• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০১৯, ০৫:২৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৩০, ২০১৯, ০৫:৩০ পিএম

মোদির দ্বিতীয় মেয়াদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অস্তগামী সূর্য

 মো. মোজাহিদুল ইসলাম নয়ন 
মোদির দ্বিতীয় মেয়াদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অস্তগামী সূর্য

প্রথম বারের চেয়ে অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এ সময়ে দলের কাণ্ডারি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী। আর সরকার গঠনের অব্যবহিত পরেই তিনি শুরু করেছেন দলের প্রধান প্রধান এজেন্ডাগুলির বাস্তবায়ন। প্রথম পাঁচ বছরে তাঁর সরকার মূলত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান তৈরি, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের ওপর জোর দিলেও এ মেয়াদে নিশ্চিতভাবেই অগ্রাধিকার পাচ্ছে দলীয় এজেন্ডা।

 ইতিমধ্যে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মিরকে দেয়া বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা তুলে নেয়া, দলের ফ্ল্যাগশিপ এজেন্ডা বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা এবং জাতীয় নাগরিক পুঞ্জি-এনআরসি শুরু করে রাজনীতিতে তাঁর পক্ষ-বিপক্ষ সবাইকে রীতিমতো ভড়কে দিয়েছেন। পলিটিক্যাল ভাষ্যকারগণ অনেকটা অপ্রস্তুত হয়েই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বাধ্য হচ্ছেন কিন্তু এর শেষ কোথায় সে বিষয়েও কোনো উপসংহারে আসতে পারছেন না।

বিজেপি’র দুই মহারথি মোদি-অমিত শাহ জুটি যেভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেভাবে রাজনৈতির নানা অলি-গলি-চোরাপথআর জটিল সমীকরণ মিলিয়ে লাভের ফল দলের ঘরে তুলছেন তাতেএই নেতৃত্বের রসায়ন নিয়ে ভারত ও তার বাইরেও আলোচনা চলছে। মোদি ও অমিত শাহ গুজরাটে একই সময়ে মূখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে নয়া উদার অর্থনৈতিকনীতি গ্রহণ করে রাজ্যবাসীকে দিয়েছিলেন উন্নয়নের বিশেষ স্বাদ। নেতৃত্বগুন এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় রাজ্য রাজনীতিতে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও টানা ষোল বছর ক্ষমতায় থাকার কারনে তাঁরাই যে কেন্দ্রের নেতৃত্বে আসছেন সেটা একরকম অনিবার্যই ছিল।

 যদিও ২০০২ সালে গোধরাকান্ডে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় দুই সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু এবং কয়েক লক্ষ মানুষের ঘরছাড়া হবার নেপথ্য কারিগর হিসেবে মোদি’র পরোক্ষ যুক্ততা কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বে তাঁর আসীন হওয়াকে সাময়িক দোদুল্যমানতায় ফেলেছিল। কিন্তু শেষ বিচারে গুজরাট দাঙ্গা তো ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক পুঁজি ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদ’-এর পালে বরং জোর হাওয়াই লাগিয়েছিল।অপরদিকে, টানা দশবছর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট আমলে বিজেপি বিরোধীদলে থাকায় ঐ উগ্র জাতীয়তাবাদই যে ক্ষমতায় ফেরার মোক্ষম দাওয়াই হবে সেটা বিজেপি নেতৃত্ব ভালো করেই উপলব্ধি করেছিল। আর সে কারনে দল দু’হাত বাড়িয়েই মোদিকে নেতা হিসেবে সামনে আনে।


‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ আর স্বচ্ছ ভারত” ইত্যাদি লোকরঞ্জনবাদী শ্লোগান নিয়ে নির্বিষ মনমোহন সিংয়ের সরকারের বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদী রীতিমত পাগলা হাওয়া ছুটিয়েছিলেন। গান্ধীর অহিংস রাজনীতিক দর্শন, ভারতীয় রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার তাগিদ এবংমোদি সম্পর্কে দেশে-বিদেশে নানা নেতিবাচক প্রচারণা সত্বেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতায় ফেরে বিজেপি। অটল বিহারী বাজপেয়ী পরবর্তী নেতৃত্বের খরায় ভোগা বিজেপি সর্বভারতীয় নেতৃত্বে তাঁর মতো এমন কাউকেই খুঁজছিলেন যিনি ছলে-বলে-কৌশলে দলকে ক্ষমতায় ফেরাবেন। আর সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেয়ায় খুব স্বাভাবিক কারনে নরেন্দ্র মোদি দলের নতুন অবতারে পরিনত হন।

