• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ১২:২৭ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৬, ২০২২, ০৬:২৭ পিএম

ছাত্রলীগের সম্মেলন: ভুলের আর কোনো সুযোগ নেই

ছাত্রলীগের সম্মেলন: ভুলের আর কোনো সুযোগ নেই

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিই হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূতিকাগার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও বাহক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সব সময়ই তার অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে। দেশ বিভাগের পর যখন মুসলিম লীগ থেকে বের হয়ে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নিজের হাতে যে সংগঠনটি তৈরি করেছিলেন, এটি হচ্ছে সেই ছাত্র সংগঠন। পরবর্তী পর্যায়ে যখন আওয়ামী লীগ গঠিত হয়, তিনি তখন সরাসরি কেন্দ্রীয় মূল সংগঠনের রাজনীতিতে চলে আসেন এবং নিজেকে সরিয়ে নিয়ে নতুন নেতৃত্বকে জায়গা করে দেন। এটাই হচ্ছে ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রে আমাদের ধারাবাহিকতা। এভাবেই একটি আদর্শবাদী ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্যের ভেতর দিয়েই একটা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক  সংগঠনের পথ নির্মিত হয়। কেবল একটি আদর্শিক পরম্পরার মধ্য দিয়েই একটি জাতি সমস্ত বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা ও একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। ছাত্র রাজনীতিই একটি সুশৃঙ্খল জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে। মানুষের মন-মানসিকতা এবং জনগণের সঙ্গে তার আচার-আচরণ, সম্পর্ক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা সবকিছুই নির্ভর করে এই ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। 

এভাবেই আমাদের এখানে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে, এভাবেই ছাত্রলীগ জন্ম ও বিকাশ লাভ করেছে। ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিশ্বাসকে অন্তরে ধারণ করে। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার অঙ্গনই ছিল এই ছাত্র রাজনীতি। সেটার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ ছাত্রলীগের যে সম্মেলন হতে যাচ্ছে, সেই সম্মেলন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে যাবে, সেই পথটি নির্ধারণ করবে। আজ ছাত্রলীগের লাখ লাখ কর্মী যারা আছে, তারা সকলেই এই সম্মেলনের ভেতর দিয়ে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে নিশ্চিত করবে। আজকের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এটাই নির্ণীত হবে যে, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এবং শেখ হাসিনার সাধনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত হবে, নাকি পথটি সম্পূর্ণরূপে ভিন্নভাবে অর্থাৎ স্বাধীনতার বিপক্ষের ধারায় প্রবাহিত হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ কী হবে, তা নির্ভর করছে এই সম্মেলনের ওপর। কাজেই, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেতা নির্বাচন করা প্রয়োজন এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার-বিবেচনা করেই করতে হবে।    

ছাত্রলীগের অগ্রযাত্রার প্রারম্ভে আমরা দেখেছি সংগঠনটির কান্ডারি হয়েছিলেন জাতির পিতা এবং তার পরে তিনি যে পথে পরিচালিত করেছিলেন সেই পথটিই কিন্তু আজকের বাংলাদেশের অস্তিত্বের পথ। এভাবেই ছাত্রলীগ নির্মিত হয়েছে, এভাবেই ছাত্রলীগ মানুষের মন ও ভাবনা, আদর্শ-বিশ্বাস-সততা ও শিক্ষা সবকিছুর সম্মিলনেই সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল। একটা আদর্শের ভিত্তিতে যখন একটা সংগঠন গড়ে ওঠে, তখন তা মানুষের মর্মমূলে পৌঁছে যায় এবং সেই সংগঠন সে মুহূর্তেই সমগ্র রাজনীতির কেন্দ্রটাকে পরিচালিত করে এবং রাজনীতির গতিপ্রবাহকে নেতৃত্ব দেয়।

আজকে ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনটি কেবলমাত্র বক্তৃতার ব্যাপার নয়; কিংবা ব্যক্তির অবস্থান বা কোনো পদের ব্যাপার নয়। এটা হচ্ছে একটি আদর্শের ব্যাপার। এই আদর্শটাকে যদি আজকে নির্ধারণ করা না যায় এবং এই জায়গাটাতে যদি সামান্যতম ভুল হয়ে যায়, তাহলে পথটি ভুল দিকে ধাবিত হবে। অতি সতর্কতার সঙ্গে সংগঠন পরিচালনা; সংগঠনটির গঠনপ্রক্রিয়াটাকে দুর্বলতা মুক্ত করা এবং যা কিছু জটিলতা আছে তা ঝেড়ে ফেলতে হবে।  কারণ, এটাই হচ্ছে প্রকৃষ্ট সময়। এখন পর্যন্ত যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সত্যের সাধক, সততার ধারক, তারা কিন্তু এখনো জাগ্রত এবং তারা এখনো স্বপ্ন দেখেন সংগঠনটিকে ঘিরে। তারাই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, ভাষা আন্দোলন করছেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তারাই বিভিন্ন সময়ে দেশের পথ দেখিয়েছেন। এই পথটি যদি কোনোভাবে বিপন্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশ পথ হারাবে। দেশ ভুল পথে চলে যাবে। আজকের এই সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে তরুণ নেতৃত্বকে অবশ্যই এই জায়গাটাকে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি নেতাকর্মীকে দেশটির জন্মের ইতিহাসকে মনে রাখতে হবে। এই মনে রাখাটা যতদিন আমরা মনের অন্দরে ধারণ ও লালন করতে পারব, বাংলাদেশ ততদিন পথ হারাবে না। বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট পথেই তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সমর্থ হবে। 

জয় বাংলা।

 

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক জাগরণ ও প্রধান সম্পাদক, দৈনিক কালবেলা