• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৩, ০৬:৪৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১৬, ২০২৩, ১২:৪৯ এএম

ওই নৃশংসতা কি ভোলা যায় কখনো

ওই নৃশংসতা কি ভোলা যায় কখনো

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির চূড়ান্ত আঘাত হানার তারিখটি নির্ধারিত হয়েছিল দীর্ঘকালীন ষড়যন্ত্রের ওপর ভর করে। রক্তগঙ্গা বইয়ে একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবহমান বাংলার হাজার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক জীবনাচরণকে বুলেটের আঘাতে ছিন্নভিন্ন করে উল্লাসে উন্মক্ত জল্লাদরা ভেবেছিল—ধর্মের আবরণে তারা আবার ফিরিয়ে আনবে পাকিস্তানকে।

আটচল্লিশ বছর পর আবার সেই সময়ের বেদনাবহ স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে আজ মনে হচ্ছে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবার আমাদের আত্মপরিচয়ের জন্য, আমাদের অস্তিত্ব সগৌরবে ঘোষণা করার প্রয়োজনে যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, তার কতটুকু মর্যাদা দিতে পারলাম আমরা? অকৃতজ্ঞতার যে কলঙ্ক তিলকটি এই জাতির ললাটে লেপ্টে আছে, সেই পঁচাত্তরের পর থেকে, সেই চিহ্ন আমরা পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারব কবে?

আজ আমি আবার বলব সে সময়ের সেই ইতিহাসের কথা। যতটুকু পারি, যতদিন দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে বলেই যাব সেই… ইতিহাসের কলঙ্কময় সময়গুলোর কথা।

বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা ও ধ্বংস করা শুধু নয়, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া, ব্যক্তিগতভাবে তাকে নির্মূল করার অপচেষ্টার অংশ মাত্র। বিভিন্ন সামরিক আদালতের ভেতরে ও বাইরে তাকে বারবার হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে থেকেই। এমনকি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে রাখার সেই সময় তাকে হত্যার প্রস্তুতি ছিল ঘাতকদের। পাকিস্তানের কারাগারেও তার কবর খোঁড়া হয়েছিল। স্বাধীনতার পর তিনি যখন দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন, তখনো তার পেছনে ঘাতকরা আততায়ী লেলিয়ে দিয়েছিল তাকে হত্যা করার জন্য, ’৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ভাষণের সময়ও পাকিস্তানি গুপ্তঘাতক দলের হত্যা-ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এবং গ্রেপ্তার হয় সেই আততায়ীরা। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের এসব ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা সর্বদাই প্রকট ছিল তাকে ঘিরে; কিন্তু ঘাতকরা বারবার ব্যর্থ হয়েছে; তবে থেমে থাকেনি তাদের ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধু প্রতিবার তাদের সব ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করে বেরিয়েও এসেছেন। কারণ তার পেছনে সর্বদাই ছিল কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের আপামর জনতার মধ্যমণি ও সবার আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আর বাঙালির ভালোবাসাই তাকে বারবার ফিরে আসতে সাহায্য করেছে তাদের কাছে। মানুষই যে ছিল তার সব প্রেরণার জায়গা, সব কর্মের লক্ষ্যবস্তু। মানুষের মুক্তিই ছিল তার জীবনের একমাত্র সাধনা ও আদর্শ—একমাত্র রাজনীতি।

