• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১
প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৩, ০৮:১১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৭, ২০২৩, ০৮:১১ পিএম

কন্যার চোখে পিতা

কন্যার চোখে পিতা

আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। এই দিনটির প্রতি কোনোদিনই বঙ্গবন্ধুর কোনো আগ্রহ ছিল না। একাত্তরের ১৭ মার্চ দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, ‘আজ আমার দেশের মানুষের কোনো অধিকার নাই। প্রতিদিন আমার দেশের মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। আমার আবার জন্মদিন কী!’

বঙ্গবন্ধু সারা জীবন এ দেশের মানুষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। মানুষের অধিকার ও সুযোগের সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রেখেছেন। এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে তিনি শুধু বাঙালির অবিসংবাদিত নেতাই হয়ে ওঠেননি, তিনি এশিয়া-আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও মুক্তিকামী মানুষের নেতার প্রতীকে পরিণত হন। সত্তরের দশকে কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, ফিলিস্তিনিদের মুক্তিকামী নেতা ইয়াসির আরাফাত, চিলির নির্যাতিত মানুষের নেতা সালভাদর আলেন্দে, ভিয়েতনামের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা হো চি মিন, সোভিয়েত রাশিয়ার নেতা লিউনিদ ব্রেজনেভের সঙ্গে উচ্চারিত হতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম।

বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্থপতি; তার কন্যা শেখ হাসিনা এখন সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এখন বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। তার ভাষ্যে, বাবার দেখানো পথেই চলছেন তিনি। বাবাই তার পথচলার ‘আলোকবর্তিকা’। নিজের লেখা বিভিন্ন নিবন্ধ এবং প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এমনটিই মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এমআইটি প্রেস ডাইরেক্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে আমি শিখেছি কীভাবে বঞ্চিত, সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হয় এবং কীভাবে তাদের জন্য সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতে হয়। তিনি (বঙ্গবন্ধু) স্বপ্ন দেখেছিলেন, আবারও একটি সোনার বাংলা তৈরি করার, যেমনটি আমাদের ভূমি প্রাচীনকালে পরিচিত ছিল। তিনি গণতন্ত্র, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এটি শেষ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক দর্শনে এবং সারা জীবনের আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছিল। আমি সবসময় তার পরামর্শ ও উদাহরণ অনুসরণ করার চেষ্টা করছি।’

ব্যক্তিগত জীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন, সন্তানদেরও তিনি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তোলেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা এক নিবন্ধে বাবার কথা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘তুমি কি চটকদার, দামি শাড়ি-গয়না পরবে? বেশিরভাগ মানুষ আজকাল একবেলা খাবারও খেতে পারে না আর তুমি কি দেখাতে চাও তুমি কতটা ধনী? দয়া করে এগুলো পরিধান করবে না, সাধারণ কিছু পরিধান করবে, যাতে তুমি এ দেশের দরিদ্র মানুষের সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করতে পারো।’

এ দেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু ২০ বছরের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ ও কঠোর সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধুর অগ্রণী ভূমিকা ও নিষ্ঠার ওপর আলোকপাত করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বাধীনতার জন্য শেখ মুজিবের আহ্বান জনগণের হৃদয়ে খুব গভীরভাবে সাড়া জাগিয়েছিল। তাই তারা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছিল।’

বঙ্গবন্ধু তার জীবনের একটি বড় অংশ কারাগারে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং ভাইয়েরা তাদের পিতার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন, কিন্তু কখনোই তার অপার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হননি।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা এক নিবন্ধে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের বাবাকে খুব অনুভব করেছি; তাঁর ঘন ঘন অনুপস্থিতি তাঁর আদর্শবাদের প্রতি আমাদের আনুগত্যকে আরও গভীর করে তুলেছে। তিনি কারাবাসের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন এবং এর কারণ কী ছিল, আমরা তা সম্পূর্ণরূপে অবগত ছিলাম। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অনুরূপ ত্যাগ স্বীকার করা সহজ করে দিয়েছে। আমাদের মা-বাবা আমাদের দেশপ্রেমের মূল্য সম্পর্কে শিখিয়েছিলেন এবং আমরা জনগণের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবিচল অঙ্গীকার উপলব্ধি করেছিলাম। আমরা যাতে পথ না হারাই এবং একটি উজ্জ্বল ও উন্নত ভবিষ্যতের আশা না হারাই তা আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছিলেন।’

 

লেখক : সাংবাদিক