• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ১, ২০২০, ০৫:৫২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২, ২০২০, ১২:১০ এএম

বরগুনায় দলবেঁধে গৃহবধু ধর্ষণ

চাপে পরে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ মামলা নিলো পুলিশ

বরগুনা প্রতিনিধি
চাপে পরে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ মামলা নিলো পুলিশ
বরগুনার তলতলী থানার সামনে বিচার প্রত্যাশি সেই গৃহবধু- দৈনিক জাগরণ

বরগুনার শুভসন্ধ্যা পর্যটন কেন্দ্রে গহীন জঙ্গলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক গৃহবধূকে দলবেধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। 

ওই ঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেলে এক সপ্তাহ পর শুক্রবার (১ মে) ‘ধর্ষণ মামলা’ না দিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী জানান, গত ২২ এপ্রিল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় তার স্বামী নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় সে ও তার ৭ বছরের কন্যা সন্তানকে। এরপর সে বরগুনার পাথরঘাটায় একটি মাছ ধরা ট্রলারে তালতলীর তেতুলবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় তেতুলবাড়িয়া এলাকার আলমগীর আকনের ছেলে জহিরুল আকনের ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেলে নিশানবাড়িয়া যাবার জন্য যেতে চাইলে তাকে জহিরুল ভিন্নপথে শুভসন্ধ্যা পর্যটন কেন্দ্রের গহীন বনে নিয়ে গাড়ি থামায়। গাড়ি থামানোর কারণ জানতে চাইলে জহিরুল জানায় তার গাড়ির পেট্রোল শেষ, সে ফোন করে একই এলাকার সোহাগ নামে একজনকে পেট্রোল নিয়ে যেতে বলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৪ জন যুবক গিয়ে তার ৭ বছরের মেয়ের গলায় ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৫ জন মিলে ধর্ষণ করে তাকে।

তেতুলবাড়িয়া এলাকার জয়নাল মাঝি, খবির, জলিল, শহিদুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি জানায়, ওই নারী তার মেয়েসহ তেতুলবাড়িয়া আসার পর জহিরুলের ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেলে ওঠার পর পিছু নেয় একই এলাকার সোহাগ, এমাদুল, সাইদুল ও নজরুল। এরপর তারা জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে ওই নারীকে।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, শুভসন্ধ্যা পর্যটন কেন্দ্রে এর আগেও একাধিকবার এই জহিরুল ও সোহাগ তার দলবল নিয়ে ধর্ষণ করেছে পর্যটকদের।

এ ঘটনায় মামলা নেয়ার কথা বলে গত এক সপ্তাহ পার করে স্থানীয়দের চাপে শুক্রবার (১ মে) সকালে ধর্ষণের মামলা না নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নেয় তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই নারী এর আগে আসেনি। সে আজ আসার পরে অভিযোগ নিয়েছে। তবে ধর্ষণের অভিযোগ কেন নেয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে সে জানান, ওই নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেনি।

ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে থানার ওসি তদন্ত মোহাম্মদ ফরিদ, তবে সে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তিনি। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্যাতিত ওই নারীর পাশে অবশ্যই জেলা পুলিশ আছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টাও চালাচ্ছেন তারা।

এনএমএইচ/এসএমএম/এসকে

আরও পড়ুন