে এ মাসেই ভাষা আন্দোলন তীব্রতর রূপ ধারণ করেছিল। সেই লড়াই থেকে সঞ্চিত শক্তি পরবর্তীকালে বাঙালিকে প্রেরণা দিয়েছিল একাত্তরে স্বাধিকার আন্দোলনের সূচনা ঘটাতে। একইসঙ্গে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানেরও প্রেরণা ছিল এ ভাষা আন্দোলন। 

যার পথ বেয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তস্নাত যুদ্ধ শেষে পৃথিবীর মানচিত্রে আবির্ভাব ঘটে বাঙালি জাতির প্রথম স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। 
এর আগে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও পাকিস্তান গঠনের পরপরই বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর প্রথম আঘাত আসে। 

পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) এক সমাবেশে ঘোষণা দেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। এরপর ২৪ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে একই ঘোষণা দেন। দুই জায়গাতেই বীর ছাত্র-জনতা তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। 

একই বছরের ২৭ নভেম্বর করাচিতে পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে পাকিস্তান গণপরিষদের কাছে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ও প্রাদেশিক সরকারগুলোর কাজ চালানোর মাধ্যমরূপে মেনে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সেইসঙ্গে গোটা পাকিস্তানে প্রাথমিক শিক্ষায় উর্দুকে এক বছরের জন্য বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তমুদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

দীর্ঘ চার বছর ধরে আন্দোলন চলার পর ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে বাঙালি লেখে এক নতুন ইতিহাস। ওই দিন বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ গেটে ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। শহিদ হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক। তাদের স্মরণে আজ সেই ২১ ফেব্রুয়ারি একটি অভিধা, ধ্বনি ও প্রতীকে পরিণত হয়েছে। 

ভাষার জন্য বাংলার দামাল সন্তানদের আত্মত্যাগ স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিকভাবেও। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। এরপর থেকে এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে দেশে দেশে পালিত হয়।

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন আজ থেকেই শুরু হয়েছে নানা কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারেও রয়েছে বিভিন্ন আয়োজন। আজই উদ্বোধন হবে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা। মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি ছাড়াও আগামী ২১ ফেব্রুয়ারিতে জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে ভাষাশহিদদের।

জাগরণ/জাতীয়/এমএ