বঙ্গবন্ধুও অনুমান করতেন তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্রের ব্যাপার। একবার তিনি বিদেশি এক গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আমি বুঝতে পারি, কোনো এক অদৃশ্য আততায়ীর বুলেট সারাক্ষণ আমাকে তাড়া করে চলেছে। আমরা তার এ বক্তব্যের প্রমাণ পাই ১৫ আগস্টে। ১৫ আগস্টের পরদিনই বাঙালি জাতি এবং সারা বিশ্ব এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের খবরে নির্বাক ও হতবাক হয়ে যায়। কিন্তু তার আগে তাকে সব দিক দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার নীলনকশা আমরা দেখতে পাই সর্বস্তরে। পাক-মার্কিন-সৌদি চক্রান্ত এবং চীনের নীরব সমর্থনে এ দেশের বিপথগামী শক্তিগুলো শুরু করে বিভিন্ন রকমের চক্রান্তের ফাঁদ তৈরির কাজ। বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ক্রমাগত বন্ধু-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের থেকে নিঃসঙ্গ করে দেওয়ার চক্রান্ত তৈরি করা হয়। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্তর্কলহের বীজ বপন করা হয়, সন্ত্রাসী সংগঠন নকশাল এবং সর্বহারা পার্টি, এরকম আরও কিছু পার্টি গজিয়ে ওঠে। চেষ্টা হয় রক্ষীবাহিনীকে নেতৃত্বশূন্য করারও।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাব, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে মার্কিনদের সহযোগিতায় এ দেশের সামরিক-বেসামরিক আমলাদের একাংশ কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করছিল; এ ছাড়াও সিআইএ এবং তাদের এদেশীয় দোসররা বঙ্গবন্ধুর সরকার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে কত যে মিথ্যা গালগল্প ও গুজব ছড়িয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টিতে কীভাবে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে—আজ কারও অজানা নয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে যেন বড় ধরনের কোনো গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি না হয়, এ বিষয়টিকেও তারা নীলনকশায় অন্তর্ভুক্ত করে। বস্তুত বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের এমন নিশ্ছিদ্র জালের বিস্তার ঘটাতে থাকে, যা সাধারণ দৃষ্টির অগোচরেই থেকে যায়। আর এসব ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের অন্যতম কারিগর হিসেবে সর্বদা কাজ করে গেছে ধূর্ত জেনারেল জিয়াউর রহমান। সে ছিল ঠান্ডা মাথার খুনি। সিরিয়াল কিলার। জানা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে গঠিত গোপন প্ল্যানিং সেলের অন্যতম সদস্য ছিল এই জিয়া। ক্ষমতা দখলের পর ১৯৭৭ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত তার গঠিত সামরিক আদালতের নামে প্রহসনের বিচারে ১ হাজার ১৪৩ জন সৈনিক ও অফিসারকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে হত্যা করে এ পাষণ্ড। প্রায় বিনা বিচারেই তাদের ফাঁসিকাষ্ঠে তুলে দেওয়া হয়। এ বিচার প্রসঙ্গে আপাতত নাইবা বললাম।

মার্কিন সিআইএর কার্যক্রম শুধু সাম্রাজ্যবাদী সামরিক হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আরও নানারকম অভিনব উপায়ে বিশ্বের দেশে দেশে, বিশেষভাবে তৃতীয় বিশ্বের প্রান্তিক ও অনুন্নত রাষ্ট্রগুলোর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম রেখেছে, অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার মাধ্যমে হত্যা অথবা ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছে, সেটি শুধু কয়েক বছরের ঘটনা নয়। গত প্রায় সাত দশক ধরে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এমনকি ইউরোপের অনেক দেশেও তাদের বহুবিধ অপকর্ম চলেছে। এদের অপকর্মের তালিকা শেষ হওয়ার নয়। হত্যা, গুপ্তহত্যা, যুদ্ধ ও ষড়যন্ত্র এসবই তাদের অপকর্মের ফিরিস্তি। তাদের স্বার্থের জন্য যেখানে যেটা দরকার, তারা সেখানে সেটাই করে চলেছে।

এই সিআইএর উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্লুপ্রিন্ট এবং গঠিত হয়েছিল প্ল্যানিং সেল। আর এসব ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ—বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িতদের মার্কিন দূতাবাসের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল—আর্চার কেন্ট ব্লাডের লিখিত দলিল থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। ১৯৭৪ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭৫-এর জানুয়ারি মাসে দূতাবাসের মধ্যে দফায় দফায় মিটিং হয়। মার্কিন গোয়েন্দা চক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার সঙ্গে আমেরিকা কীভাবে, কতখানি যুক্ত—তা প্রকাশ করেছেন মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফসুল্টজ তার ‘বাংলাদেশ: দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন’ গ্রন্থে। লিফসুল্টজ বলেছেন, দূতাবাসের এ প্রকাশ্য মিটিং বন্ধ হয়ে গেলেও ঢাকায় সিআইএর স্টেশন চিফ ফিলিপ চেরি তার চ্যানেল ওপেন রাখেন। লিফসুল্টজ নিউইয়র্কের ‘দ্য নেশন’ পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক কাই বার্ডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন সমীক্ষা চালিয়ে তারা এ সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছান যে, বঙ্গবন্ধু হত্যায় আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই ফিলিপ চেরিই ভিয়েতনামের গণহত্যার অন্যতম নায়ক ছিল। তাকে কিসিঞ্জার বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করার জন্য।

ঢাকার সিআইএর স্টেশন চিফ (১৯৭৪-৭৬) ফিলিপ চেরি ভারতীয় সাংবাদিক পরেশ সাহাকে (ঢাকায়) বলেছেন, ঘাতক চক্রের সঙ্গে সিআইএর যোগাযোগটা এত ভালো ছিল যে, অভ্যুত্থানের খবর পেয়ে তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পেরেছিলেন। ফিলিপ স্বীকার করেন যে, তিনি যখন যুক্তরাষ্ট্রে খবর পাঠান, তখনো (ঢাকায়) অভ্যুত্থান চলছিল। অন্যদিকে মার্কিন বিদেশ দপ্তরের জনৈক উচ্চপদস্থ অফিসার জানান, বঙ্গবন্ধুবিরোধী অভ্যুত্থানের সঙ্গে ফিলিপ চেরি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। বিদেশ দপ্তরের ওই অফিসার ও অন্যান্য সূত্র থেকে জানা যায়, ‘মোশতাক চক্রের সঙ্গে এই যোগাযোগ ছিল ১৯৭১ সালে, সেই কলকাতা থেকেই। তৎকালীন মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশ-পাকিস্তানের একটি পৃথক শান্তি চুক্তি সম্পাদনের জন্য মোশতাক চক্রের সঙ্গে আলোচনা করেছিল। ১৯৭১ সালে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্লুপ্রিন্ট তৈরির পর প্ল্যানিং সেল গঠনের জন্য সিআইএ আবার তাদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করে।

ঢাকায় নিযুক্ত সিআইএর স্টেশন চিফ ফিলিপ চেরি অন্য এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ব্যাপারটা তিনি খুব ভালোভাবেই জানতেন; কিন্তু... চেরি তার কথা শেষ করেননি। তা শেষ না করলেও বোঝা যায়, তিনি কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারেননি। সম্ভবত তিনি বলতে চেয়েছিলেন, যা ঘটেছে সে সম্পর্কে সবকিছুই তার আগে থেকেই জানা ছিল; কিন্তু সরকারি গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সেসব কথা বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

যা হোক, বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে যে আন্তর্জাতিক দুষ্টচক্র কাজ করে, তাদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রে তার জন্য এক বিরুদ্ধ পরিবেশ তৈরি করা। আর সে কারণেই তাকে নিয়ে নানারকমের প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচারের আশ্রয়ে তাকে জনবিচ্ছিন্ন করার পাঁয়তারা পরিলক্ষিত হয় সর্বত্র। এ আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীর দলই বাংলাদেশে তাদের ক্রীতদাসদের দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক, সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বাংলার মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রধান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর উদ্দেশ্য ছিল একটাই। বাংলাদেশের পালের হাওয়াকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের তল্পিবাহক করা। দেশকে আবার পাকিস্তানি আদলে ফিরিয়ে নেওয়া; কিন্তু চক্রান্তকারীদের সেই উদ্দেশ্য যে পুরোপুরি সফল হয়নি, সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলার গৌরব ও সমৃদ্ধির পথে চলতে থাকা বাংলাদেশের আজকের চিত্রই তার প্রমাণ।

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে বিধ্বস্ত করা, বাঙালি চেতনাকে বিনষ্ট করা, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বোধকে মূলোৎপাটন করার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের সূচনা করা হয়েছিল এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই। এটি শুধু একটি দিনের ষড়ষন্ত্র নয়, তিল তিল করে যে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছিল, তারই উলঙ্গ প্রকাশ ছিল ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের যেন মুখোশ উন্মোচিত না হয়; উপরন্তু তাদের বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শক্তিশালী ও ক্ষমতায়ন করা—এমন অসংখ্য নজির আমরা দেখেছি ’৭৫-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা অপশক্তিগুলোর হাতে। এভাবেই অন্ধকার গ্রাস করে ফেলে বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্নের দেশমাতৃকাকে; কিন্তু আমরা তো জানি রাত যত ঘন হয়, ধীরে ধীরে ভোরের আগমনী বার্তাও তত নিকটে এসে আবির্ভূত হয় দিনের আলোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে। সেভাবেই এ বাংলায়ও দীর্ঘ অমানিশার ঘোর অন্ধকার কেটে গিয়ে মুক্তির সূর্য ঠিকই উঁকি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মযজ্ঞ ছুটে চলেছে দুরন্তগতিতে। তবে কি ষড়যন্ত্র থেমে গেছে? না, রূপ বদল করেছে মাত্র। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে সামনে রেখে এ বর্ণচোরাদের সঙ্গে নিরন্তর যুদ্ধ করেই সামনের দিকে এগোতে হবে।

 

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক জাগরণ এবং প্রধান সম্পাদক, দৈনিক কালবেলা