এছাড়া, ব্যক্তিত্বের সহজাত উগ্রতা, গুজরাট উন্নয়ন মডেলের প্রবর্তক, আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে দল পরিচালনা করার খ্যাতি এবং সর্বোপরি পূর্বসূরি উদার বাজপেয়ীর বিপরীত ব্যক্তিত্বের হওয়ায় মোদির উত্থানকে দলের সিংহভাগ সমর্থকই স্বাগত জানায়। সাথে ক্ষুরধার রাজনৈতিক-সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে অমিত শাহ’র যুথবদ্ধতা জুটিটিকে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। 


যে সব নির্বাচনী অঙ্গীকার দিয়ে মোদি প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছিলেন তার বেশীর ভাগ অধরাই থেকে যায়। এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জাতীয় প্রবৃদ্ধির উল্ল¤ফন, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাসহ বড় বড় সব অঙ্গীকর পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মোদি ম্যজিকে অনেকটাই ভাটা পড়ে। এছাড়া ভুল কৃষিনীতির কারনে মহারাষ্ট্রসহ বেশ কিছু রাজ্যে ঋণগ্রস্থ কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা গ্রামীণ জনপদে মোদির জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সেই অজনপ্রিয়তার অনিবার্য ফলও তিনি হাতেনাতে পেয়ে যান। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতা হারায় এবং প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী কংগ্রেস তার অবস্থান শক্তিশালী করে। সোনিয়া গান্ধী পরবর্তী সভাপতি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে হটানোর বিষয়টি তখন সময়ের ব্যাপার বলে ঠাহর হতে থাকে। কিন্তু মোদি-অমিত জুটি সব হিসাব-নিকাশকেই বুড়োআঙ্গুল দেখিয়ে আগের বারের চেয়ে আরও শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় থেকে যায়। 

কিন্তু কী সেই যাদু? যার মোহনসুরে দেশবাসী এতো এতো ব্যর্থতাকে ধর্তব্যে না নিয়ে তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে যোগ্য মনে করলো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন-মোদি ভালো করেই জানেন, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি হলেও রাহুলের প্রোফাইল এখনও প্রধানমন্ত্রী হবার মতো কম্প্রিহেনশিভ নয়, নয় পরীক্ষিতও। জনতার কাছে করা অঙ্গীকারসমূহ পূরণে ব্যর্থ হলেও মোদি আলবৎ নিশ্চিত ছিলেন- জাতীয়তাবাদ, উগ্র হিন্দুত্ববাদ এবং পাকিস্তান বিরোধীতাকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলেসেটাই তাঁকে ক্ষমতায় ফেরাবে।

 সে মতই ছক এঁকে নেমে পড়েন তিনি। আর অনেকটা কাকতাল আর ভাগ্যের সহায়তায় তিনি পেয়ে যান পুলমওয়ালা হত্যাকান্ডের মতো মোক্ষম অস্ত্র। নির্বাচনের মাত্র তিনমাস আগে ঘটা এই সন্ত্রাসী ঘটনায় হিন্দু জাতীয়তাবাদকে জাগিয়ে তোলার সবরকম মাল-মশলা তিনি হাতের মুঠোয় পেয়ে যান। আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ৪৮ জন সেনা জওয়ান নিহত হওয়ায় জনমনে স্পর্শকাতরতা, শোকে মুহ্যমান দেশবাসীর বিক্ষুদ্ধ মন, চিরশত্রু পাকিস্তানে (লোকদেখানো) আক্রমন, পাকিস্তান সীমান্তে সৈন্য প্রেরণ, পাকিস্তানকে চিরতরে শেষ করে দেয়ার হিসেবি বাকযুদ্ধ মোদি’র জনপ্রিয়তার পারদকে তর তর করে বাড়িয়ে দেয়। অপরদিকে পুলমওয়ালাকান্ডে বিরোধী কংগ্রেস এবং অপরাপর রাজনৈতিক দল বৃহত্তর স্বার্থে পাকিস্তান বিরোধীতা করতে বাধ্য হলে কার্যত গোটা দেশ মোদি’র নেতৃত্বে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়ে যায়। পরিশেষে সব জল্পনা-কল্পনাকে পাশে রেখে প্রবল শক্তি নিয়ে মোদী সরকার ক্ষমতায় থেকে যায়। 


