• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২, ০১:১৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২, ১২:০২ এএম

সর্বংসহা শেখ হাসিনা

সর্বংসহা শেখ হাসিনা

স্বপ্ন জয়ের সার্থক অভিযাত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আজ ৭৬ তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন শেখ হাসিনা, শুভ জন্মদিন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব এবং যুগান্তকারী উন্নয়ন কার্যক্রম বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একটি দেশ হিসেবে আজ বিশ্বদরবারে আসীন করেছে। সাফল্যগাঁথার এই বিরল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে শুধু অপ্রতিরোধ্যই করেনি, বরং বাংলাদেশের সাফল্যের চিত্রটি গোটা বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। 

১৯৭৫’র ১৫ই আগস্টের বিয়োগান্ত নিষ্ঠুর ঘটনার আবর্তে সর্বশান্ত একটি জাতির মুক্তির কান্ডারি হিসেবে পাষাণে বাঁধা হৃদয়ের রক্তক্ষরণ সহ্য করতে করতেই শেখ হাসিনাকে স্বভূমির দায়িত্ব নিতে হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুকন্যা তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। কিন্তু যখন এই আবেগতাড়িত ব্যক্তিগত পরিচয়ের গণ্ডি অতিক্রম করে তিনি অপরিহার্য হয়ে ওঠেন নেতৃত্বে, শাসনে এবং উন্নয়নের সোপানে, তখন তিনি সমকালকে ছাড়িয়ে মহাকালকে স্পর্শ করেন। পিতা মুজিবের আদর্শের সত্যিকারের উত্তরাধিকার হয়ে আজ তিনি গণমানুষের অন্তরে এবং সর্বাংশে বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রধানতম কর্ণধার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

শেখ হাসিনা তাঁর সময়কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনীতিকই নন শুধু, তিনি গোটা বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর এক প্রতিভাধর রাষ্ট্রনায়ক এখন। পিতার সমগ্র ভাবনাকে অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালনের মতো দুঃসাধ্য কাজের কঠিন গুরুদায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে তিনি অবিচল পরিশ্রমে সজ্জিত করছেন বাংলাদেশকে। পিতার মতোই শেখ হাসিনার কাছে অদ্বিতীয় এক আবেগের নাম বাংলাদেশ এবং বাংলার দুখি মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন। বাংলাদেশের সমস্ত ভাবনাকে এককভাবে বহন করে ছিয়াত্তরে পা রাখা শেখ হাসিনা এখন একজন পোক্ত রাজনীতিবিদ, উদার এবং নির্ভীক জনদরদি প্রধানমন্ত্রী।

আমরা যারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতবাদের সাথে ভিন্নমতে বক্তব্য রাখি, আদর্শগত এবং নীতিগত পার্থক্যের কথা সরাসরি বলতে সংকোচ করি না, তারাও কিন্তু একথা বিশ্বাস করিÑ বাংলাদেশের মানুষের আস্থা এবং সৃজনের সর্বশেষ ভরসাস্থল বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলার খেটেখাওয়া মানুষের কাছে আমাদের ভিন্নমতের কতটুকু মূল্য আছে এই হিসাবটা আমরা কোনোদিন করিনি। তত্ত্বকথা ও নীতিকথা বলে বলে নিজেদের জাহির করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছুনোর সময় এবং দায় কোনোটাই আমাদের হলো না। শত ভিন্নমত থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোনো মানুষ কি আজ অবধি শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন? ভাবুন তো! বরং পীড়িত বা সব হারানো মানুষের কল্যাণে শেখ হাসিনা বারবার ছুটে গেছেন বিস্তীর্ণ গ্রামে, মফস্বলে। 

১৯৭৫’র পনেরো আগস্ট ইতিহাসের কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে তিনি বিনীত, শান্ত ও শীতলভাবেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার রোধ করতে ইনডিমিনিটি নামক কালো-আইন জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্র ক্ষমতায় দীর্ঘকাল অধিষ্ঠিত থাকতে এবং বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে পাকিস্তানি ভাবনার শাসন কায়েমের উদ্দেশ্যে এক সমরনায়কের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে রোধ করা হয়েছিল। পাথর বুকে চেপে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের একুশ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নিয়ে এই কালো-আইন বাতিল করেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রচলিত বিধি-বিধান বা আইনের আলোকেই হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। এসব সম্ভব হয়েছে তাঁর অদম্য সাহস এবং ঐক্রান্তিক ইচ্ছার কারণে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এমন সহিষ্ণু নজির ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিরতিহীন উন্নয়ন এবং সাফল্য আজ গোটা বিশ্বের কাছেই উল্লেখযোগ্য বিষয়। নিজস্ব আয়োজনে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে এবং উন্নয়নমুখী কর্মসুচী প্রনয়ণ করে তা প্রতিপালনে তিনি কতটা নির্ভীক। এছাড়া তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে রাজধানীতে মেট্রোরেল স্থাপনের কাজ, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকাসহ জনবসতিপূর্ণ মহানগরীতে উড়ালপুল নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিদ্যুৎ, সেচ ব্যবস্থা, পানি, নৌ-পথ, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য উৎপাদন, মানবসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি, নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ, মৎস ও প্রাণিসম্পদ বৃদ্ধিকরণসহ সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থায় যে আকাশচুম্বী সফলতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাধিত হয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি সাফল্যময় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করেছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা কমবেশি আমরা সবাই অবগত আছি। মোট জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স আয় বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব আগ্রহে গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহ বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রণোদনা দিয়ে অতিমারির এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রায় সব ক্ষেত্রকে সচল রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মাটিতে নির্যাতিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অস্থায়ী আবাসন ও সেবা দিয়ে মানবিকতার অসাধারণ একটি নজির স্থাপন করেছেন। এছাড়া পার্বত্য শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে তিনি পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশের মানচিত্রে ছিটমহল যোগ হয়েছে তাঁরই সুযোগ্য নেতৃত্বে। এমন অসংখ্য উন্নয়ন ও সাফল্যের বিস্তারিত বিবরণ আমরা সবাই জানি। আমাদের সেই প্রাণপ্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিয়াত্তরতম জন্মবর্ষে উপনীত হলেন আজ, তাঁকে আভূমিত প্রণতি জানাই।

মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় তিনি শতায়ু হোন। করুণাময় আমাদের প্রার্থনাকে নিশ্চয় সজীব রাখবেন। জয় বাংলা।


লেখক: সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক।