• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০১৯, ১২:২০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ৭, ২০১৯, ০৮:৫৬ এএম

রিফাত হত্যাকাণ্ডের নতুন ভিডিও

স্ত্রী মিন্নির ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা, নেতৃত্বে রিফাত ফরাজী

বরিশাল সংবাদদাতা
স্ত্রী মিন্নির ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা, নেতৃত্বে রিফাত ফরাজী

দেশব্যাপী আলোচিত বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ডের আরো একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। আর তাতে উঠে এসেছে এমন কিছু দৃশ্য যা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে এই ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে।

স্ত্রীর সামনে কলেজ ছাত্র রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও’র পরে এবার আরো একটি নতুন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যে ভিডিওতে হত্যার পূর্ব পরিকল্পনা কিলিং মিশনের বিষয়টি উঠে আসে।

যা দেখা যায় এই ভিডিও ক্লিপে

সকাল ১০টা বেজে ৬ মিনিট, এ সময় থেকেই দুই একজন করে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে জড়ো হতে থাকে ০০৭ গ্রুপের সদস্যরা। এর কিছু সময় পরেই কলেজের মূল গেটের ভেতর থেকে কয়েকজন মারতে মারতে বাইরে নিয়ে আসে রিফাতকে। ভিডিওতে দেখা যায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নয়ন বন্ড হলেও কিলিং মিশনে মূল ভূমিকা পালন করে দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী। ঘটনার পূর্ব থেকে তার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী হামলা চালানো হয় রিফাত শরীফের ওপর। আর এ কিলিং মিশনে অংশ নেয় ০০৭ গ্রুপের অন্তত ১৮/২০ জন।

শুধু তাই নয়, ঘটনার শুরুতে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি’র ভূমিকা নিয়েও রহস্য ফুটে ওঠে ওই ভিডিও ক্লিপ দেখার পর। যেখানে রিফাতকে কলেজের সামনে থেকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাবার সময় মিন্নি’র ভূমিকা একজন সাধারণ মানুষের মতই দেখা যায়। তিনি হত্যাকারীদের পেছনে সাঁরিতে ধীর পায়ে হাঁটছিলেন।

নতুন করে ভাইরাল হওয়া সিসি ক্যামেরার ওই ফুটেজে দেখা যায়, রিফাত শরীফ ঘটনার দিন সকাল ১০টায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিতে সাদা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে আসে।

সকাল ১০টা ৩ মিনিটে কিলিং মিশনের মূল ভুমিকা পালন করা বন্ড বাহিনীর অন্যতম প্রধান রিফাত ফরাজী ৬/৭ জনকে নিয়ে কলেজ গেটের বাইরে অপেক্ষা করছে। তাদেরকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা এবং পরিকল্পনা করছে রিফাত ফরাজী। এর দুই থেকে তিন মিনিট পরে আরো ২/৩ জনকে কলেজে পাঠানো হয়।

এর পর ১০টা ৯ মিনিটে ওই তিনজন সহ আরো কয়েকজন কলেজ গেটের উল্টো পাশে অবস্থান নেয়। এর এক মিনিট পরেই গেটের কাছে এসে অপর দুই যুবককে কিছু নির্দেশনা দিয়ে উল্টো দিকে পাঠিয়ে দেয় ঘাতক রিফাত ফরাজী।

১০টা ১২ মিনিটে কলেজ থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করে রিফাত শরীফ। ঠিক তার এক মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ১০টা ১৩ মিনিটে কলেজ গেটে এসে রিফাত শরীফকে বন্ড বাহিনীর সহায়তায় জোর করে ধরে নিয়ে যায় ঘাতক রিফাত ফরাজী।

ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাত শরীফকে ধরে নেয়ার সময় বন্ড বাহিনীর সাথে একেবারে পেছনের সাঁড়িতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। এ সময় কথিত এই সাহসি স্ত্রীর মাঝে স্বামীকে রক্ষা করাতো দূর, সামান্য বাধা সৃষ্টির চেষ্টাও করতে দেখা যায়নি।

এরপর কিছুটা সামনে যেতেই বন্ড বাহিনী রিফাত শরীফকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুসি মারতে শুরু করে। এর মধ্যে থেকে রিফাত ফরাজী ও অপর একজন দৌড়ে গিয়ে তিনটি রামদা নিয়ে এসে। রিফাত ফরাজীর হাতে থাকা দুটি রামদার একটি সে নয়ন বন্ডকে দেয়। আর একটি দিয়ে নিজেই রিফাত শরীফকে কোপাতে শুরু করে। যার এক পর্যায়ে ঘটজনার প্রথম প্রকাশিত ভিডিওর নায়িকা হয়ে ওঠা মিন্নিকে দেখা যায় দৃশ্যে আসতে। ততক্ষণে খুনিদের উপর্যোপুরি রামদার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত রিফাত শরীফ।

ছবি: ধীর পায়ে সেই খুনিদের সঙ্গে সেই কথিত সাহসী স্ত্রী মিন্নি

এর রিফাত শরীফকে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে গুরুতর অবস্থায় ফেলে রেখে ঘাতক নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী সহ বন্ড বাহিনী কলেজ গেটের সামনে থেকে দা উঁচিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। তার ৮ মিনিট পর মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে পৌছে খোঁজ খবর নিতে শুরু করে দু’জন পুলিশ সদস্য।

এদিকে প্রথম ভিডিওতে রিফাতকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত দ্বিতীয় ভিডিও ফুটেজে উঠে আসে হত্যার পরিকল্পনার পূর্ণ মঞ্চায়ন। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নতুন করে প্রশ্ন ওঠতে শুরু করে রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি’র ভূমিকা নিয়ে। এর আগেই বিভিন্ন সময়চ ফেইসবুকে পাওয়া নানা ছবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে মিন্নির ব্যাপারে।

অপরদিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। এর সাথে যারাই জড়িত রয়েছেন এবং যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এসকে

আরও পড়ুন