সরকার গঠনের সাথে সাথেই বিজেপি নেতৃত্ব এবং মোদি খুব বাস্তবিক কারনেই দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সময়কালে অটল বিহারী বাজপেয়ী’র তিন তিনটি সরকার এবং মোদির প্রথম পাঁচবছর মেয়াদে দলটি দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করতে পারেনি। কিন্তু এবার আর কাল বিলম্ব নয়। সরকার গঠনের মাত্র তিনমাসের মধ্যে রাজ্য হিসেবে জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা হরণ করে ফেলে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে ইতিমধ্যে জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ নামে দুটি পৃথক রাজ্যের কার্যক্রম শুরু হয়েছে যেখানে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি রয়েছে। 

১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় প্রিন্সলি স্টেট কাশ্মির শর্তসাপেক্ষে ভারত ফেডারেশনে যুক্ত হয়। যখন সংবিধানে বিশেষ ধারায় রাজ্য হিসেবে এর মর্যাদা সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। সেই ৩৭০ ধারা বলে জম্মু-কাশ্মিরের পৃথক পতাকা, অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে আইন প্রণনয়নের ক্ষমতা এবং রাজ্যের ভূমি বাইরের কারও ক্রয় করার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়টি যুক্ত হয়। ৩৭০ ধারা বাতিল করা, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থলে রামমন্দির নির্মাণ করার অঙ্গীকার বিজেপির দীর্ঘদিনের। কিন্তু কাশ্মিরের মূলধারার সকল রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দকে গৃহবন্দী করা, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরস্ত্র করা এবং সর্বস্তরের রাজ্যবাসীকে গৃহবন্দী করে যে অমানবিক কায়দায় রাজ্যটির বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা কড়ে নেয়া হলো, যেভাবে রাজ্যকে ভাগ করা এবং বন্দুক দিয়ে মানুষের টুটি চেপে ধরা হলো তা সভ্য দুনিয়ায় বিরল। এই স্বার্থবাদী চালের ফলাফল সংকীর্ণ বিচারে বিজেপি সফলতা হিসেবে দেখলেও ভারতের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাবও অনিবার্য।


বিশেষ কূটনীতিক তৎপরতা, সুসম্মত প্রস্তুতি এবং সর্বাধিক সামারিক উপস্থিতি দিয়ে কাশ্মিরীদের কন্ঠকে কিছু সময়ের জন্য রুদ্ধ করতে সক্ষম হলেও, জরুরি অবস্থা তুলে নিলে সার্বিক পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা এই মুহুর্তে কেউই বলতে পারছে না। এ বিষয়ে সমালোচনা-আলোচনা চালু রেখেই তড়িঘড়ি করে রায় দেয়া হলো -বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ অমিমাংশিতমামলাটির। প্রধান বিচারপতি তরুণ গগৈ কী রায় দেন আর তাতে মুসলিম প্রতিক্রিয়া কেমন হয় সেটি সামাল দিতে নেয়া হয়েছিল নজীরবিহীন নিরাপত্তা। রায় হিন্দুত্ববাদী রামভক্তদের পক্ষে অর্থাৎ বিতর্কিত স্থানে রামমন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়। পাশাপাশি, বাবরি মুসজিদের জন্য অন্যত্র পাঁচ একর জমি দিতে সরকারকে নির্দেশ দেয়ার রায় ঘোষিত হয়। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্ষুব্ধ মুসলিম সেন্টিমেন্টকে আপাত ঠেকিয়ে দিতে পারায় অনেকেই মোদি সরকারের প্রশংসাই করছে। কিন্তু প্রায় কুড়ি কোটির ওপরে মুসলিম জনগণ এ আপাত পরাজয় কীভাবে নেবেন তা বলার সময় এখনও আসেনি।


