• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৩, ০৬:৫৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ৯, ২০২৩, ০৬:৫৯ পিএম

তার প্রয়াণে অনেকখানি দরিদ্র হয়ে গেলাম

তার প্রয়াণে অনেকখানি দরিদ্র হয়ে গেলাম

আমার একটা দুর্ভাগ্য যে, সমরেশ মজুমদার আমার ওপর একটা অভিমান নিয়েই বোধহয় চলে গেলেন। যখন দৈনিক কালবেলা প্রকাশের ব্যাপারে তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং তার অনুমতি প্রার্থনা করেছিলাম, তিনি আমার প্রস্তাবটি খুব সহজভাবে গ্রহণ করেননি। তার এই না করার পেছনে যে কারণটি ছিল, সেটি এখন বলা যায়।

কালবেলার নতুন করে প্রকাশনার ব্যাপারটি যখন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তখন আমরা কেউ-ই কালবেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। এ পত্রিকার ডিক্লারেশন প্রথমে যিনি নিয়েছিলেন, তার সঙ্গে সমরেশ মজুমদারের হয়তো একটা সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের কারণে তিনি তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছিল কি না আমি জানি না। তবে কালবেলা পত্রিকার ব্যাপারে তার দ্বিধা আমি অনুভব করেছিলাম। এমনকি তাকে যখন কালবেলার জন্যে শুভেচ্ছাবার্তার ব্যাপারে অনুরোধ করলাম, তিনি সেটিও দিতে চাননি। পরে অবশ্য তিনি সম্মত হন এবং তার কাছ থেকে আমরা একটা শুভেচ্ছাবার্তা পাই।

সমরেশ মজুমদার কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন। একবার তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, কথাও হয়েছিল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। আমার দুর্ভাগ্য হলো, কলকাতায় যখন তার বাসভবনে যাই, সে সময় তিনি কলকাতা শহর থেকে অনেক দূরে ছিলেন। যে জন্যে তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারিনি। তবে সমরেশ মজুমদারের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও তার লেখার সঙ্গে আমার যোগাযোগটা বরাবরই ছিল। তার লেখা গর্ভধারিণী, সাতকাহন অথবা কালবেলা সবই আমাদের সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে। তার লেখার সঙ্গে আমরা পরিচিত বলে কালবেলা নামটি যখন গ্রহণ করি, সেই মুহূর্ত থেকে আমি অস্থির হয়ে ছিলাম তার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যে। আমি যখন তার বাড়িতে যাই, আমার সঙ্গে ছিল আমার স্নেহভাজন তাপস কুমার দত্ত। তাপসই আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এইটুকু বলতে পারি যে, তার বাড়িতে যাওয়ার কারণে তার ভেতরের ক্ষোভ অনেকটা প্রশমিত হয়েছিল। আর এ কারণেই আমি তার বাড়িতে গিয়েছিলাম।

সমরেশ মজুমদার তরুণ বয়সে ভারতীয় অকাদেমি পুরস্কার এবং আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন। কালপুরুষ, উত্তরাধিকার-এর মতো তার আরও বেশ কিছু কালজয়ী উপন্যাস রয়েছে। অনেক দিন আমাদের শিল্প-সাহিত্যরসিকরা এগুলোকে নিজেদের স্মৃতিতে রাখবেন। তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে সবচাইতে পাঠকনন্দিত একজন সাহিত্যিক। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার অসুস্থতা সম্পর্কে তাপস দত্তই আমাকে জানিয়েছিল।

এখানে একটা কথা বলে রাখি, আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গন থেকে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অনেক মহিরুহ চলে গেছেন। আবার এই অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের অনেকেই আসছেন হয়তো। কিন্তু এ কথা বলাই যায় যে, সমরেশ মজুমদারের মতো পাঠকনন্দিত একজন সাহিত্যিককে বাংলাসাহিত্য অনেক দিন মিস করবে। তার প্রয়াণ আমাদের সাহিত্যাঙ্গনকে অনেকখানি দরিদ্র করে ফেলল। আমরা জানি না, বাংলাসাহিত্যে এই মাপের একজন সৃষ্টিশীল মানুষ আবার কবে আসবেন এবং কীভাবে পাঠকহৃদয়কে জয় করবেন।

অনন্তলোকে ভালো থাকুন।  

 

প্রধান সম্পাদক, দৈনিক কালবেলা এবং প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক জাগরণ।