কিন্তু, প্রচলিত অর্থে বিজেপি’র রাজনৈতিক ফায়দা লোটার ট্রাম্পকার্ড সব একে একে খেলে মোদি কি বার্তা দিচ্ছেন? ধর্মীয় সংবেদনশীলতায় সুরসুরি দেয়ার এ সকল ট্রাম্পকার্ড খেলা হয়ে গেলে আগামী দিনের রাজনীতিতে বিজেপির পুঁজি কী হবে-এ প্রশ্নগুলো এখন সামনে চলে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন-এই সকল ট্রাম্পকার্ড খেলার মধ্যে একঢিলে দু’পাখি মারার কৌশলও নিহিত রয়েছে। দল এতবার ক্ষমতায় গেলেও দলের রাজনৈতিক দর্শন বা এজেন্ডা বাস্তবায়নের তাগিদ সেভাবে অগ্রাধিকার পায়নি। যা দলের কট্টর অংশকে তলে তলে বিক্ষুদ্ধ করে তোলে, বিষয়টি নিয়ে ঘরে-বাইতে ফিঁসফাস শুরু হয়ে যায়।সমর্থকদের সেই অভিমানী সুর অন্যান্যদের কানে না গেলেও মোদির কানে কিন্তু ঠিকই গেছে। আর সে কারনে তাঁর সরকার বিষয়গুলিকে এতো বেশী জোর দিয়ে বাস্তবায়ন করছেন। 

কিন্তু একই সাথে তিনি এও মনে করেন, ৩৭০ ধারা বাতিল, ববরি মসজিদ মামলার রায় হিন্দুদের পক্ষে যাওয়ায় দলের কট্টর অংশের মন আপাতত প্রসন্ন হলেও রাজনীতিতে টিকে থাকার প্রশ্নে  দলটির রাজনীতির পুঁজির নতুন যোগানওঅন্যতম অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি বিবেচনায়, এটা বলা হয়তো অসংগত হবে না যে-জাতীয় নাগরিক পুঞ্জি-এনআরসি-ই হতে যাচ্ছে দলটির আগামীদিনের ক্যাশকাউ বা দুধেল গাই। এনআরসি’র পরীক্ষামূলক ব্যবহার ইতিমধ্যে আসামে সম্পন্ন হয়েছে। যার ফলাফল বিজেপি’র পক্ষে পুরোপুরি না গেলেও এটিই যেআগামীদিনের কার্যকরী রাজনৈতিক অস্ত্র হতে যাচ্ছে সে বিষয়ে দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ ইতিমধ্যে বলেছেন-শুধু আসাম নয়, সারা ভারতে এনআরসি বাস্তবায়িত হবে। আর এটির বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে দলটি বিজেপি সংখ্যালঘিষ্ঠ বাজ্যগুলিতে হিন্দু সেন্টিমেন্টকে স্থায়ীভাবে পাশে পেতে চাইছে।

জাতীয় নাগরিক পুঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে যে সম্ভাব্য কেওয়াজ বা অস্থিরতা তৈরি হবে সেই ঘোলা পানিতেই বিজেপি মাছ শিকার করতে চায়। তারা ভালো করেই জানে কী করিলে কী হয়। তারা জানে এখনও সেদেশের মানুষ যুক্তি দিয়ে সবকিছু বুঝতে চায় না বরং ভোটারদের মানদন্ড এখনও ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট দিয়েই তৈরি হচ্ছে। মোদি বা বিজেপি’র রাজনীতিতে নেতৃত্বের কারিশমা, কট্টরবাদিতা এবং বিরোধীদলকে রাজনীতির মাঠে হামেশাই ঘোল খাওয়ানো গেলেও মানুষের মানবিক মর্যাদা, অধিকার এবং বৈষম্যহীন একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে মোদি-আমিত জুটির ভূমিকা যে বড় হুমকি সেটা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ ইতিমধ্যে বুঝতে শুরু করেছে।

 লেখক : অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন সন্ধানী